শিল্প কারখানা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা বিভাগের গুরুত্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য

মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন

আমরা যে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গেলেই প্রবেশ পথে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট পোশাক পরা ব্যক্তির সম্মুখিন হই। এই নির্দিষ্ট পোশাক পরা ব্যক্তিদের আমরা চিনি নিরাপত্তা প্রহরী বা নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে। ছোট বড় প্রায় প্রতিষ্ঠানে এই নিরাপত্তা রক্ষীদের দেখা যায়। এই কর্মী বাহিনী আবার বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত থাকে। প্রতিষ্ঠানের আকার ও পরিধি অনুযায়ী এই নিরাপত্তা বিভাগের আকারও বড় বা ছোট হয়ে থাকে। এছাড়াও এদের মধ্যে বিভিন্ন পদবী আছে যা ঐ আকার ও পরিধির উপর নির্ভর করে ঠিক করা হয়। পূর্বে এই বিভাগের পদ পদবীর গুরুত্ব তেমন না থাকলেও সুপারভাইজার বা ইন-চার্জ পর্যন্ত পদবী দেখা যেত যা বর্তমানে জিএম লেভেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কোথাও কোথাও ডাইরেক্টর বা এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টরও থাকতে পারে যদিও তা হয়তো হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠানে। প্রত্যেক সেক্টরে কিছু কিছু বিভাগ থাকে অবহেলিত বা সতিনের ছেলের মত, যার একটি হল এই নিরাপত্তা বিভাগ।

কেন এই অবহেলা? সস্তা শ্রমের উপর ভর করে যেমন আমাদের দেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানী খাত পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে তেমনি এই সস্তা শ্রমকে পুজি করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানী। এতে ইতিবাচক দিক কিছু থাকলেও নেতিবাচক দিক যে বেশি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সস্তা শ্রম বা বেকারত্তকে পুজি করে এমন সব লোককে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় যাদের আদৌ কোন কাজ করার শারীরিক যোগ্যতা নেই। দীর্ঘদিন পুষ্টি সমস্যায় ভোগা, রোগে ভোগা, কংকাল সাদৃশ্য, বয়সের ভারে নূহ্য বা অতি ভুরির ভারে হাটতে না পারা লোকদের দিয়ে গঠন করা হয় নিরাপত্তা সার্ভিস বিভাগ যারা চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা কর্মী ও সুপারভাইজার সরবরাহ করে থাকে বিভিন্ন কোম্পানীতে। কর্পোরেটগুলোতে একবার কোন কোম্পানী ১ বা ২ বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার পর ১৫/২০ দিন বা এক মাস পর দু এক জন যোগ্য কর্মী থাকলেও তারা চলে যায় অন্যত্র চাকরি নিয়ে এবং শীঘ্রই “যেই লাউ সেই কদু” এর মত চলে নিরাপত্তা বিভাগ।

নিরাপত্তা কি (what is safety): নিরাপত্তা বা সুরক্ষা বলতে আমরা কোন (বৈরী) ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অথবা অন্য যে কোন মাধ্যম কর্তৃক সৃষ্ট শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষাকে বুঝে থাকি। যদিও বিষয়টি আরো অনেক ব্যাপক এবং বিস্তৃত। সহজ ভাবে বললে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ জীবন যাত্রা বা কর্মকান্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে নিরাপদ থাকাকে সুরক্ষা বা নিরাপত্তা বলতে পারি। তবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিএনবিসি অনুযায়ী যে তিন ধরনের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি আজকের আলোচনার বিষয় নয় যেমন ১/ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, ২/ ভবন নিরাপত্তা ও ৩/ অগ্নি নিরাপত্তা। আমি শুধু এখানে এই তিন নিরাপত্তার বাইরে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার মধ্য নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে যে নিরাপত্তা নিয়ম সমূহ প্রয়োগ করা হয় তাই আলোচনা করব। আরো পরিষ্কার করে বললে বলা যায় কোম্পানীর জনশক্তির সাধারণ নিরাপত্তার পাশাপাশি কোম্পানীর পণ্য ও আর্থিক নিরাপত্তাই আজকের আলোচনার মূখ্য উদ্দেশ্য।

