বহুমাত্রিকতা

অধ্যক্ষ নূরে এ. খান : অনেক কিছুই লেখার আছে, কিন্তু আগ্রহ পাইনা। সাধারণত মানুষ ৩৫ এর পরে নিজেকে তেমন পরির্বতন করতে চায় না বা পারে না। লেখা যাদের জন্য তাদের যেহেতু পরির্বতন হয় না তাই লিখতে বসেও উঠে যাই, কি হবে লিখে। অনেকের অনুরোধে আজ আবার লিখতে বসতে বাধ্য হলাম। শুরুতেই বলি এক শুন্যের পাশে শতশূন্য বসালেও মান যেমন শূন্যই থাকে তেমনি পরিশ্রমের পর পরিশ্রম করে গেলেও ফলাফল আসবে না যতক্ষন না তাতে মেধার সংমিশ্রন থাকবে। আমাদের দেশে চার প্রকার কর্মী বাহিনী রয়েছে, ১) কাজ করতে পারে ২) কাজ করাতে  পারে ৩) রিপোর্ট করতে পারে এবং ৪) কাজ করতে পারে, করাতে পারে এবং স্মাটলি রিপোর্টও করতে পারে।

সোজাসুজি যদি জানতে চাই কোন ক্যাটাগরীর employee হিসেবে নিজেকে দেখতে চান, এক বাক্যে বলে দিবেন ৪ এ। এখন ধরে নিচ্ছি আপনি ১ নং ক্যাটাগরীর employee মেলা দিন যাবৎ, এখানেই রয়েছেন কি করে পেরুবেন কি করে যাবেন কাংঙ্খিত সেই ৪ নং ক্যাটাগরীতে?? আমি বলছি আপনি ভাগ্যবান, আপনি ১ এ আছেন আপনি ২ ও ৩ পেরিয়ে ৪ এ যেতে পারবেন। যে ৩ এ আছেন তার পক্ষে সম্ভব না ৪ এ যাওয়া। আগে থেকেই বলে নেয়া ভালো আমাদের দেশে ১ নং ক্যাটাগরীর কর্মী বাহিনীর সংখ্যাই বেশী, ২নং এ আছে ১০-১৫%। তবে ভয়াবহতা লক্ষ্যনীয় ৩ নং ক্যাটাগরীতে। যার কারনেই আজ ইন্ডিয়ান ও শ্রীলংকানদের এত দৌঁড় ঝাপ।

প্রথমত, আমাদের smart presentation এ মাত্রাতিরিক্ত দূর্বলতা ফুটিয়ে তুলে দূর্বল রিপোর্টির system। তার উপরে ইংরেজির immature uses এবং দূরদুর্শিতার অসম্ভব অভাব। আমরা যে বিভাগেই কাজ করি না কেন সবাইকে business language বুঝতে হবে অথাৎ ব্যবসার পুরো চিত্রকে নিজের ভিতরে লালন করতে হবে। সে অনুযায়ী business chain তৈরী করতে হবে। নিজের কাজের রিপোর্টিং কতটা ব্যবসাতে কাজে আসবে বা অন্যান্য বিভাগে কাজে দিবে তা সুন্দর করে গুছিয়ে concern দের কাছে তুলে ধরতে হবে। নিজেকে নিজের উর্ধ্বে নিতে চাইলে ব্যবসায়িক chain এর বিকল্প নেই।

