অফিস কেচাপ (কামন ড্যুড, একটু গেঁজাই)

Abdullah Al Fahad Rana

(ভূমিকাঃ

শোনো ঠিক শুরুর আগে ভূমিকাটা ছোট্ট করে জমিয়ে বলি,

যদিও অনেক বলার তবু খানিক কমিয়ে বলি,

চারিদিকে চলছে যা তা, বুঝলে পরে বুঝবে এসব,

সবাইকে তুষ্ট করা স্পষ্ট কথায় নয় সম্ভব।)

 

বুঝলা ড্যুড,  কন্সালটেন্সি ছাইড়া ভাইগা আবার চাকরি নেওনটা ক্যুল না ফুল এইডা মাথার মইদ্যে চেগায়া উঠনের কালে ডার্লিং পারভিন কইলো, “বুঝছি, ছুটা বুয়ার কাম ছাইড়া, পার্মানেন্ট বুয়া হইছো”।

তে আইজকা ২২শে নভেম্বর, রুদ্রে্র জন্মদিন পার হইছে ১ মাস ৬ দিন, তাও মনের মইদ্যে উড়ু উড়ু। উড়ু উড়ু নিয়া অফিস আইসা কামে থুক্কু কাজে দিলাম মন। আপাত রিপোর্টিং বস-এ সামনে আমার এই ক্ষোমা খানা প্রদর্শন পূর্বক কইলাম, আই তো রেডি হইচি।

তিনি কইলেন, আইছো? আসো।

আমি কইলাম, অহন আইতামনি?

তাঈন কইলেন, ইট্টুছখানি বাদে আইও।

আমি কইলাম, আইচ্চা, আই ওয়েটাইরাম, আপনে তাঈন ডাকৈন যেন আমরারে।

 

এরপর পর্যায় যাচ্ছে, শুরু হচ্ছে জেরোমিক কাল। আমি অপেক্ষায় আছি নাদের আলী। এদিকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করে চলেছে শিহাব, ওদিকে মনের মাঝে স্বজন হারানোর সূতীব্র কষ্ট নিয়েও  দূর্নীতি কমিয়ে চলেছে ইউসুফ, গর্ভ থেকে জন্ম নেয়ার অপেক্ষায় আছে আমাদের এক ওয়েলফেয়ারের সন্তান, কফি দিয়ে গেছে শামিম, অগণিত কাপড় কেটে চলেছে আইয়ুব, মার্বেল ড্রপ করে করে আমি টেষ্ট করে চলেছি অফিসের টাইলস, আর এই মহা যজ্ঞের মাঝে টুপ করে ডেভিড এসে ফিসফিসিয়ে বলে গেলো, “কতদিন আর এ জিবন?  কত আর এ মধু লগন”?

‘“দূরো আলার গরের আলা” ইমোশন তো ব্রেক মারিয়ালচে। তে জিগাইলাম, কাহিনী কিতা?’

তাঈনে কইলেন, এই যে টুমি কামের টাইমে কাজ না খরিয়া আকাম টুটাইটেছো, ঈটা কি বালা?

‘নাক খুটাইতে খুটাইতে, দাঁত খিচাইয়া কইলাম, আমি তো বালা না, বালা লইয়া থাইকো’।

ডেকো ড়ানা আমি আসিয়াছে একটা আলাপ খরতে। টুমি মাথা ঠান্ডা করিবে, টয়লেট থেকে ঘুরিয়া আসো।

 

২০ মিনিট পর…

টুমার বাথরুম ঠেকে আসতে এট্ট সুময় লাগে? কি খরিতাছিলা?

‘ডেভিড, ড্যুড, হ্যাভিং কোষ্ঠকাঠিন্ন, নাথিং নরমাল’।

হোয়াট ইজ দ্যাট কোষ্ঠকাঠিন্ন ইজ?

‘ইটস লাইক বোটলনেক, ড্যুড’।

এই কোষ্ঠকাঠিন্ন তো টুমাদের এভরিহোয়ার। হোয়াটস প্লান?