নিরাপত্তা বিভাগ (Security Department): প্রত্যেক কোম্পানীতে না হলেও উৎপাদন শিল্প কারখানা এবং ব্যাংক সহ প্রায় প্রতিষ্ঠানে এখন সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা বিভাগ প্রশাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। একজন সিকিউরিটি ম্যানেজার বা ইনচার্জ এর নেতৃত্তে একাধিক নিরাপত্তা কর্মী নিয়ে এই বিভাগ কাজ করে থাকে। ১২ ঘন্টা করে দুই শিফটে বা ৮ ঘন্টা করে ৩ শিফটে ভাগ হয়ে এই বিভাগ প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা মালামাল সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। কোথাও কোথাও এদের কর্মপ্রাণালী বা কাজের পরিধি লিখিতভাবে দেয়া থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক নির্দেশনাই কেবলমাত্র পেয়ে থাকে। তবে নিকট অতীতে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আচরণ নীতিমালার কারণে লৌকিকতার খাতিরে হলেও একটা লিখিত নীতিমালা রাখতে হচ্ছে যা এই বিভাগের কাজকে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে প্রয়োগ করতে সুবিধা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, পনেরো-বিশ বছর পূর্বেও নিরাপত্তা বিভাগ নামে কোন বিভাগ ছিলনা বা থাকলেও খুবই কম সংখ্যক কোম্পানিতে ছিল। তবে বহুজাতিক কোম্পানীগুলোতে সবার আগেই এই বিভাগের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নাম যাই হোক না কেন জন সাধারণ তাদেরকে দারোয়ান বলেই চিনত বা গণ্য করত। এই দেশে অন্য সব ক্ষেত্রের উন্নয়নে যেমন গার্মেন্টস সেক্টরের অবদান তেমনি এই নিরাপত্তা বিভাগের সম্প্রসারণেও এই সেক্টরের অবদান সর্বাধিক। প্রথম দিকে প্রায় কোম্পানী নিরাপত্তা বিভাগের লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজেদের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিলেও ধীরে ধীরে তা পরিবর্তন হয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দিকে বেশি মনযোগী হতে দেখা যায়। বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর সদস্য বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে অনেক গুলো ছোট বড় সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানীর আবির্ভাব হয়েছে যা বেকার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এতে করে এক দিকে যেমন নতুন ব্যবসা বা বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে তেমনি পেশাদারিত্বের ব্যাপারটাও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিভাগের গুরুত্ব ঃ “সবার আগে নিরাপত্তা” (Safety First) হল যে কোন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান শ্লোগান যা দেয়ালে, সিড়িতে এবং কর্ম ক্ষেত্রের আশে পাশে লেখা থাকে যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এটা খুবই সাধারণ বিষয় যে কোন কারণে নিরাপত্তার ঘাটতি হলে সেখানে আমরা কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করি। একই ভাবে কোম্পানীর বিনিয়োগকর্তার বিনিয়োগকৃত অর্থের নিরাপত্তা না থাকলে কেউ বিনিয়োগ করবেনা বা শিল্পকারখানা স্থাপিত হবেনা। কোন দেশের সরকার শুধুমাত্র বাহ্যিক নিরাপত্তা দিতে পারে। কিন্তু অভ্যন্তরিন নিরাপত্তা নিজেদের দায়িত্বেই নিশ্চিত করতে হয়। আর এই অভ্যন্তরিন নিরাপত্তার পুরো দায়িত্বটা নিয়োজিত থাকে সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা বিভাগের উপর। অন্যথায় অনেক ধরনের অনাকাংখিত পরিবেশে এবং ঘটনার আবির্ভাব ঘটবে যা কোম্পানীর আসল কর্মকান্ডে ব্যাঘাত ঘটবে এবং প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে। তাই প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তার প্রতিষ্ঠানে আগত মালামাল সঠিক ভাবে আসছে কিনা,অনুমতি ব্যতীত কোন মালামাল যেন বের হতে না পারে, অনুমতি বিহীন কোন ব্যক্তি কারখানায় আসছে যাচ্ছে কিনা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণমূলক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সার্বিক দায়িত্ব এই নিরাপত্তা বিভাগের উপর থাকে। এই বিভাগের কর্ম পন্থা ও দক্ষতার উপর প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও বড় ধরনের ব্যর্থতাও নির্ভর করতে পারে। তাই, এই বিভাগকে একটি শুধুমাত্র সহায়ক (Subsidiary) বিভাগ মনে না করে প্রশাসনের মূল স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানো উচিত। এই বিভাগে কর্মরত কর্মী ও দায়িত্বশীলদেরও KPI থাকা, সফলতা ও দক্ষতার মূল্যায়ন করা দরকার। শুধুমাত্র গুরুত্ব না দেয়ার কারনে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র নিরাপত্তা বা সুরক্ষা ছাড়াও একটি আদর্শ নিরাপত্তা বিভাগ কারখানার সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা ও বৃদ্ধিতেও ভুমিকা রাখতে পারে যা কোম্পানী বা ব্যবসায় বৃদ্ধিতেও ভুমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, উৎপাদন বিভাগ ব্যতীত অন্য প্রায় সব বিভাগের মত এটিও অনুৎপাদনশীল বিভাগ হিসেবে অবহেলিতই থেকে গেছে। অনেক কোম্পানীর নিরাপত্তা কর্মীদের পোশাক দেখলে জোকারের মত লাগে। আর এক একটি তাল পাতার সেপাইকে যার ভাল করে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি নাই তাদেরই দেখি নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করতে। একটি সুপ্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বিভাগ কেন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ আশা করি তা এই বিভাগের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনায় আরো বেশী পরিষ্কার হবে। তবে তার আগে দরকার একটি আধুনিক ও সুপ্রাশিক্ষিত নিরাপত্তা বিভাগ কেমন হওয়া উচিত তা আলোকপাত করা। পাঠকদের সবিনয়ের সাথে জানিয়ে রাখতে চাই যে কোন সামরিক বা প্রশাসনিক পুথিগত কিংবা সামরিক দৃষ্টিভংগী থেকে এই আলোকপাত নয়, বরং বিভিন্ন কারখানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যমান দুর্বলতাগুলোর আঙ্গিকে এই প্রয়াস তাই এটি অধিক মুখরোচকের পরিবর্তে তিক্ত ঔষধী ধাচের অভিমত মনে করতে পারেন।

