বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প- স্টোর বিভাগের আদি-অন্ত

মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন

পটভূমিঃ প্রথম যেদিন গার্মেন্টস নামক কারখানাতে পা রাখি তার আগে এই শিল্প সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিলনা। লোক মুখে শোনা, রঙ্গিলা ফিচার পাতায় কিছু রসালো সংবাদ আর গার্মেন্টসের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বাসে বসে জানালা দিয়ে যেটুকু দেখা যায়, তার সাথে সকাল আর সন্ধ্যায় নারী শ্রমিকের মিছিল এই সবই মিলে যে ধারণাটা মনের কোনায় জমা হয়েছি, তা খুব একটা ভাল বা কাম্য ছিলনা।

আশির দশকে যাত্রা করা এই শিল্পের সাথে পথ চলা শুরু হয় ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে। বেশিরভাগ লোক তখন যেভাবে শুরু করেছিলেন তার কোন ব্যতিক্রম ছিলনা আমার পথচলাটাও। আত্নীয় মানুষ, বিশ্বস্ত, দুই নাম্বারী করার সম্ভাবনা কম তাই স্টোরে বসিয়ে দেয়া হল। শুরু হল অনাকাঙ্খিত পথচলা। জীবনের লক্ষ্য রচনা যতবার লিখেছি ততবারই শিক্ষক হবার বাসনাই লিখেছিলাম। শুরুটাও হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছাই ছিল আমার রিজিক আসবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে নয়।

গার্মেন্টসের উপর ভিত্তি করে যে জাতি আজ মধ্য আয়ের দেশ হবার স্বপ্ন দেখে সেই গার্মেন্টসে আছে অনেক গুলো শাখা বা বিভাগ যার একটি হল স্টোর। অন্যান্য বিভাগ সম্পর্কে লেখালেখি, আলোচনা পর্যালোচনা করার মত গুণী লোকের অভাব না থাকলেও এই বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা, পর্যালোচনা, লেখালেখির বড়ই শূণ্যতা পরিলক্ষিত হয়। আমার চেয়ে অনেক বেশী যোগ্য লোক এই বিভাগে কাজ করে সফল হলেও লেখালেখি কিংবা এই বিভাগের সুখ-দুখ শেয়ার করার লোক যে একেবারেই নগণ্য সে সম্পর্কে সবাই জ্ঞাত। তাই এই অধম, অযোগ্য মাঝে মাঝে কিছু লেখার চেষ্টা করে থাকি, জানিনা তা আদৌ কারো উপকারে আসে কিনা। ব্যাপারটা এমন না যে আমি খুবই ফ্রি আছি তাই লেখালেখি আর কি। আসল কথা হল কেউ একজনকে তো মুযাজ্জিনের ভুমিকা নিতে হবে, না হলে কেউ এগিয়ে আসবেনা।

কেমন ছিল নব্বই দশকে গার্মেন্টসের স্টোর? এই সময়ে যারা গার্মেন্টসে যাতায়াত করতেন তাদের সবারই মনে থাকার কথা। সাধারণত গার্মেন্টসগুলো বেশীরভাগই ছিল বহুতল ভবনে। সিঁড়ি দিয়ে আপনি যখন উপরের দিকে উঠতেন বা কারখানায় ঢুকতেন তখনি আপনাকে স্বাগত জানাত গাদা গাদা কাটুন। কোন রকমে একে বেকে আপানাকে ঢুকতে হত প্রোডাকশন ফ্লোরে। ভিতরে ঢুকেই চমকে যাবার মত অবস্থা। শত শত নারী পুরুষ সারি সারি মেশিনে কাজ করছে। বেশীর ভাগই নারী। স্টোর বিভাগে গিয়ে দেখা গেল একটা রুমকে স্টোর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে যেখানে কোন তাক নেই। আছে একটা মাত্র টেবিল আর কয়েকটা ড্রয়ার। এটা হল এক্সেসরিজ স্টোর। কিছুক্ষণ পড়ে ফেব্রিক্স স্টোরে গিয়ে দেখলাম একই চিত্র। আরেকটা কক্ষ যেটার অবস্থান কাটিং বিভাগের কাছাকাছি। কোন তাক নাই, নাই কোন লাইন চিহ্ন বা পেলেট। ফিনিশ গুডসের জন্যতো কোন স্টোরই দেখিনি। ফিনিশিং বিভাগেই শিপমেন্টের কার্টুন সাজিয়ে রাখা হত। উল্লেখিত চিত্র ছিল বেশিরভাগ কারখানারই। কিছু কারখানা হয়তোবা এর চেয়ে কিছুটা উন্নত ছিল যেখানে কিছু তাক বা সেলফ ছিল।