দ্বিতীয় সমস্যাটি আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখি cancer এর ন্যায়। তা হচ্ছে মানসিক সমস্যা। আমরা মানসিকভাবে অনেক দূর্বল। কেউ কারো ভালো সহ্য করতে পারি না। আমার চোখের সামনে উনি সেরা হয়ে যাবেন! তা কেন? প্রয়োজনে নিজের পকেটের টাকা বিনিয়োগ করবো, প্রয়োজনে নিজের রাতের ঘুম বিলিয়ে দিবো ফন্দি এটে ইত্যাদি ইত্যাদি করে হলেও অন্যদের ধমিয়ে রাখবো। কারন আমি কি করে আরেক জনকে সফল দেখবো যেখানে আমি স্বংয় ব্যর্থ হয়ে দাড়িয়ে আছি। অথচ সুস্থ চিন্তা করে, নিজেকে ছাত্র মেনে শিখার আগ্রহকে ধরে রেখে, প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করে এবং সুষম ঘুম উপভোগ করে সহজেই নিজেকে সেরা করা যায়। এজন্য প্রয়োজন শক্ত ও সামর্থবান একটা পরিকল্পনা ও তার সুন্দর প্রয়োগ। আপনি যখন ভালো ও সুন্দর মনের একজন team member হয়ে কাজ করবেন, নিজের কাজের পাশাপাশি যখন weak teammate এর কাজে সাহায্য করবেন আপনার টীমে আপনি automatic choice হয়ে ওঠবেন । এই modern global business world এ “প্রতিযোগিতা” হয়ে উঠেছে পাহাড়সম। সবাই টিকে থাকার যুদ্ধে লড়াই করে চলেছে প্রতিনিয়ত। তাই কোন সিনিয়রই চাইবেন না তার চেয়ারের চারটি পায়ার কোনটি দূর্বল থাকুক। সংগত কারনেই অদক্ষ লোককে কেউই জায়গা দিতে চায় না। সে যদি নিজের কাছের লোকও হয় তারপরেও নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের ক্ষতি হতে দিতে চায় না।

তৃতীয়টি হচ্ছে shortcut করে দ্রুত নিজেকে শীর্ষে নেয়ার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আপনি যদি গাছের মাথায় উঠে বসতে চান তবে গোড়ার থেকে শুরু করতে হবে। একথাটি সবাই জানি ও বুঝি কিন্তু মানতে চাই না। কারন মানলেই তো বিপদ। তখন নিয়ম মেনে কষ্ট করে ধৈর্য্যের সাথে চলতে হবে। নইলে সেই সাপলুডুর মতো হঠাৎ করে অনেক বড় খেসারত দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। সকালের মিষ্টি রোদেলা আলোর জন্য সুর্য্যকে নির্দিষ্ট একটি কক্ষপথে হেটেঁ আসতে হয়, অভিজ্ঞতার ফলেই যে অনেক আগেই হাজির হয় তা কিন্তু নয়। আমরা অনেকেই এজন্যও ভুল করে বসে থাকি যে আমি তো বয়সে অনেক বড়, তাই আমার এই ফলাফল ধরতেই হবে। বয়স যদি যোগ্যতার মাপকাঠি হতো তাহলে আমাদের পরিচিত সকল সিকিউরিটি গার্ডরা আমাদের সালাম দিতো না। আমরাই অপেক্ষা করতাম তাদের সালাম দেয়ার জন্য। আমি পরিস্কার করে বলি, যদি নিজেকে সেরাদের কাতারে নিতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে সেরা কোন কিছু করে দেখাতে হবে।

আমরা যেকোন ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষারোপ করি, সে যেই হোক; হোক কোন সিনিয়র, colleague কিংবা মালিক। এটা ঠিক নয়। নিজেকে রক্ষা করায় যদি কোন সফলতা অন্তর্নিহিত থাকে তবে আমার কোন কথা নেই। তা না হলে আমার অনেক কথা আছে। এসময়ে কেউ কারো দাযিত্ব নেয় না, নিতে পারে না। বিশ্বাস করুন, অসংখ্য শূন্য position রয়েছে যেখানে যোগ্য লোকের অভাবে নিয়োগে স্থবিরতা। আমি অনেক সিনিয়র এবং মালিকদের ফোন পাই যে, ভাই আমার এই এই লেভেলে লোক লাগবে কিন্তু অতোদিন যাবৎ খুজছি পাই না!!! ইত্যাদি। এক গেঁয়েমি জীবনে ভিন্নতা যেমন খুব দরকার তদ্রুপ যোগ্যতার বিচারে গুণগতমানের বহুমাত্রীকতা অবশ্যম্ভাবী।

ফ্যাক্টরী প্রধানএনভয় গ্রুপ

 

2 Comments

  1. ধন্যবাদ। অনেক সুন্দর লিখেছেন স্যার, আগামীতে আপনার নিকট থেকে এরকম গঠনমূলক লেখা আশা করছি।

    • সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আরএমজি জার্নালের সাথে থাকুন। আপনাকে আমাদের লেখা পড়ার ও সম্ভব হলে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছি ।
      ইমেইলঃ chanchal@musician.org
      sms on facebook page: https://www.facebook.com/rmgjournal/
      ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*