কেমন হওয়া উচিত নিরাপত্তা বিভাগঃ কর্তৃপক্ষকে শুরুতেই স্থির করতে হবে তারা কেমন নিরাপত্তা বিভাগ চায়। এটা কি থাকার জন্য থাকা নাকি কার্যকরী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। কোন ভাবে চলবে নাকি সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ যোগ্যতা এবং দক্ষতা দিয়ে চলবে। নিম্নে আদর্শ নিরাপত্তা বিভাগের উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট আলোকপাত করা হলঃ

১। শারীরিক বলিষ্ঠতাঃ নিরাপত্তা বিভাগের গার্ড বা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আমলে নেয়া দরকার তা হল কর্মীর শারীরিক যোগ্যতা। এই ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ঠ উচ্চতা, ওজন ও বয়সের সর্বনিম্ন মাপকাঠি ঠিক করে নিলে তা বিভাগ গঠনে খুবই সহায়ক হবে। “আগে দর্শনধারী পরে গুনবিচারী” প্রবাদটি এক্ষেত্রে বেশী কার্যকরী। প্রয়োজনে বেতন নির্ধারণের সময় এই শারীরিক যোগ্যতার জন্য দু-এক শত টাকা বেশী দিলে তা টীম গঠনের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। মনে রাখতে হবে আপনার নিরাপত্তা কর্মীদের শারীরিক যোগ্যতা যেন কোন ভাবেই চার্লি টাইপের না হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন অনেক নিরাপত্তা কর্মী দেখেছি যে স্যালুট দিতে গিয়ে পড়ে যায়। আর অধিকাংশ নিরাপত্তা কর্মীকে দেখলে মনে হয় দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে।