ট্রিমস কার্ডের নাম শুনেছি আরও অনেক পরে। বিল অব মেটেরিয়ালসের নামতো আরও পরে। ফেব্রিক্সের শেডবেন্ডের আগমনতো আরো আরো পরে। কাটিং বিভাগের চাহিদানুযায়ী কাপড়/ফেব্রিক্স সরবরাহ করা হত। কনজাম্পশনের হিসাব ছিল কোন রকমে। কিন্তু ফেব্রিক্সের কোয়ালিটি পেরামিটার বলতে কিছু ছিল বলে মনে পড়েনা। জি এস এম টলারেন্সে থাকলেই হল। ওভার বুকিং, ওভার কনজাম্পশন ইত্যাদি ছিল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কারণ এগুলো যাচাই করার মত কোন ব্যবস্থাপনা তখন ছিলনা। বেশিরভাগ শিপমেন্ট হত রাতের বেলা। কারণ ঢাকা শহরে দিনের বেলা ট্রাকের উপর বিধিনিষেধ অনেক আগে থেকেই ছিল। বর্ষাকাল ছাড়া অধিকাংশ সময়ে শিপমেন্ট দেয়া হত খোলা ট্রাকে। লেফটওভার ব্যবসা তখনো চালু হয়নি। নিডল সরবরাহ করা হত সরাসরি স্টোর থেকে। ভাংগা নিডল সংরক্ষণ বা নিডল পলিসিও তখন আসেনি। সুইং থ্রেড বা সুতার নির্ধারিত পরিমাণ দিয়ে অর্ডার/স্টাইল শেষ করা যেতনা। প্রায়ই লোকাল মার্কেট থেকে সুতা কিনে অর্ডার পূর্ণ করা হত।

উল্লিখিত কথাগুলো অনেকেই জানেন। এরপরও উল্লেখ করার কারণ হল এই প্রজন্মের কাছে চিত্রটা হয়তো পরিষ্কার নয়। আজকে যেই স্টোরে আমরা কাজ করি তার পূর্বরূপ কি ছিল তা অনেকেই ধারণাও করতে পারবেন না। আর পরের প্রজন্মের কাছেওতো জানাতে হবে পূর্বের অবস্থা। নাহলে উন্নতির সিঁড়িটা কোথা থেকে শুরু হল আর কোথায় শেষ হবে তা ধারণা করতে পারবেনা।

পরিবর্তণের শুরু কিন্তু ধীর লয়েঃ কিছু কিছু ভাল কোম্পানী আধুনিক চিন্তা ধারার সাথে ধীরে ধীরে হলেও পরিচিত হতে শুরু করল। ট্রিমস লিস্ট, সুতা কনজাম্পশন, ফেব্রিক্স শেড এর সাথে সাথে অন্যান্য কাঁচামালের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে পরিবর্তণ শুরু হল। কিন্তু যে পরিবর্তণটা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন ছিল তা হল স্টোর বিভাগের স্থান স্বল্পতার অবসান। যেটা এখনো অধিকাংশ কারখানায় বিদ্যমান। ২০০০ সালের পর থেকে বিশেষ করে ২০০৩/২০০৪ সাল থেকে শুরু হল কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়ন। কমপ্লায়েন্সের বদৌলতে প্রোডাকশন ফ্লোরে যে পরিমাণ উন্নতি হয়েছে তার শতকরা দশভাগও হয়নি এই স্টোর বিভাগে। এখনো কর্মপরিবেশ এবং কর্মঘন্টার কোন হিসাব মিলাতে পারবেন না স্টোর বিভাগে। সামগ্রিকভাবে বলা যায় পিছিয়ে থাকা একটা বিভাগের নামই হল স্টোর বিভাগ।

