অফিস পলিটিকস ও এ্যারিস্টটলের ’মাননীয় স্পিকার’ বনে যাওয়া

লিপিকার: মোঃ ওয়ালিদুর রহমান বিদ্যুৎ

এ্যারিস্টটলকে বলা হয় ‘পলিটিক্যাল সায়েন্সের জনক’। তবে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানে যেই দেশে এত এত এত এত পলিটিশিয়ানের পদচারনা, সেই সাধের বাংলাদেশ বাদ দিয়ে কোথাকার কোন সুদূর গ্রীক দেশে কী করে যে পলিটিক্যাল সায়েন্সের ফাদার আর ফোর ফাদার প্লেটো, এরিষ্টটলরা জন্ম নিলেন-সে এক অষ্টম আশ্চর্য।

আমাদের ছোটবেলায় একটি কথা খুব শুনতাম ‘ভিলেজ পলিটিকস’। আজকাল টিভি সিরিয়ালের বদৌলতে ’ফ্যামিলি পলিটিকস’ কথাটাও খুব বাজার পাচ্ছে। এর পাশাপাশি ‘অফিস পলিটিকস’ নিয়েও আমরা খুব জেরবার। চাকরি করেন, অথচ অফিস পলিটিকস করেননি কিংবা পলিটিকসের শিকার হয়ে নাকানি চুবানি খাননি-এমন মুমিন বান্দা উগান্ডায় পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে মৃগনাভি কস্তুরীর মতো বিরল।

চাকরির কর্মক্ষেত্র স্রেফ (এ্যাবসলিউটলি) নিজের নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে নিজ নিজ পদবী ও দায়ীত্বভার অনুযায়ী নিজের দায়ীত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের ভিতর দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করা বা তার লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখার স্থান। আমার আপনার ভাল লাগুক বা না লাগুক, বিশ্বাস করি বা না করি, চাকরিস্থল বিশুদ্ধভাবে যোগ্যতা, কাজ, লক্ষ্য ও কর্মসম্পাদন করে মূল্য সংযোজনের (ভ্যালু এ্যাডিশন) স্থান। এখানে মানবতা, মানবিকতা, দয়া, মায়া, ভালোবাসা, আত্মার টান, আবেগ-এই সবই সেকেন্ড বা থার্ড প্রায়োরিটি। অবশ্যই টপ প্রায়োরিটি নয়।

ঠিক তেমন, কর্মক্ষেত্র পলিটিকসের স্থান নয়। যদিও আমরা পলিটিকস করি। চাকরি করার মাধ্যমে জীবিকা আয় করার ইচ্ছা থাকলে পৃথিবীর সবদেশে লাগে-কাজ করার যোগ্যতা ও চাকরী করার যোগ্যতা। দুর্জনেরা বলে, বাংলাদেশে লাগে পলিটিকস করার যোগ্যতা। পলিটিকস না জানলে নাকি বাংলাদেশে চাকরি করে টিকে থাকা কঠিন। সেই পলিটিকসের আবার কত কত ধরন-

স্থান বা এলাকা ভিত্তিক পলিটিকস

ধর্ম ভিত্তিক পলিটিকস

র‌্যাংক ভিত্তিক পলিটিকস

সিনিয়র জুনিয়র পলিটিকস

বস-মোসাহেব পলিটিকস

বসের বিরুদ্ধে পলিটিকস

সুন্দরী সহকর্মীদের নিয়ে নানা গ্রূপে পলিটিকস

টীমমেটদের মধ্যে পলিটিকস

টীমে টীমে পলিটিকস

ইনক্রিমেন্ট নিয়ে পলিটিকস

সুযোগ সুবিধা বাগানোর পলিটিকস

এমনকি, স্রেফ “ব্যাটা লাল জামা পরে কেন?”-তাই নিয়ে পলিটিকস।

সব মিলিয়ে যাকে বলে, ”রাজনীতিতে পলিটিকস ঢুকে গেছে।”

পলিটিকস করি আমি আপনি উনি-কখনো ধান্দায়, স্বার্থের টানে। কখনো কখনো কেউ কেউ সেটা করি স্রেফ মজা পেতে বা চরিত্র দোষে। দুষ্ট লোকে বলে, কারো কারো নাকি পলিটিকস না করলে পেটের ভাত হজম হয় না।

তবে অফিস পলিটিকস এবং জব স্যাটিসফ্যাকশন নিয়ে সবচেয়ে মজার সত্যিটা হল,

Everyone believes everyone to be a politician.

Everyone thinks, everyone is dissatisfied.