২। পোশাক বা ইউনিফর্মঃ কিছু কিছু নিরাপত্তা কর্মীদের ড্রেস দেখলে জোকার মনে হয়। একজন সাধারণ মানুষ কাউকে দেখার পর তার ভিতর একটা প্রতিক্রিয়া হয় যা তার বাহ্যিক আচরণে প্রতিফলিত হয়। তাই ড্রেস এর কালার এবং ডিজাইন এমন হওয়া উচিত যাতে প্রাকৃতিকভাবে একটা ভক্তি সাধারণের মধ্যে জন্ম নেয়। ড্রেস একদিকে যেমন আরাম দায়ক হবে অন্যদিকে খুব বেশী আটোসাটো বা অতি মাত্রায় ঢিলেও হবেনা। যতক্ষন ডিউটি চলবে ততক্ষন যেন তাদেরকে দেখে কর্মচঞ্চল এবং একটিভ মনে হয়।

৩। প্রশিক্ষণঃ “শক্ত প্রশিক্ষণ সহজ লড়াই” হল একটা সাধারণ প্রবাদ ও বাস্তব সত্য। তাই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত অশিক্ষিত বা সবল্পত শিক্ষিত লোকদের “ধর তক্তা মার পেরাক” স্টাইলে নিয়োগ দেয়ার সাথে সাথে যেকোন একটা ড্রেস পরিয়ে সরাসরি ডিউটি দিলে হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। এটি না করে এই নিয়োগ কৃত কর্মীকে কম করে ২/৩ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে, নিয়োগকৃত কর্মীর নিয়মিত কাজ কি এবং বিশেষ কাজ কি তা হাতে কলমে শিখিয়ে দিয়ে এবং সম্ভব হলে তার বাস্তব প্রয়োগ দেখে তার পর ডিউটিতে দেয়া উচিত। এ ছাড়াও কয়েকদিন সিনিয়র বা পূর্বের প্রশিক্ষিত কর্মীর সাথে ডিউটি দিতে পারলে আরও ভাল হয়।

৪। কর্ম তালিকা (Job Description): নিরাপত্তা কর্মী বা নিরাপত্তা রক্ষীদের সুনির্দিষ্ঠভাবে তাদের কাজের বর্ণনা থাকা উচিত। প্রধান ফটকে কর্মরতদের কাজ কি? অভ্যন্তরীন ফটকে কি করনীয়? আগত পণ্যের ক্ষেত্রে করণীয় কি? বহিঃগমন পণ্যের ক্ষেত্রে কর্মপন্থা কি ইত্যাদি সুনির্দিষ্ঠ ভাবে লিখিত থাকা এবং তার উপরে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদাণ করা দরকার। অতঃপর প্রশিক্ষিত কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রভাব প্রতিক্রিয়া দেখা দরকার এবং যারা ভাল করবে তাদেরকে পুরষ্কৃত করলে ওনেক ভাল ফল পাওয়া যাবে।

৫। কর্মপদ্ধতিঃ কর্ম তালিকার পাশাপাশি কর্মপদ্ধতি ও সেই পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দিলে উক্ত নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। তাই কোন কাজ কিভাবে করবে বিশেষ করে স্টোর সম্পর্কিত কাজ গুলো স্টোর ম্যানেজারের মাধ্যমে, শিপমেন্ট সম্পর্কিত কাজ গুলো কমার্শিয়াল বিভাগের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট কাজ গুলো এইচ আর, কমপ্লায়েন্সে ম্যানেজারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিলে অধিক ফলাফল পাওয়া যাবে।