‘নো ড্যুড, কোষ্ঠকাঠিন্ন হ্যাপেন্স সামহোয়ার ইন বটমপার্ট বিফর দ্য আউটলেট’।

আঈনগাঈনফাকফ! বাট আই সী কোষ্ঠকাঠিন্ন ইন ইওর ইনলেট এন্ড সামহোয়ার ইন ব্রেইন অলসো।

‘বেডা কিতা মাতেরে বা’।

 

(জিগাইলাম, ঝাড়িয়া কাশো ড্যুড।

তার ঝারিয়া কাশা কফ জনগনের দাবিতে প্রায় প্রমিত বাংলায় বর্ণনা করিতেছি। যদিও ইহাতে আমার মাথার ঘাম পায়ে ফেলা লাগিতেছে তবু জনগনের দাবি বলে কথা।

একটা কথা বলতে শরম লাগে, জনগনের সুবিধার্তে আগেই বলি। দেশ বিদেশের বেশির ভাগ লোক অতি ভালোবাসায় আমাকে চতুষ্পদ হিসাবে বিবেচনা করার পাশাপাশি, কেউ কেউ সজ্ঞানে আমাকে ‘উস্তাদ’ হিসাবেও সম্বোধন করে থাকেন। )

“দ্যাখো উস্তাদ, তুমি আমাকে শিখায়ছো যে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির টিকে থাকার প্রথম তিনটি শর্ত হচ্ছে,

১। পার মিনিট লেবার কস্ট কন্সটেন্ট রাখা বা কমানোর জন্য ম্যানেজমেন্ট স্ট্রাটেজি ও সেই স্ট্রাটেজিতে কর্মীদের ভূমিকা নিশ্চিত করা।

২। ইফিসিয়েন্ট এমপ্লয়িদেরকে ধরে রাখা ও তাদেরকে ইফেক্টিভ করা।

৩। প্রোডাক্ট তৈরীর আগে ওয়ার্কারকে তৈরী করা।

তো, তোমরা ওস্তাদ, সস্তা লেবার! সস্তা লেবার!  হাঁক ছাড়িয়ে অনেকদিন তো গার্মেন্ট ব্যবসা চালাইয়া গেলে। আর কত?

ওস্তাদ রবি শংকরের ‘রছিয়া রাগ’-এর পর তোমাদের ‘সস্তা লেবার’ রাগটি বেশ মানিয়েছিলো। এখন তোমার ভিন্ন রাগে গাইছো।

“কোন রাগের কথা বলিতেছো ড্যুড?”

কেন, রাগ ‘বায়ার না দেয় টাকা’। মরমী শিল্পী তাপসের মত হাত পা ছুড়ে গার্মেন্ট সেক্টরের সবাই তো এখন এই রাগে তাদের ভোকাল কর্ড টিউন করে সারগাম করতেছে।

“ড্যুড, ইটস এ ফ্যাক্ট, এ জিরো পার্সেন্ট সিথেন্টিক, অল মোষ্ট জিরো পার্সেন্ট ফেক, হরিবলি মর্ডাণ এন্ড টাইম বাউন্ড ফ্যাক্ট”।

ওক্কে, আলোচনার খাতিরে আমি এটা মেনে নিয়া আরেকটু আগায়। দ্যাখো উস্তাদ, তোমার সেই এপ্লাইড ট্রেনিং পাগলে করেছে, ছাগলে করেছে, আমিও করেছি। সেখানে তুমি অনেকবার বলিয়াছো, দিন পাল্টাইছে। সস্তা লেবার-এর দিন শেষ। সস্তা লেবারের প্রতি ভরষা করা চরম বোকামি। কারণ “সস্তার তিন অবস্থা”। সস্তা লেবার একজন বায়ার খোঁজে কারণ সে তার সস্তা আইটেম গুলি করাতে চায়। এখন তোমাদের খরচ, সস্তা আইটেম দিয়া ব্যবসা করার তুলনায় বেশী হয়ে গেছে। অথচ তোমরা এখনো সেই সস্তা আইটেম করতে চাও অথচ টেকাটুকা চাও বেশী।

‘কিন্তু ডেভিড মিয়া, সস্তা আইটেম তো বায়ার সস্তায় বিক্রী করে না’।

কোন শ্যালক বলেছে? ২ ইউরো টি-শার্ট, ৯ ইউরো লেগিংস আর ১২ ইউরো জিন্স এর কথা ভুলিয়া গেছো।

মিনমিনাইয়া কইলাম ‘এই গুলা তো একসেপশন্স, একসেপশন্স কান্ট বী এন এক্সাম্পল ড্যুড”।

কথা সত্য, কিন্তু দেখো এমন একসেপশন দিন দিন বাড়িয়া চলিতেছে।

‘তা বাড়িতেছে, তাইলে কি বলিতে চাও’।

তোমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে নিজেরদের ঢোল পিটাইতেছো। সো চিপ লেবার ইজ নো মোর দ্য লিয়নেল মেসি ফর ইউ। তোমরা ওয়ার্ল্ডে সেকেন্ড গার্মেন্ট এক্সপোর্টার। তোমাদের স্ট্রাটেজিক সাপ্লায়ার-এর দিকে নজর দেয়া জরুরী। আর একটা বায়ারের স্ট্রাটেজিক সাপ্লাইয়ার হইতে অন্তত তিনটি বিষয় অত্যন্ত জরুরী

১। স্পেশাল প্রোডাক্ট

২। খুব উন্নত কোয়ালিটি

৩। স্পেশাল সার্ভিস

এখন বুকে হাত দিয়া কও, এই তিন বিষয়ে রেস্পেক্টে তোমাদের অবস্থান কোথায়?