অফিসে প্রত্যেকেরই অভিযোগ, অমুকে অমুকে তমুকে তমুকে পলিটিকস করছে। আবার তারা উল্টো বলছেন, ওই ব্যাটাই পলিটিকস করে। কনিষ্ঠরা বলে, বস পলিটিকস করে। বস আবার বলে, কনিষ্ঠরা দল বেঁধে আমাকে নিয়ে পলিটিকস করে। পলিটিকস যে করে, সেও বলে, “আরে, সব শালায় গুটিবাজ।” আবার যে গুটিবাজির শিকার, সেও তার সময় সুযোগ মতো কারো সাথে গুটি চেলেছে বহুবার। আর জব স্যাটিসফ্যাকশনের কথা কী বলব? প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের আবালবৃদ্ধবনিতা সবাইই ক্ষুদ্ধ, সবাই অতৃপ্ত। যে পাঁচ লাখ বেতন পায়-সেও যেমন অসন্তুষ্ট। তেমনি যে দশ হাজার টাকা পায়-সেও ক্ষিপ্ত। তাই কে যে পলিটিকস করে আর কে যে করে না, কে স্যাটিসফাইড আর কে না-সেটা বোঝা মুশকীল।

এত কথা যখন বলছি, আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন, তা মিয়া ভাই, অফিস পলিটিকস জিনিসটা কী? ভাইজান বোধহয় টাউনে নতুন এসেছেন।

একদম কেতাব ধরে যদি বলি, তাহলে, অফিসের বস অথবা কর্মী কর্তৃক একা বা দলবদ্ধভাবে কোনোরূপ পার্থিব বা অপার্থিব আত্মস্বার্থ হাসিল করতে কিংবা স্বার্থবিহীনভাবে স্রেফ খাসলতবশত নিজ নিজ কাজ, দায়ীত্ব, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং কর্তৃত্ব ডিঙিয়ে বা উপেক্ষা করে, অন্যের একই ক্ষেত্র নিয়ে মাথা ঘামানো, বা যার ঘামায় না-তারটা ঘামাতে বাধ্য করা কিংবা কারো ঘামানো মাথায় পাখার বাতাস করাই হল অফিস পলিটিকস।

স্বরুপ যাই হোক, অফিস পলিটিকস নিয়ে বড় বড় অনেক মানুষই, অনেক দেশেই চিন্তাভাবনা রয়েছে। ব্যপারটা এমন নয়, যে শুধু বাংলাদেশেই এই বস্তুর চাষাবাদ হয়। বাইরের দেশগুলোতেও গুটিবাজি বা অফিস পলিটিকস বেশ ভালই ভোগায় কিংবা ভোগ করা হয়। কথা হল, অফিস পলিটিকস কেন উদ্ভব হয়? কিংবা মানুষ কেন অফিস পলিটিকসে জড়িত হয়?

আমাকে যদি বলেন, তাহলে বলব, অফিস সিস্টেমের অন্তর্নিহিত জন্মরহস্যই এর সবচেয়ে বড় কারন। কারন, অফিস ম্যানেজমেন্টের জন্য হালকা পলিটিকসও লাগে। বিশুদ্ধ রবীন্দ্র সাহিত্য’র মতো বিশুদ্ধ কর্পোরেট সংস্কৃতি দিয়ে আমাদের প্রচলিত বাস্তবতায় অফিস চালানোও কঠিন। ওই যেমন, নিখাঁদ স্বর্ণ দিয়ে গয়না গড়া যায় না। তাতে খাঁদ দিতেই হয়। কিংবা বলা যায়, সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না। দুঃখিত, মজা করছিলাম। সিরিয়াসলি যদি বলি,

এক; অফিসগুলোর বসরাও নিজেরা বিশ্বাস করেন, কিছুটা পলিটিকস নিজেরাই দায়ীত্ব নিয়ে জিইয়ে রাখলে কর্মীরা দৌড়ের উপর থাকবে। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

দুই; অনেক সময়ই নিজ টীমের কর্মী বা অফিসের অন্য কর্মীদেরকে বসদের ভাষায় ’সাইজ’ করার জন্য বসরা দায়ীত্ব নিয়ে রাজনীতির ভিতর পলিটিকস ঢুকিয়ে দেন।

তিন; নিজ নিজ আত্মিক বা আর্থিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এক বা একাধিক কর্মী পলিটিকসে জড়িয়ে যান।

চার; অনেক সময় ইচ্ছা বা ইনটেনশন না থাকলেও কর্মীদেরকে চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হতে হয় পলিটিকসে জড়িত হতে।