৬। দৈনিক সমাবেশঃ প্রতিদিন ছুটির পর বা কারখানা বা অফিস শুরু হবার পূর্বে (সুবিধাজনক সময়ে) সকল নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়ে নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সমাবেশের আয়োজন করবে। এতে তাদের শারীরিক “ওয়ার্ম আপ” এবং দিনের ভুল-ত্রুটি সংক্রান্ত নোটিশ অতঃপর পরবর্তীতে এই সব ভুল যাতে না হয় তার দিক নির্দেশনা দিবে। প্রতিদিন এটি ১৫ মিনিটের জন্য চলতে পারে।

উল্লিখিত বিষয়গুলো একটা বলিষ্ঠ নিরাপত্তা বিভাগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তাতে যেমন কোন সন্দেহ নাই তেমনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা এখানে উল্লেখ না করলে লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই নিম্নোক্ত কাজগুলো অবশ্যই করণীয় কাজ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারেঃ

১। আগত পণ্যের বিবরণ লিপিবদ্ধ করাঃ কোন কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিরাপত্তা বিভাগের অন্যতম প্রথম বা প্রধান কাজ হল আগত পণ্যের বিবরণ লিপিবদ্ধ করা। এই ক্ষেত্রে চালান বহির্ভূত মালামাল গ্রহণ কিভাবে হবে? আদৌ গ্রহ্ণ করা হবে কিনা? কত সময় পর্যন্ত মালামাল গ্রহণ করা হবে? গ্রহণকৃত মালামালের সাথে কি কি ডকুমেন্ট বা নথিপত্র থাকতে হবে তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকাতে হবে। অন্যতায় বিভিন্ন সময় অনাকাংখিত ঘটনার আবির্ভাব ঘটতে পারে। আছাড়াও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের মনে রাখতে হবে কোন অনুমতি বিহীন পণ্য সেটা অফিসিয়াল হোক বা ব্যক্তিগত হোক যাতে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে। আমি আবারও উল্লেখ করিছি যে, কোন অবস্থাতেই কোন ধরনের মালামাল প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারবেনা সেটা ব্যক্তিগত হোক বা অফিসিয়াল হোক। কেননা এর মাধ্যমে পরবর্তীতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরী হবার পথ সুগম হয়।

২। বহিঃগমন পণ্যের বিবরণ লিপিবদ্ধ করঃ নিরাপত্তা বিভাগের অন্যতম প্রধান আরেকটি কর্তব্য হল বহির্গামী সকল পণ্যের অনুমতি পত্র বা গেটপাশ চেক করা। কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ব্যক্তির সবাক্ষর সম্বলিত চালান ও গেটপাশের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য বের হয়ে থাকে। বহির্গামী সেই সব পণ্যের মধ্যে কোনটি কোম্পানীর অন্য শাখায় যায়, কোনটি আবার কাস্টমারের কাছে যায়, কোন কোনটি কারখানার মালিকের বাসায় যায়, কোনটি আবার ব্যক্তিগত থাকে। এই সব বিষয়ে কোন ক্ষেত্রে কার সবাক্ষর করার অনুমোদন আছে এবং নির্দিষ্ট অনুমোদিত ব্যক্তি করেছেন কিনা তা সুক্ষ ভাবে যাচাই করে দেখতে হবে। অনেক নিরাপত্তা কর্মী শুধু মাত্র গেট পাশের কপি দেখেই যে কোন সবাক্ষরে বহির্গমনের অনুমতি দেয় তা একেবারেই বর্জনীয়। পেকেটজাত দ্রব্য বহির্গমনের ক্ষেত্রে পেকেট করার সময় নিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মী সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ করবে। অন্যতায় এক পণ্যের বিপরীতে অন্য পণ্য চলে যেতে পারে এবং যে কেউ তার অসত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। বেশীরভাগ কোম্পানীতে অফিসিয়াল নথিপত্র, ফাইল বা অন্যান্য ডকুমেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে গেটপাশ প্রয়োজন মনে করেনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন ধারনার বিরোধী। খাম বা ফাইলেরও গেট পাশ হওয়া আবশ্যক। উল্লিখিত বিষয়সমূহ ছাড়াও আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটিন কাজ বহির্গমন পণ্যের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের করতে হয়। তা হলঃ