কেন এই পিছিয়ে থাকাঃ শুধু কি বাংলাদেশে? না এই দক্ষিণ এশিয়াতেই স্টোর বিভাগের চিত্র কম বেশী একই। বিভিন্ন লেখকের অভিজ্ঞতালব্দ বইগুলোতে আমরা তাই অন্তত দেখি। আমার বিভিন্ন লেখাতে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছি যে, এই বিভাগে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যলোক যাচাই করে নিয়োগ দেয়া হতনা। অন্যকোন চাকরী না পাওয়া এলাকার বা মালিকের পরিচিত লোকের অনুরোধ রক্ষার্থে স্টোর বিভাগে চাকরী দেয়া হত এইসব লোকদের। আমি দেখেছি ৫০/৬০ বছর বয়সী লোকও স্টোরে কাজ করতে। সারাদিন লেভেল  আর বাটন গুণত বসে বসে। ভাল ব্যকগ্রাউন্ডের লোক খুব কমই ছিল। যে কজন ছিল তারাও দুর্ঘটনাবশত এর সাথে জড়িয়েছিলেন। ছোটখাট দুর্নীতি ছিল স্টোর বিভাগের একটা বড় অংশের লোকদের নিত্য অভ্যাস। এটা বলতে লজ্জাবোধ করলেও সত্যি তো সত্যিই। কাজ না পারা বা না জানার জন্য খুব কম লোকই চাকরী খুইয়েছেন। বেশিরভাগ লোক চাকরীচ্যুত হয়েছেন এই দুর্নীতির কারনে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হল মালিক কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ নিজেরাই জানতেন না এটা রোধ করার উপায় কি। কারণ, তখন পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট পলিসি বা কর্মপন্থা ছিলনা স্টোরের জন্য। অবশ্য অন্য বিভাগের জন্যেও ছিলনা কিন্তু অন্য বিভাগের তুলনায় স্টোর থাকত কিছুটা অফসাইডে। যেহেতু অন্যান্য বিভাগের লোকদের তুলনায় এই বিভাগের লোকদের যোগ্যতা কম তাই তাদের অন্য কোন চাকরী খোঁজা বা ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করার চেয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে কিভাবে দুই পয়সা কামানো যায় তা নিয়েই থাকত অনেকের সব চিন্তা ভাবনা। তবে খারাপ চিন্তা করার লোকের সংখ্যা কোনভাবেই ভাল লোকের চেয়ে বেশী নয়। এদেরকে আবার অন্য বিভাগের লোকও ব্যবহার করত। আমি দুঃখিত এই সব তুলে ধরার জন্য। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এটাই। ৫/১০ বছর ভালভাবে, মালিকের মন মত কাজ করেও যোগ্য পারিশ্রমিক পেতনা। পদোন্নতিতো স্বপ্নের ব্যাপার। ৫/১০ বছর চাকরী করেও স্টোর কীপার বা স্টোর সহকারীই ছিল সর্বোচ্চ পদবী। শুধু একজন থাকবে স্টোর ইনচার্জ।