পাঁচ; কর্মীদের কাজের চাপ যদি পর্যাপ্ত না থাকে, বিশেষত উপরের স্তরের কর্মকর্তারা, যাদের মাঠ পর্যায়ে বা দৈনন্দিন প্রান্তিক পর্যায়ের কাজের চাপ কম থাকে, কিংবা যারা প্রতিষ্ঠানে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবার মতো সৌভাগ্যবান, তারা স্রেফ “ভাল্লাগে না” টাইপের ভাইরাসের কবলে পড়ে পলিটিকসে নাম লেখান। কথায় বলে না, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডা।”

ছয়; পলিটিকসের শিকার হয়েও কেউ কেউ পলিটিক্যাল শিকারীতে পরিণত হন। ওই যে, বলে না, লেজ কাটা শিয়াল অন্যের লেজও কাটাতে চায়।

সাত; টিভি সিরিয়াল আর প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে এলাকায় এলাকায় আজকাল ড্যান্ডিখোরদের নিয়ে রাজনৈতিক দলের শাখা খুলে রাজনীতির মহান চর্চাকে শৈল্পিক রূপ দেয়া হয়েছে। সুতরাং এই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ঘরানা হতে অফিসে যারা আসেন, তারা এখানে আসার পরে তাদের পুরোনো প্রেম নতুন করে জল হাওয়া পেয়ে চাগিয়ে ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক। শুনেছি, লাং ফিস নামক একপ্রকার আযদাহা মৎস আছে। যা এমনকি কয়েক বছর ধরে শুকনো ইটের মধ্যে হাইবারনেট হয়ে বেঁচে থাকে। তারপর একদিন বৃষ্টি নামলে সেই পানিতে ইট গলে গেলে লাংফিস আবার নয়া পানিতে খলবল করে বেরিয়ে আসে। আমাদের পরিবার, সমাজ, চায়ের দোকান. শিক্ষায়তন ও রাষ্ট্রে রাজনীতির যে ভূয়সী চর্চা হয়, তাতে হাত ও মাথা-দুটোই পাকানো খেলুড়েরা অফিসে পলিটিকস করবেন-তাতে আর আশ্চর্য কী?

আট; বিভাগীয় প্রধানগন, বিশেষত এইচআর বিভাগ, এনারা একধরনের আরোপিত পলিটিক্যাল একটিভিস্ট হিসেবে পরিচীতি পান। সেটা হল, এইচআরের দায়ীত্ব, কর্মক্ষেত্র এবং কাজের পদ্ধতি নিয়ে এমনিতে কর্মীরা খুব বেশি অবগত থাকার কথা নয়। ফলে, এইচআর বিভাগের কর্মীরা তাদের প্রথাবদ্ধ কাজ করলেও সেটি যদি এক বা একাধিক কর্মীর স্বার্থহানি ঘটায় বা ঘটাবার উপক্রম করে, তাহলে কর্মীদের মধ্যে ধারনা জন্মে, এইচআর বসে বসে গুটিবাজি করে। ফলাফল, “এইচআরও অফিস পলিটিকস করে।” মনে করুন, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের এইচআর প্রধান। আপনি করেন বা না করেন, আপনার কাষ্টমার, অর্থাৎ সকল কর্মীরা, যারা আপনাদের কাজের ইমপ্যাক্ট গ্রূপ, তারা আপনার সকল কর্মকান্ডকে সবসময় ইতিবাচকভাবে নিতে পারবেনই-সেটি গ্যারান্টেড নয়। ফলাফল-আপনি গুটিবাজ। হা হা হা। কী আর করা বলুন? মহামতি Aristotle বলেছেন, “Man is political animal”-মানুষ রাজনৈতিক পশু। আর তাই প্রোফেশনালরা বাই বর্ন অফিস পলিটিকসের খেলুড়ে।

অফিস পলিটিকসের ক্ষতিকর দিক নিয়ে খুব বেশি বলার দরকার পড়বে না। কারন, বাংলাদেশের পেশাজীবি মানুষ মাত্রই এর রূপ সূধা পানে অভিজ্ঞ। তারপরও বলছি, অফিস পলিটিকসের জন্য চুড়ান্ত বিচারে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মাইগ্রেশন বৃদ্ধি, টীম স্পিরিটের অবনতি, দাম্পত্য কলহ (টীমে বা টীমটীমে), সম্পর্কের অবনতি, কাজের ক্ষতি, হানাহানি, মারামারি এমনকি খুনোখুনিরও ঘটনা ঘটে যায়। মাঝখান হতে মালিক বেচারা ও তার প্রতিষ্ঠান ”পাটা পুতার ঘষায় মরিচের দফা শেষ”।