            ক। ফেরতযোগ্য (Returnable) মালামালের গেটপাশঃ একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অনেক মালামাল আছে যা কিছু সময়ের জন্য বাহিরে গেলেও আবার তা ফেরত আসবে। এক্ষেত্রে কোন পণ্য মেরামতের জন্য হতে পারে, হতে পারে সেম্পল যা অনুমোদনের জন্য কাস্টমারের প্রতিনিধির কাছে নিতে হয় বা সাময়িক সময়ের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মেটাতে। অর্থাৎ সাময়িক সময়ের জন্য উক্ত মালামাল বের হলেও তা আবার প্রতিষ্ঠানে ফেরত আসবে। এই সব গেটপাশের রেকর্ড ভিন্ন একটি রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং তাতে সম্ভাব্য ফেরতের তারিখ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকতে হবে। নির্দিষ্ঠ তারিখের মধ্যে উক্ত পণ্য ফেরত না আসলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। আর ফেরত আসলে তা তারিখ সহ উক্ত পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে রেকর্ডভুক্ত করতে হবে।

            খ। ব্যক্তিগত গেটপাশঃ আমি জানিনা কোন কোম্পানিতে এটা করে কিনা, তবে এটা করতে পারলে ভাল হবে। ঊর্ধতন কর্তৃওপক্ষ বা মালিক ইচ্চা করলে জানতে পারবে কি পরিমান সৌজন্য সংখ্যা বা গিফট তাকে দিতে হয়েছে বা দিছে। এছাড়াও কোন সন্দেহজনক ব্যক্তি একাধিক বার এই সুবিধা নিচ্ছে কিনা তাও সহজে বুঝা যাবে।

            গ। শিপমেন্ট রেজিস্টার উতপাদনমূখী প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্যই হল উতপাদন শেষে তা কাস্টমারের কাছে পোছে দেয়া। উতপাদিত পণ্যের গুণাগুন পরীক্ষার পর তা ক্রেতার কাছে পৌছানোর প্রথম ধাপ হল ফেক্টরী বা কারখানা থেকে পণ্য ক্রেতা নির্ধারিত এজেন্টের কাছে হস্তান্তর করা ও লজিস্টিকের মাধ্যমে ক্রেতার নিকট পৌছাতে সহযোগিতা করা। এই ব্যবস্থাকে সাধারণত শিপমেন্ট বলা হয়ে থাকে। কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীর একটি টীম এই শিপমেন্টের রেজিস্ট্রা লিপিবদ্ধ করে থাকে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যকীয় একটি কাজ। কোন গাড়ি কখন এসেছে, গাড়ির ফিটনেস অবস্থা, চলকের লাইসেন্স ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা ও কপি রাখা পূর্বক সেই গাড়িতে আন্তর্জাতিক মানের লক সীল ব্যবহার করা, সেই লক সীলের নাম্বার সংরক্ষণ করা, মালামার ভর্তিকালীন সময়ে নির্দিষ্ট লোক ছাড়া কেউ যাতে কাছাকাছি থাকতে না পারে তা নিশ্চিত করা, পণ্যের চালান, পেকিংলিস্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমোদন আছে কিনা নিশ্চিত করা ইত্যাদি নিরাপত্তা বিভাগকে সরাসরি তদারকি করতে হয়। অতঃপর শিপমেন্টকৃত গাড়ির গতিপথ বা রোড ম্যাপ অনুসরণ করাও সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টকে অনেক ক্ষেত্রে পালন করতে হয় যাতে গাড়ি নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতার অনুমোদিত ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে পৌছে এবং পথে কোন ধরণের অনাকাংখিত ঘটনা না ঘটে।