ধীর লয়ে হলেও বিশেষ বিবেচনায় পাশ করার মত স্টোরের কিছু কিছু পরিবর্তন সাধিত হয় কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছতে পারেনি। যে কোম্পানী বা যারা এই পরিবর্তন আগে করেছেন তারা এর সুফল পেয়েছেন। যেই বিভাগে হাতে গোনা দু এক জন ম্যানেজার ছিল সেখানে এখন প্রায়ই বড় বড় কোম্পানীতে জেনারেল ম্যানেজার এমনকি পরিচালক পর্যন্ত আছেন। অনেক কোম্পানীতে একাধিক জেনারেল ম্যানেজারকে কাজ করতে দেখা যায়। তবে পদ পদবীতে বড় হলেও প্রাপ্ত সুযোগসুবিধার ক্ষেত্রে কিন্তু সেই পিছিয়ে থাকার বা রাখার প্রবণতা এখনো পরিলক্ষিত হয়।

অভিভাবকহীনতা ছিল এই বিভাগের পিছিয়ে থাকার একটা বড় কারণ যা এখনো বিদ্যমান যা কাঙ্কিত উন্নতির অন্তরায়। “প্রোডাকশন”, “এইচ আর, এডমিন এন্ড কমপ্লায়েন্স”, “একাউন্টস এন্ড ফাইনান্স”, “কমার্শিয়াল”, “মার্কেটিং এন্ড মার্চেন্ডাইজিং”, “ডাইং এন্ড ফিনিশিং”, “নিটিং” সব বিভাগের স্বতন্ত্র টীম ম্যানেজম্যান্ট থাকলেও স্টোর বিভাগ এখনো সাব-বিভাগ হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে যা এই বিভাগকে আরো বেশী পিছিয়ে রাখছে। কখনো একাউন্টস, কখনো এডমিন, কখনো প্রোডাকশন, আবার কখনো বা কমার্শিয়াল বিভাগের তত্তাবধানে এখনো কাজ করছে এই বিভাগটি। অবশ্য অভিভাবক হবার মত বা করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরও যে অভাব আছে তাও সত্য এবং নিখাদ বাস্তব।

সততার মূল্যায়ন না করা বা অবমূল্যায়নঃ  স্টোর বিভাগে কাজ করার বা পাওয়ার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা যেটা এখনো বিবেচনা করা হয় তা হল “সততা”। যেটাকে ইংরেজীতে আমরা “Honesty“ বলে জানি। প্রথম যেদিন ইন্টারভিও দিয়ে পাশ করি মালিক সেদিন বলেছিলেন, মনে রাখবেন, “honesty is the best policy”। হ্যা আমি সেই “সততা’ এর কথা বলছি যেটি এখন মানুষের বিরল গুণে পরিণত প্রায়। সেই সততা ই হল স্টোরের চাকরী পাওয়ার অন্যতম বলা যায় প্রধান মাপকাঠি। অন্যান্য বিভাগের কোন লোকের সততা নিয়ে এতটা চিন্তা করেননা কর্তৃপক্ষ যতটা এই বিভাগের লোকের ক্ষেত্রে করে। তো সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতাটার কি প্রতিদান দেয়া হয় আমাদের এই স্টোরের লোকদের? না, তা দেয়া হয়না। এতে করে ধীরে ধীরে কিছু লোক অসৎ পথের দিকে পা বাড়ায় আর কিছু লোক অলস হয়ে যায়। কারণ তারা ধরেই নিছে যে এখানে প্রাপ্তি বলতে কিছু নেই। শুধু দিয়ে যেতে হবে। বরং কোন কারণে ছোটখাট কিছু ভুল করে ফেললে তখন তাদের পেতে হয় বড় শাস্তি। অর্থাৎ, লঘু পাপে গুরু দন্ড।