অফিস পলিটিকসের আরেক খালাতো ভাই আছে কর্পোরেটে-যার নাম মুরব্বীতন্ত্র বা পীরবাদ। অফিস পলিটিকস নিয়ে কথা বলতে হলে এই খালাতো ভাইকে পরিচয় না করিয়ে দিলে ’কাহানী ঘার ঘারকি’ পূর্ন হবে না। না না, তাবলীগের মুরব্বী না, যেটার কথা বলছি, সেটা হল কর্পোরেট পীরবাদ। মুরব্বীতন্ত্র বাংলাদেশে নতুন জিনিস নয়। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়-সব জীবনেই আমাদের দেশে মুরব্বীতন্ত্র খুব প্রচলিত। এই প্রথা অনেক পুরোনো। দেখা যেত, পাড়ার সবচেয়ে টাউট ও বদমাশটাও এলাকার মুরব্বীকে দেখলে দুই হাত পশ্চাৎদেশে প্রবেশ করিয়ে ‘সামকুম চাচা’ বলে বানমাছের মতো বাউলি কেটে পাশ দিয়ে চলে যেত। রাষ্ট্রীয় জীবনেও বিভিন্ন সময়ে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মুরব্বীর উত্থান ও ‘ক্ষণপতন’ দেখে অভ্যস্ত। মরহুম এ্যাশ্যাদ চাচার মুরব্বী ছিল আটরশির পীর।

যাহোক, ‘দ্যাশ’ ও সমাজ নিয়ে আমার খুব মাথাব্যথা নেই। তা ধরুক, যে যাকে মুরব্বী হিসেবে পছন্দ। বলছিলাম, প্রতিষ্ঠানের কথা।

আমাদের দেশে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেও মুরব্বীতন্ত্র প্রচলিত আছে। বেশ ভালভাবেই। বিশেষত একটু ট্রাডিশনাল প্রতিষ্ঠানে একজন, দুজন মুরব্বী থাকবেই। প্রতিষ্ঠানে এই মুরব্বীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দাপুটে। প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত প্রণয়ন ও শাসন বারনে তাদের প্রভূত ক্ষমতা থাকে। [সেটা ভাল না মন্দ-তা চট করে মন্তব্য করে বসাটা ভুল হবে। বিষয়টির আপেক্ষিকতা ও বাস্তবতা বহুমূখী।] তবে সমস্যার যায়গা একটা আছে। তা হল, এই মুরব্বীদের প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা খুবই সমীহ বা কদর করেন। সেই প্রথাটি অনেক সময়ই নেতিবাচকভাবে কাজ করে। এই মুরব্বীরা প্রতিষ্ঠানের টপ ম্যানেজমেন্টকে ভুল পথে চালিত করার প্রভূত সুযোগ পান। [ঠিক যেমনটা পান প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করারও অনেক সুযোগ।] এদের কেউ কেউ টপ ম্যানেজমেন্টকে নানাভাবে প্রভাবিত করে আত্মস্বার্থ হাসিল করার পাশাপাশি নানা জনকে নিজের মর্জিমতো সাইজ করার মতো কাজও করেন। মালিকরা নিজেদের অজান্তেই এই মুরব্বীদের দেখানো চোরাবালিতে আটকে যান। তাদের নেতিবাচক প্রভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। বহু বহু পরে হয়তো কখনো তা অনুধাবন করতে পারেন। কিংবা হয়তো পারেনও না। ততদিনে তার প্রতিষ্ঠান চোরাবালিতে গলাতক ডুবে ইয়া নফসি ইয়া নফসি করছে।

উফ, যাহোক, বয়স হয়েছে। আজকাল কথা বলা শুরু করলে আর খেই ধরে রাখতে পারি না। আমার পাগলা ঘোড়ারে, কই থাইকা কই লইয়া যায়?

একটু দ্রূত বলছি। অফিস পলিটিকস নির্মূল করবেন কী করে?