কিছু দিন আগে তোমাদের একজন গার্মেন্ট জগতের লিডার বাংলাদেশকে আগায়া রাখার আলোচনায় প্রসেস অফ এলিমিনেশন পদ্ধতি এপ্লাই করিয়া দেখাইছিলেন যে অন্যান্য কম্পিটিটরদের চেয়ে তোমাদের গার্মেন্ট ভবিষ্যৎ সিরাম। কিন্তু একবারো উক্ত তিনটি বিষয়ে তোমাদের অবস্থান বর্ণনা করে নাই। হাইস্যকর!

এখন আসো তোমার বেল্টের নীচে একখান খোঁচা দেই। তোমরা নাকের সিকনি হাতায় মুছিয়া ম্যান মেশিন নিয়া খুব খাড়াইয়া দাড়াইয়া আদাজল খাইতেছো।

 

এদিকে আমি আমার টুলব্যাগ খানা দিয়া যথাসম্ভব বেল্টের নীচে মহামূল্যবান ডেভেলপমেন্ট ল্যান্ড এরিয়াকে বাউন্ডারি দিয়া পূণরায় মিনমিনাইলাম, “ড্যুড, তে আই কিত্তাম?”

ডেভিড কিঞ্চিত বিরক্ত হইয়া খিচকাইয়া উঠিলো, চিচিং ফাক ম্যান। তোমরা কেন মেশিন অপারেটর পেমেন্ট আর ননমেশিন পিউপল পেমেন্ট রেশিও বের করছো না? এরপর সেখান থেকে প্যারেটো এনালিসিস করো।

দ্যাখো, তোমরা পিউপল হায়ার করো ইফিসিয়েন্সি দেখে, পে করো ইফিসিয়েন্সি দেখে কিন্তু ইফেক্টিভ ইস্যু নিয়া তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই। যদি লোক কমাইতে চাও, পে স্কেল দেখো, জব লেন্থ এর সাথে ইফেক্টিভ রেট দ্যাখো, দেখবা সব সিরাম কিলিয়ার।

ব্যাই দ্য ওয়ে, প্রায় দুই ঘন্টা ধরিয়া তুমি আমার সাথে গেঁজাইতেছো, আমার ভালো লাগিতেছে কিন্তু তোমারে যে জন কাজের জন্য বুলাইতেছিলো, সেকি বুলাইছে?

“নো ড্যুড, হি ইজ প্রিটি মাচ বিজি ইন আদার মোর ইম্পোর্ট্যান্ট ইস্যু টু সেভ দ্য ওয়ার্ল্ড”।

এই যে তোমাদের আরেকটা বিষয়। দ্যাখো, আইফোন কিনিতে আমিও কিডনি বেঁচছি আর মানবতা ঠাঙাইতে যাইয়া তুমিও দান করছো। এর মাঝে স্টিভ মিয়ার কথা দুইজনেই শুনছি। সে কি যেন একটা বলছিলো!

“টেকা দিয়া ১৮+ লোক হায়ার করে, তাদেরকে কেমনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয় সেটা শেখানো বোকামী”।

ইয়েস, সামথিং লাইক দ্যাট এবাউট শিটিং ইন পেইড জব, গুড সেইড স্টিভ জবস। আই লাইক ইউ ম্যান, রেষ্ট ইন পিস!

“ড্যুড, বাংলায় বল্লে ভালো হয়”।

ডেভিড পূনরায় দাঁত খিচাইয়া কইলো, আমি স্টিভের সাথে কথা বলিতেছিলাম, সে কি বাংলা বোঝে?

যাউজ্ঞা, সামনের দিকে আউজ্ঞা। তো, তোমরা তো লীন করিতেছো। মনোজুকুরী, হিতোজুকুরী নিয়া কি অবস্থা? তোমার লীন শেখার তীর্থস্থান ইয়ংওয়ানে শুনিলাম খুব মনোজুকুরী, হিতোজুকুরী চলিতেছে?

