চাকুরি পেতে শুধু ভাল রেজাল্টই যথেষ্ট নয়!

এস এম আহ্‌বাবুর রহমান

আজকাল প্রায়শই ফ্রেশ গ্রেজুয়েটসদের বলতে শোনা যায় যে আমরা পাস করে বসে আছি চাকুরী পাচ্ছি না। কিন্তু আমরা যারা মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনা পেশায় আছি আমরা কিন্তু চাকুরী দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক পাচ্ছি না । বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কিংবা অনলাইন জব পোর্টালে প্রচুর চাকুরীর বিজ্ঞাপন দেখা যায় তারপর ও চাকুরী না পাওয়ার অভিযোগ শুনতে হয়। তবে এ অভিযোগ যে একেবারে অমূলক তাও বলা যাবে না। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?

প্রথমত, অনেকেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সে অনুযায়ী,  সেই বিষয় এ স্নাতক পর্যায়ে পড়ালেখা শুরু করতে পারছে না, যে বিষয়ে চান্স পাচ্ছে সে বিষয়েই ভর্তি হয়ে যাচ্ছে এবং পাস করে বের হওয়ার পর চাকুরীর অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপলব্ধি করে যে স্নাতক পর্যায়ে বিষয় নির্বাচন সঠিক ছিল না।

দ্বিতীয়ত, অনেকে ছাত্রজীবনে শুধু লেখা পড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, অন্য কোন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকেন না। মনে রাখতে হবে শুধু ভাল ছাত্র বা ভাল জিপিএ থাকলেই চাকুরী পাওয়া যাবে এমন কোন কথা নেই, পাশাপাশি অন্যান্য গুণাবলী থাকা চাই। গবেষনায় দেখা গেছে, ছাত্রজীবনে যারা পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন; বিতর্ক, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখা, খেলাধুলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব/ সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন এবং যারা টিভি চ্যানেল বা এফএম রেডিও এর খন্ডকালীন সংবাদ পাঠক, সংবাদ পত্রের ক্যাম্পাস রিপোর্টার, বড় বড় ক্যাফে/ রেস্টুরেন্ট এর খন্ডকালীন বিক্রয় সহকারী হিসাবে কাজ করেন তাদের মধ্যে স্মার্টনেস, আত্ববিশ্বাস, লিডারশিপ, ইন্টারপার্সোনাল কমিউনিকেশন স্কিলস, টিমওয়ার্ক ইত্যাদি গুণাবলী গড়ে উঠে যা চাকুরী লাভের জন্য অত্যন্ত জরুরী  এবং তারা পেশাগত জীবনে অন্যদের চেয়ে অনেক ভাল করেন।

বর্তমান যুগ হচ্ছে নেটওয়ার্কিং এর যুগ, যার স্যোসাল নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ তিনি পেশাগত জীবনে ভাল করছেন। আপনারা যারা যে ফিল্ড এ ক্যারিয়ার গড়তে চান সে ফিল্ডের ফোরাম, সংগঠন বা কমিউনিটির সাথে যুক্ত হতে পারেন। যেমন কেউ এইচআর ফিল্ড এ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে এইচআর এর বিভিন্ন ফোরাম বা সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। তেমনি ভাবে মার্কেটিং,  ব্র্যান্ড,  সাপ্লাইচেইন যেই ফিল্ডে যেতে চান সেই ফিল্ড এর সংশ্লিষ্ট ফোরামের সাথে যুক্ত হতে পারেন, তাদের বিভিন্ন স্বেছাসেবক মূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং তাদের বিভিন্ন ট্রেনিং, সেমিনারে অংশগ্রহণ করে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান লাভ এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারেন অন্যদিকে ঐ কমিউনিটির পেশাজীবীদের সাথে একটা সখ্যতা গড়ে তুলতে পারেন যা আপনাকে পেশাগত জীবনে অনেক ভাবে সহায়তা করবে, এমনকি তারা আপনাকে চাকুরী পেতেও সাহায্য করবে।

এছাড়া নিয়মিত জবফেয়ার, ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট এ অংশ নিতে হবে। অনলাইন জব পোর্টাল এবং লিংকন্ডইন এ সিভি আপলোড করতে হবে। মনে রাখতে হবে ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্ভুল, তথ্যনির্ভর এবং আকর্ষনীয় সিভি। তাই সময় নিয়ে সিভি তৈরী করতে হবে, প্রয়োজনে প্রফেশনাল সিভি রাইটার এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে অথবা সিভি রাইটিং এর উপর প্রশিক্ষন নেয়া যেতে পারে।পাশাপাশি আপনি যে বিষয়ে দূর্বল মনে করেন সে বিষয়ে যেমন; কমিউনিকেশন স্কিলস অথবা কম্পিউটার (এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট) ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষন নিতে পারেন। ইন্টারভিউতে ডাক পেলে অবশ্যই যথাযথভাবে প্রস্ততি নিয়ে যাবেন।

যদি কেউ ছাত্রজীবন থেকেই পরিকল্পনা করে সে অনুয়ায়ী অগ্রসর হয় সাফল্য তার কাছে ধরা দিতে বাধ্য।

লেখকঃ  হেড অব এইচ আর, ডরিন পাওয়ার এবং লিড কনসালটেন্ট, এইচ আর স্পিকস বাংলাদেশ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*