বলছি। তার আগে একটু টুক করে বলে রাখি, অফিস পলিটিকসের খান কতক ভাল দিকও আছে।

এক; অফিস পলিটিকস কর্মীকে আত্মরক্ষা শিখায়। সে না চাইতেও পলিটিকস মোকাবেলার ভিতর দিয়ে তারা রাজনীতিতে প্রভূত বৃৎপত্তি অর্জন করেন। ফলে চাকরিতে শক্ত করে গেড়ে বসতে পারেন।

দুই; অন্তত রিটায়ার করার পরে কিছু করে খেতে পারেন। আর সেই কারনেই তো, আমাদের আমলারা অবসরে যাবার সাথে সাথে বিশাল রাজনীতিক হয়ে যান। কিছু না পারলে অন্তত টকশোতে টকটক করে রাজনীতির রাজা উজির মেরে একখানা গরম খাম নিয়ে ঘরে তো ফিরতে পারেন। তাতে রুজি না হলেও রুটির পয়সাটা বেশ হয়ে যায়।

তিন; অফিস পলিটিকসে সবাই দৌড়ের ওপর থাকার কারনে এরা প্রতিষ্ঠানের মাটি খাবার সুযোগ পায় কম। প্রতিষ্ঠান নিরাপদে থাকে। হা হা হা।

মূল কথায় ফিরি:

এক; যোগ্যতা। জ্বি, প্রতিষ্ঠানে সার্বিকভাবে যোগ্য কর্মী নিয়োগ করুন। এবং প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতাকে সবচেয়ে আদৃত বিষয়ে পরিণত করুন। কাজ অনেকখানি এগিয়ে যাবে। এটা আমার পরীক্ষিত।

দুই; শিক্ষা ও শিক্ষণ, বিশেষত আধুনিক কর্পোরেট কালচার শিক্ষণের ব্যবস্থা করুন।

তিন; কর্মীদের কাজ ও দায়ীত্বের মধ্যে ব্যস্ত রাখুন। মাঝে মধ্যেই উড়াধূরা সবার জেডি কল করুন, কেপিআই নিয়ে বসুন।

চার; নিজে দায়ীত্ব নিয়ে আপনার কর্মীদের অফিস পলিটিকসে নামানোর মতো আত্মঘাতি কাজ বন্ধ করুন। বুমেরাং হবে সেটা।

পাঁচ; আক্ষরিকভাবে বলছি। অফিসের নানা জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসান।

ছয়; আক্ষরিকভাবেই একটি পারফেক্ট ও ফাংকশনাল অর্গানোগ্রাম, SOP, TOR, হাইয়ারারকি ল্যাডার, JD, KPI, L&D চালু করুন।

সাত; এমপ্লয়ী এনগেজমেন্ট ও জব স্যাটিসফ্যাকশন বাড়াবার জন্য ব্যবস্থা নিন।

আট; বোথওয়ে কমিউনিকেশন এবং অফিশিয়াল রিপোর্টিং চ্যানেল সৃষ্টি করুন।

নয়; বছরের শুরুতে আর শেষে AGM করুন আর সাফ কথায় জানিয়ে দিন, অফিস পলিটিকসের কোনো স্থান আপনার প্রতিষ্ঠানে হবে না।

দশ; আপনার কর্মীদের ক্যারিয়ার পাথ পরিষ্কারভাবে তাদের সামনে দৃশ্যমান করুন।

এগারো; রাজনীতির ভিতরে পলিটিকস ঢুকিয়ে দিন।

আমি ঠিক করেছি, এই লেখাটার কোনো উপসংহার টানব না। থাকুক এটি অসম্পূর্ন। কিংবা আপনাদের মন্তব্যগুলোই হবে এই লেখার উপসংহার। তবে হ্যা, এই লেখার শেষে বহুদিন পরে কয়েকটা ত্যানা কমেন্ট আগাম লিখে দিই:

এক; বস কি তাহলে অফিস পলিটিকসের শিকার হলেন?

দুই; আপনি নিজেই তো পলিটিকস করেন।

তিন; ভাই, কৌশলে আমলিগ সরকারের কথাটা এড়িয়ে গেলেন।

চার; বস, আপনি কি আমলিগ করেন?

পাঁচ; ”একমাত্র আমরাই দিচ্ছি প্রায় পানির দরে সব ইন্ডিয়ান থ্রি পিস। বিস্তারিত লিংকে।”

ছয়; “আপনাদের কেবল কথায়ই পাওয়া যায়। কাজের বেলায় নয়।”

সাত; বহু আগে লেখা আরেকটা ত্যনা: https://www.facebook.com/walidur.rahman1/posts/2234928133231848

বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলুন, “সক্রেটিস এরিস্টটল প্লেটো ভাই ভাই-এই লেখকের ফাঁসি চাই। হা হা হা হা হা হা হা।

#CAMP

মডেল: নাটের গুরু এরিস্টটল

ছবিয়াল: গুগল মামা

লেখার অনুলিপি করলে মূল লেখকের নাম উল্লেখ করে দিন। পাবলিক পোস্ট ভাগ (শেয়ার) করার জন্য অনুমতি কামনা নিস্প্রয়োজন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*