আমি পূনরায় মিনমিনাইলাম, “ড্যুড কিয়েক্টাবস্থা। কিচু কতা থাকনা গুপন”।

একটা কথা বলো তো, তোমরা কি আদোই সুপারভাইজারদেরকে ম্যানেজমেন্ট-এর পার্ট হিসাবে স্বীকার করো?

“ইয়েস, হান্ড্রেড পার্সেন্ট, সয়্যার আপন অনটাইম শিপমেন্ট”।

তাইলে বলো, সুপারভাইজারদের স্কিল এবং এটিচ্যুড ডেভেলপমেন্ট নিয়া সামনের এক বছরে  তোমার প্লান কি?

“ড্যুড, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি”।

গ্রেট, এবার বলো, ওয়ার্কারদের স্কিল এবং এটিচ্যুড ডেভেলপমেন্ট নিয়া সামনের এক বছরে তোমার প্লান কি?

“ড্যুড, আমরা এটা নিয়েও কাজ করছি”।

বাই দি বাই জানিতে পারিলাম, তোমাদের দেশের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং টিম লোকজন নাকি মোশন ইকোনমি সম্পর্ক্যে তেমন কিছু জানে না?

“কেডা কইছে জানে না? জানে মানে, এবার তো আমাগো অপার বাংলার একজন বাঙালী বেডা আর হেথের বউ ইকোনোমিতে নোবেল পাইছে। ইউ নো নাথিং ড্যুড”।

ওয়েডনেসডে থার্সডে ফ্রাইডে, নাউ আই এম কিলিয়ার। যা হোক, তোমরা দেখি খুব অটোমেশন গিলিতেছো। চাইনিজদের অটোমেশন ব্যাবসা তো রমরমা।

“ড্যুড, ক্যান ইউ পুট সাম লাইট অন দ্যাট পয়েন্ট?”

ডেভিডে তার সেলফোনের আলো জ্বালাইয়া উক্ত পয়েন্টের উপর আলো ফেলিলো। এই যে, তোমরা দেখি ধপাধপ, সেন্সর বেজড থ্রেড ট্রিমিং ওভারলক মেশিন কিনিয়া ফেলিয়াছো, সুতা দেখি আবার ম্যানুয়াল ট্রিমিং করো।

“ড্যুড, ইটস ওয়ান কাইন্ড অফ মাসল এক্সারসাইজ, ইউ নো নাথিং”।

চিচিং ফাক ম্যান। তোমরা দেখি টেমপ্লেট সুইং মেশিন কিনিয়া, প্লাষ্টিক টেমপ্লেট কাটিয়া পরিবিশের বারোটা বাজাইয়া আবার নিজেরকে এনভাইরোনমেন্টালি রেসপনসিবল বলিয়া দাবি করিতেছো।

“ড্যুড, এইডা তো প্রোডাক্টিভিটি বাড়াইয়া দিছো সিরাম পরিমানে”।

তাই নাকি? তা কম্পারেটিভ এনালিসিস করিয়াছিলে তো?  টাইম ভ্যাল্যু অফ মানি এনালিসিস? নাকি শুধু কেবল ‘অমুক ফ্যাক্টরী এই মেশিন কিনিয়া প্রোডাকশন দিয়া, লোক কমাইয়া, এক্কেরে ফাডাইয়ালচে” এই মন্ত্র যপিয়া কিনিয়ালচো?

“ড্যুড, বলিলাম না, প্রোডাকশন বাড়িয়াছে, লোক কমিয়াছে”।

দ্যাখো উস্তাদ, ‘দ্য গোল’ আমিও পড়িয়াছি, তুমিও পড়িয়াছো। ভালো করিয়া খতিয়া দেখো তো, ওই মেশিন কিনিবার কারণে, পে-রোল থেকে কতজন কর্মী কমিয়াছে, যদি কমিয়া থাকে তাহাদের বেতন কত? ওই মেশীনের জন্য নতুন কতজন নিয়োগ পাইয়াছে? তাহাদের বেতন কত? কতটা মেশিন মেইন্টিনেন্স  থেকে কমিয়াছে? কত টুকু জায়গা ফ্যাক্টরি থেকে বাচিয়াছে? প্লাষ্টিক কেনা কতটুকু বাড়িয়াছে বা কমিয়াছে? সেট আপ টাইম কতটুকু কমিয়াছে? মেইন্টিনেন্স কস্ট কতটুকু কমিয়াছে? কস্ট অফ কোয়ালিটি কতটুকু কমিয়াছে? ইউটিলিটি কস্ট কতটুকু কমিয়াছে? পরিবহন কতটুকু কমিয়াছে?