৩। ব্যক্তির গেটপাশঃ কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা অফিস চলাকালীন সময়ে মাঝে মধ্যে এক বা আকাধিক বার অফিসের বাহিরে গিয়ে থাকে। কেউ বা একাধিক বার চা খেতে, কেউ বা ধুমপান করতে, কেউ বা বন্ধু ও আত্নীয়ের সাথে দেখা করতে অনেকেই কর্মস্থল থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিত দিনে এক বা আকাধিক বার বের হয়ে থাকে। এই বের হওয়া আর ভিতরে প্রবেশ যত বেশী প্রচলিত হবে তত বেশী পণ্যের ও কারখানার নিরাপত্তা ঝুকি বাড়বে। তাই এই আস-যাওয়ার প্রবণতা কমাতে গেটপাশ ছাড়া বের হওয়া থেকে প্রতিহত করা নিরাপত্তা বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি যত বেশী কার্যকর হবে তত বেশী কর্মস্থল নিরাপদ থাকবে।

৪। সিসিটিভি মনিটরিং ও সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য রাখাঃ সিকিউরিটি প্রধান যিনি থাকেন তিনি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি মনিটরিং করে থাকেন। তাই নিয়মিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড দেখা ও সন্দেহজনক কোন কিছু পরিলক্ষিত হলে তা যথাযত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিমালা মেনে চলা উচিত। এছাড়াও বেশী বেশী চলাচল করে এমন ব্যক্তি, নিয়মিত মালামাল আনা নেয়া করে এমন ব্যক্তি, ভিআইপি ব্যক্তির ড্রাইভার-পিয়ন, বায়িং কিউসি, শ্রমিক নেতা, লোকার নেতা, আবর্জনা কেনা পার্টি ইত্যাদি ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্পেশাল নজরদারি করা দরকার।

৫। বিশেষ প্রশিক্ষণঃ উল্লেখিত বিষয়াদি ছাড়াও যে সমস্ত কারখানায় বড় ধরনের নিরাপত্তা বিভাগ আছে সেখানে পর্যায়ক্রমে সকল সদস্যকে অগ্নি নির্বাপন প্রশিক্ষণ ও দু্র্যোগ কালীন সময়ে উদ্ধারকারী টীমের সাথে সহযোগিতা করতে পারার মত ন্যূনতম প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখা দরকার। কিছু সংখ্যক (প্রত্যেক শিফটে ২ জন) নিরাপত্তা কর্মীর গাড়ি চালানোর সাধারণ প্রশিক্ষন (লাইসেন্স থাকলে ভাল) থাকা উচিত। এতে করে ২৪ ঘন্টা ৭ দিন চলমান কারখানায় জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি সরানো ও কাছাকাছি কোন দুর্ঘটনায় দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

৬। আচরণ গত প্রশিক্ষণঃ যে কোন একটা কর্মস্থলে এসে প্রথমেই যার সাথে দেখা হয় সে হল নিরাপত্তা কর্মী বা সুপারভাইজার। প্রথম কথোপকথন যদি সুন্দর ও সৌহার্দপূর্ণ হয় তা হলে কোম্পানী সম্পর্কে আগত ব্যক্তির ধারণা হবে ইতিবাচক। আর যদি তা হয় কর্কশ এবং রুঢ় তা হলে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তার ধারণা সুরুতেই হবে নেতিবাচক যা কোন মতেই কাম্য নয়। তাই নিরাপত্তা কর্মীদের সম্ভাসন ও কোন কিছু জিজ্ঞাসা করার ধরণের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিলে তা কারখানার জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে নিয়ে আসবে। যে কোন পরিস্থিতি যাতে নিরাপত্তাকর্মীগণ পেশাদারিত্তের সাথে মোকাবেলা করতে পারে তা খুবই গুরুত্তের সাথে নিতে হবে। এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা নিরাপত্তা প্রধানের অন্যতম প্রধান কাজ।

