প্রাতিষ্ঠানিক আদব-কায়দা

কাজী রাকিবউদ্দিন আহমেদ

প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেরই একটি আদর্শ আদব কায়দা/ ব্যবহারবিধি থাকে। যেকোনো প্রতিষ্ঠান তা সে লাভজনক, অলাভজনক , সরকারী, বেসরকারী বা দাতব্য হোকনা কেন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষত্ব যে সকল প্রতিষ্ঠানই ভিন্ন ভিন্ন জনতাত্ত্বিক পটভূমি (Demographic Background)  থেকে আগত ভিন্ন মতাদর্শের লোকবল নিয়ে পরিচালিত হয়। স্বভাবতই ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ যখন একই ছাদের নিচে পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে দিনে কমপক্ষে ৮-১০ ঘণ্টা একসাথে কাজ করেন তখন মনের অজান্তেই তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি বা সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর প্রাত্যহিক কর্মে বা আচার ব্যবহারে প্রতিফলিত হয়। এখানে উল্লেখ্য যে কোন সংস্কৃতিকেই ঢালাওভাবে ভালো বা খারাপ আখ্যা দেয়া সমীচীন নয়। প্রাত্যহিক কাজকর্ম সম্পাদনের নিমিত্তে আমরা সামনা সামনি কথা বলি, ই-মেইলে, স্কাইপ বা বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে যোগাযোগ করি । যোগাযোগের মাধ্যম যাই হোক না কেন, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের মানদণ্ড রক্ষা করার স্বার্থে আমাদের সকলেরই চেষ্টা করতে হবে একটি আদর্শ যোগাযোগের পন্থা অবলম্বনের। এই ভাব/বার্তা আদান প্রদানের আদর্শিক পন্থা অনেক সময় সংকটময় বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পড়ে যদি বার্তা প্রদানকারী এবং গ্রহণকারীর বোধগম্যতা একই মানের না হয়।

কমবেশী বিশ্বের সব দেশ এবং প্রতিষ্ঠানেই প্রাতিষ্ঠানিক আদব-কায়দা এবং যোগাযোগের রীতিনীতির একটি মানদণ্ড মানা হয়। এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ (Organizational Values) বলা হয়। এই মূল্যবোধগুলোর মধ্যে সার্বজনীন কিছু মূল্যবোধ রয়েছে , সেগুলো সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য । উদাহরণস্বরূপ সকলের প্রতি সম্মান, সততা, সহমর্মীতা, দলগতভাবে কাজ করার মানুষিকতা, জবাবদিহীতা, সৃজনশীলতা, পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি। কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেকদিন কর্মীগণ নানান ধরণের প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হন। কিন্তু সেই প্রতিকূল পরিবেশকে নিজের অনুকূলে নিয়ে আসা অনেকখানি সম্ভব যদি সার্বজনীন মূল্যবোধগুলোকে প্রতিষ্ঠানের সবাই গুরুত্ব সহকারে তাঁর আচার আচরণের মাধ্যমে প্রতিফলিত করেন। সহকর্মী, জ্যেষ্ঠ বা অধস্তন কর্মকর্তা সবার সাথেই একই ধরণের ভাব আদান প্রদান সাধারণত আমাদের হয়না। তাই বলে কাউকে অসম্মান করা বা কর্কশ ভাষায় কথা বলার অধিকার কারো নেই। আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে জিনিসটি সব থেকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় সেটা হল, হে শ্রেণির কর্মচারীই হোক না কেন সবার সাথে সম্মান সহকারে কথা বলা, প্রত্যেকটি কর্মচারীর আত্মসম্মানবোধকে সমন্বিত রাখা। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসাবে অধস্তন কর্মকর্তাদের তাঁদের কাজের ভুল শুধরিয়ে দেওয়ার পন্থাগুলোকে আমরা বাতিয়ে দেব, তাঁদেরকে আমরা পথ দেখাব কিভাবে আরও উন্নতমানের কাজ করা যায়। কিন্তু কোনোভাবেই আমরা সেই অধস্তন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে তাঁর আত্মসম্মানবোধকে অসম্মান করতে পারি না।

মানুষের সামনে ভালো কাজের প্রশংসা করা, গোপনীয়ভাবে ভুল কাজের সংশোধনী পন্থা বাতিয়ে দেওয়া এবং মানুষের সামনে সমালোচনা না করার মধ্যেই একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাংস্কৃতিক প্রতিফলন ফুটে ওঠে যা পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিকেই প্রতিফলিত করে।

লেখকঃ  চীফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ।

 

6 Comments

  1. আপনার লেখা পড়ে অনেক ভালো লাগলো, আমাদের সবারই​ উচিত এই আচরণ গুলো মেনে চলা।

    • আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আপনার মতামতটি আমরা লেখকের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের আরও লেখা পড়তে অনুগ্রহপূর্বক নিম্নোক্ত ফেসবুল পেজ এ যুক্ত থাকুন
      https://www.facebook.com/rmgjournal/
      শুভকামনা রইলো।

  2. যথার্থ ও সময় উপযোগি লেখনি, যা আমাদের মধ্যে ব্যাপক চর্চার অভাব রয়েছে। ফলে প্রাতিষঠানিক সুষ্ঠ কর্ম পরিবেশ বজায় রাখা সহ আমাদের মধ্যে পেশাদারি মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে না । আশাকরি লেখাটি পড়ে সবাই উপকৃত হবেন

    • আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আপনার মতামতটি আমরা লেখকের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের আরও লেখা পড়তে অনুগ্রহপূর্বক নিম্নোক্ত ফেসবুল পেজ এ যুক্ত থাকুন
      https://www.facebook.com/rmgjournal/

    • আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আপনার মতামতটি আমরা লেখকের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের আরও লেখা পড়তে অনুগ্রহপূর্বক নিম্নোক্ত ফেসবুল পেজ এ যুক্ত থাকুন
      https://www.facebook.com/rmgjournal/

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*