‘এই ছেলে, তুমি এত প্রশ্ন করো কেন? তুমি কি সাংবাদিক?’

প্রশ্নের দেখেছো কি হে? তোমাদের রাজিব নূর-এর চেয়েও আমি দুটা প্রশ্ন বেশী করতে পারি। রেডি হও তাইলে। অনেকে দেখি ইদানিং লাইনের মাঝে কনভেয়ার বেল্ট খাইতেছে। তাহারা কি চার্লি চাপলিনের মুভি দেখে নাই, তাহারা কি দেখে নাই কিভাবে একটি মানুষ কেবল নাট টাইট দিতে দিতে একজন নারী অভিনেত্রী পোশাকের বিশেষ অংশে টাইট দিয়ে ফেলেছিলো। অতঃপর তাহারা দেখিতে পায়না যে অতি বিনয়ের দেশের মানুষের জীবন কিভাবে যান্ত্রীক জীবনে রুপান্তরিত হইয়া গিয়েছিলো। কসম সিফাতের! আর কসম সিফাতের ছোট্ট সংসারের! আরো কসম তার ছোট্ট খাট্টো শরিরের মাঝে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জ্ঞানের বিশাল বিস্তৃতীর! টেকা জলে ঢালবি, ঢাল বাপ, ঢালার আগে কম্পারেটিভ এনালিসিস আর টাইম ভ্যাল্যু অফ মানির মাইরে বাপ করে নিস। আর ভাল লাগে না রে, আঈন গাঈন ফাকফ!

‘আর ইউ ওকে ড্যুড?”

ওকে মানে সিরাম ওকে। গতকাল সন্ধ্যায় তোমার আলী হোসেন চাচার শিক কাবার খাইয়া পেটের মাঝে কিঞ্চিত মোচড় মারিতে থাকিতেছে, তবু ওকে আছি। যাইজ্ঞে যাক, আসল কথা ফিরে আসি। বলা নেই কওয়া নেই, এই অটো স্প্রেডার কেনো রে, এই ক্যাম কাটিং কেনো রে, বেল্ট কনভেয়ার লাগাও রে। ওরে বাবা, যে টাকা দিয়া এসব কিনিতেছো, তার কিছু অংশ আগে এইসব অটোমেশিন নিয়া যারা কাজ করবে তাদেরকে ডেভেলপ করো। তোমরা তোমাদের ২৫ লাখ টাকার গাড়ির ড্রাইভারকে যতটা কেয়ার করো, যতটা সুপারভিশন করো, যতটা টাকা দাও, সেই তুলনায় তোমাদের ২৫ লাখ টাকার মেশিনের অপারেটরের কি অবস্থা? এইবার ভাইবা দেখছো নুরু?

যা হোক, একবার দেখিলাম, মাত্র ৮ লাইনের ফ্যাক্টরির জন্য ক্যাম কাটিং কিনিয়া বসিয়াছে। কোন এনালিসিস নাই। সেই যখন তোমাদের দেশে প্রথমবার আসিলাম। দেখিলাম দেশের একজন খুব নামী দামী শিক্ষক, কনসালটেন্ট ও মালিক তাদের গোলা গলার গেঞ্জি বানানোর ফ্যাক্টরিতে আচমকা ওভারহেড বেল্ট কনভেয়ার লাগাইয়া বসিয়াছে।

“ড্যুড, প্রোডাকশন তো কিছুটা বাড়েই”।

উস্তাদ! হরতন ইফেক্ট কি গুলিয়া ভুলিয়া গিলিয়া হজমইয়া হাগিয়ালছো?

“ড্যুড, মাইন্ড ইওর ল্যাঙ্গুয়েজ”।

আমি আবার এখন কি বলিলাম?

“ঐ যে পচা কথা, হা***লচো?”

এইটা পচা কথা! এর আগে যে বহুবার অনেক আপত্তিজনক সেন্সরড লেভেলের কথা একটু ঘুরাইয়া বলছি, তখন তো কোন আপত্তি করো নাই?

“কোনটা ড্যুড?”

এটাই তোমাদের সমস্যা। তিতা ঔষধ তোমরা ছুড়িয়া ফেলো আর  ‘ওয়েল কোটেড’ হইলে তোমরা বিষ্ঠাও খাইতে পারো।

(পুনশ্চঃ লেখাটির সমস্ত প্লট, ঘটনা, সুচরিত্র, দুঃশ্চরিত্র, সময় বাস্তবিক। কাল্পনিক কোন কিছুর সাথে মিলে গেলে তা কাকতাল মাত্র এবং তার জন্য লেখক দায়ী নয়।)

Writer: Lean Student

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*