ভালো ভাষা আর ভালোবাসা!

ইউসুফ আহমেদ শুভ্র

মানব সম্পদ কর্মজীবী হিসেবে প্রতিনিয়তই আমাদের কে নানান চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মানুষকে ভালো রাখার চ্যালেঞ্জ, সম্পদে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার মানুষের কর্মস্থল এই গার্মেন্টস সেক্টরের কর্মীদেরকে একই সুতায় গেঁথে- একই সুরে কথা বলা আর একই লক্ষ্যে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারাটা হচ্ছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ! আর সেই চ্যালেঞ্জ এ জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় বাঁধা হচ্ছে মুখ থেকে নিঃসৃত খারাপ ভাষা!

পাশের অপারেটর খারাপ ভাষায় কথা বলেছে বা সুপারভাইজার খারাপ ভাবে গালি দিয়েছে। প্রতিনিয়তই আমাদেরকে এই ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করতে হয়। সমাধান করার চেষ্টা করি কখনো বুঝিয়ে দিয়ে, কখনো সাবধান করে আবার কখনো বা টার্মিনেট করে! কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় কী?

প্রকৃতার্থে এই সেক্টরের শুরু থেকেই এই ব্যাপারটা চলে আসছিলো। প্রতি ঘন্টা বা দিনের নির্ধারিত টার্গেট দিতে না পারলে অপারেটর কে বকা দিচ্ছে সুপারভাইজার,  সুপারভাইজার কে লাইন ইনচার্জ,  সে খাচ্ছে ম্যানেজার এর বকা,  ম্যানেজার খাচ্ছে মালিকের বকা! যুগ যুগান্তরে এই ধারাটাই লক্ষ মানুষের এই সেক্টরকে আজও সাধারণ মানুষের কাছে তাচ্ছিল্যের বিষয় করে রেখেছে। এখনো আমাদের এই সেক্টরের কর্মজীবীরা নিজেকে “প্রাইভেট জব” বা “বায়িং হাউজ” এ জব করা কর্মজীবী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

যদিও ধীরে হলেও পরিবর্তন আসছে!!

আমার সবচেয়ে প্রিয় গান আমা‌দের জাতীয় সংগীত,  “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”। কী কথা,  কী সুর! মগজে-মন‌নে, শিরায়-শিরায় ছড়িয়ে যায় কথাগু‌লো। চোখ ভিজ‌ে আসে বারবার। দীপ্ত ক‌ণ্ঠে বারবার বলতে ইচ্ছে ক‌রে ভা‌লোবা‌সি বাংলা‌দেশ।

আমাদের সেক্টরের অনেক গার্মেন্টসে দিনের শুরুটা হয় এই সংগীতের মধ্য দিয়ে। রাস্তা ঝাড়ু দিতে থাকা কর্মীটা তার হাতের ঝাড়ু নিচে রেখে দাঁড়িয়ে গাইছে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক দাঁড়িয়ে গাইছে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”। কী এক অপরূপ সৌন্দর্য আর অপার্থিব ভালোবাসাময়তায় শুরু হয় আমাদের দিন!

আমি জানি না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে আর অন্য কোন সেক্টরের দিনের শুরুটা আমাদের এই গর্বের ধন জাতীয় সংগীত দিয়ে আরম্ভ হয় কী না!
যে সেক্টরের কর্মজীবীদের দিনের শুরুটা হয় জাতীয় সংগীত দিয়ে সে সেক্টর শুধু খারাপ ভাষা ব্যবহারের জন্য সাধারনের কাছে অচ্ছুৎ হয়ে থাকুক তা আমরা চাই না। এই সেক্টরে হাজার হাজার প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের আগমন ঘটুক,  মানবিক বিপ্লব আসুক এখানে। মানব সম্পদ পেশাজীবী হিসেবে আমরা চাই, মার্জিত ভাষা ব্যবহারে প্রাণবন্ত থাকুক আমাদের প্রিয় গার্মেন্টস সেক্টর। ভালো ভাষা আর ভালোবাসায় ভালো থাকুক সবাই।

লেখকঃ মানবসম্পদ পেশাজীবী

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*