৭। দায়িত্ব ও যোগ্যতানুযায়ী পদ বিণ্যাসঃ উল্লিখিত নিরাপত্তা কর্মীগণের মধ্যে যারা অধিক যোগ্য তাদেরকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করার পাশাপাশি যারা কাজ শিখতে আগ্রহী তাদেরকে কাজ শেখার সুযোগ দেয়া দরকার। অন্যতায় যোগ্যতা থাকা সত্তেও যদি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন ও দায়িত্ব না পায় তখন চাকুরী ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার প্রবণতা তৈরী হবে যা কোনমতেই কাম্য নয়। বিঃদ্রঃ একই স্থানে এবং একই কাজে কোন নিরাপত্তাকর্মী বা সুপারভাইজারকে একটানা দুই মাসের বেশী রাখা উচিত নয়। এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রধান পরবর্তীতে কাকে কোথায় নিয়োজিত করবেন তা যেন পূর্ব থেকে কেউ জানতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

 ৮। বেতন কাঠামোঃ কথায় আছে, “পেটে দিলে পিঠে সয়” এটা মূলত সাপ্লাই চেইনের জনক মহাবীর আলেকজান্ডারের কথারই আঞ্চলিক রূপ। অর্থাৎ পেটে যতক্ষণ খাবার থাকবে ততক্ষ্ণ সেনা সামনে আগাবে অন্যতায় পেছনে দৌড় নয়তো বিদ্রোহ। তাই একটি চৌকষ নিরাপত্তা কর্মী বাহিনী গড়ে তুলে তা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে কাজে লাগাতে হলে এবং এই বাহিনী থেকে সর্বোচ্চ রেজাল্ট পেতে হলে সবার আগে দরকার একটি ভাল বেতন কাঠামো যেখানে কর্মঠ, শক্তিশালী ও চৌকষ লোকজন কাজ করতে চাইবে। এদেরকে যে কটি ধাপ এবং ট্রেনিং এর কথা উল্লেখ করেছি তা যদি তারা সঠিক ভাবে করতে পারে তাহলে প্রত্যেকটি যোগ্যতার জন্য অল্প পরিমাণে হলেও বেতন/ভাতা বৃদ্ধি করা দরকার। যেমন, যে সকল নিরাপত্তা কর্মী অগ্নি নির্বাপন ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করতে পারবে তাদের কে ২০০/৩০০ টাকা ভাতা বাড়ালে অন্যেরা যেমন এই কাজে এগিয়ে আসবে তেমনি যোগ্য লোক অন্যত্র চলে যাওয়া থেকেও বিরত থাকবে। আবার কোন নিরাপত্তা কর্মী যদি গাড়ি চালাতে পারে তাহলে তাকে ২০০/৩০০ টাকা বেশি ভাতা দেয়া উচিত।

পরিশেষে বলা যায়, এই বিষয়ে চাকরী বা অভিজ্ঞতা কোনটাই না থাকা স্বত্বেও লেখার পেছনে একটা অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা আছে। ঢাকা ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী আমার অন্য লেখা পড়ার পর এই বিষয়ে কোন লেখা আছে কিনা জানতে যোগাযোগ করেন আমার সাবেক কোম্পানীর সম্মানিত এম ডি কে, পরে যাই হোক আমার সাথে যোগাযোগ হলে ছেলেটিকে আমার যতটুকু সাধ্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিই। আর তখনই চিন্তা করলাম যে বিষয়গুলো তাকে বলব সেগুলি একটু লিখে রাখিনা কেন? অনেকেই হয়ত এর চেয়ে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ন ও সুন্দরভাবে এই বিষয়ে লিখতে পারবেন বা ইতিমধ্যে হয়ত লিখে কোম্পানীর সিকিউরিটি পলিসি ফাইলে রেখে দিয়েছেন। আমার অনুরোধ, আপনারা যারা নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক বা দায়িত্তে আছেন দয়ে করে এই বিভাগকে একটু নার্সিং করেন এবং মূল স্রোতের সাথে মিলিয়ে দেখুন। আমার দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি তা কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে যা কোম্পানীর সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

লেখকঃ হেড অব স্টোর, আরকে নীট ডাইং মিলস লিঃ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*