ক্যারীয়ার পাথ না থাকাঃ  এই বিভাগে যারা একবার যোগদান করেন তারা (নাটক সিনেমার গ্যাং এর মত আর কোন দিন সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে না পারা) আর কোন বিভাগেই কাজ করার সুযোগ পাননা। অথচ, একজন স্টোর কীপার যত তাড়াতাড়ি মার্চেন্ডাইজিং শিখতে পারবে তত তাড়াতাড়ি আর কোন ফ্রেশার পারার কথা না। অন্তত আমি মনে করি এই ক্ষেত্রে একজন স্টোর অফিসার ইতিমধ্যেই অর্ধেক মার্চেন্ডাইজিং এর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একইভাবে বলতে হয় একজন স্টোর কীপার/অফিসার খুব ভালভাবেই পার্চেজ ডিপার্টমেন্টের কাজ করতে পারবে। তেমনিভাবে একাউন্টস এন্ড কমার্শিয়াল বিভাগেও। প্রোডাকশন ম্যানেজম্যান্টে, প্লানিং এ একইভাবে কাজে লাগানো যেত এই সৎ লোক গুলোকে। কিন্তু খুব কমই এই সুযোগ পান। আর স্টোরের পদোন্নতির কথাতো আগেই বলেছি। তাই কোন ক্যারিয়ার পাথ না থাকায় এই বিভাগের লোকগুলো যেমন আর উন্নতি করার চিন্তা করেনা তেমনি নতুন মেধাবী লোকও এই বিভাগে কাজ করতে চাননা।

আমাদের করণীয়ঃ অনেক বিজ্ঞ লোক আছেন যারা এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দিতে পারবেন। কিন্তু কেন দেবেন সেই প্রশ্ন থেকে যায়। মানব জাতির সহজাত দুর্বলতা হল অন্যকে খাটো করে রেখে মাতব্বরী করা। যেখানে এই মাতব্বরির জন্য দুনিয়ায় কত যুদ্ধ, কত মারামারি, কত রক্ত, কত খুন সেখানে বিনা যুদ্ধে কিছু লোকের উপর মাতব্বরী করে যেতে পারলে ছাড়বে কেন? তাই এই বিভাগের যে বা যিনি প্রধান তাকে থাকতে হয় অন্য বিভাগের একজনের অধীনে। ফলশ্রুতিতে এই স্টোর বিভাগের বিভিন্ন সমস্যাগুলো সঠিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়না। অন্যথায় কোন মালিকই চাইবেননা উনার ফ্যাক্টরীর কোন একটা বিভাগ দুর্বল থাকুক। বিশেষ করে স্টোরের মত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগতো অবশ্যই নয়। তাই মালিক বা এন্টারপ্রেনারদের কাছে যেকোন মূল্যে এই বিভাগের সুবিধা অসুবিধাগুলো তুলে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে যারা অগ্রণী ভূমিকা রাখার তারা না রাখলে আমাদেরকেই অর্থাৎ আমরা যারা এই বিভাগে কাজ করছি তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি আমাদের নিজেদেরকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার প্রমাণ রেখে কাজ করতে হবে যাতে একদিন অবশ্যই সবাই জানতে পারে। একথা সত্যি যে আকাশে চাঁদ উঠলে যেমন কাউকে বলে দিতে হয়না দেখার জন্য নিজ থেকেই সবাই তা দেখে তেমনি এই বিভাগের আকাশের চাঁদ যে মেঘে ঢেকে আছে তাও জানাতে হবে না হলে চাঁদ উঠলেও দেখা যাবেনা। সততা আর বিশ্বস্ততার সাথে এগিয়ে যাবার পাশাপাশি নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক মানের মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যুগ উপযোগী প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর সাহসিকতার সাথে এগিয়ে গেলে সময় অবশ্যই আমাদের হয়ে কথা বলবে। নিজেদেরকে আর সস্তা পণ্য বানাবেন না, হবেন না লতার মত পরনির্ভরশীল, নিজেকে হতে দিবেন না অন্যের উপরে উঠার সিড়ি। সবাইকে সেই যোগ্যতা অর্জনের আহবান জানাচ্ছি আমার এই ক্ষুদ্রে লেখনির মাধ্যমে। সবাইকে আল্লাহ সেই যোগ্যতা অর্জনের তাউফিক দিন। আমীন।

লেখকঃ  ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার-স্টোর, টেক্সইউরোপ (বিডি) লিঃ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*