আসুন গার্মেন্টস শিল্পকে বাঁচাই

মোঃ সোহেল রানা 

আমাদের দেশের গার্মেন্টস শিল্প এখন খুব একটা সুখকর অবস্থায় নেই। কয়েকদিন আগে বিজিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক এর সাক্ষাৎকারে শুনলাম আমাদের দেশের গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান অবস্থানের কথা। ইতিমধ্যে (২০১৯ সাল) অনেকগুলো গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে যাচ্ছে অনেক মানুষ। যার ফলে বেকারত্ব বাড়ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিন যখন খবরের কাগজ পড়ি তখনই চোখে পড়ে গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান করুন অবস্থার কথা। বিগত বছরের চাইতে এই বছরে পণ্যের অর্ডার কমে গেছে অনেকাংশই। আবার এও দেখা গেছে যে, তৈরিকৃত পোশাক শিপমেন্ড করার পরেও বিদেশ থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পোশাক কারখানাগুলোতে বিগত বছরের চাইতে এই বছর শ্রমিক অসন্তোষ অনেকটা বেড়েছে। যার ফলে যথা সময়ে পণ্য রপ্তানিতেও বিলম্ব হচ্ছে। কিছু ট্রেড ইউনিয়ন তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন না করে উস্কানি দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের পায়তারা খুঁজছে। অথচ অবাক লাগে এই দেখে যে, এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের কারোও তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই!

“রোম নগরী যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশী বাজাচ্ছিল” বর্তমানে আমাদের অবস্থা  অনেকটা রোমেরই মতোই। সবাই চুপচাপ, তাকিয়ে তাকিয়ে ধ্বংস হতে দেখছি আমাদের প্রিয় এই তৈরী পোশাক শিল্পের। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ সহ আমাদের দেশে  এইচআর, এডমিন ও কমপ্লায়েন্স বিভাগে কর্মরত পেশাজীবীদের ছোট বড় অনেকগুলো সংগঠন রয়েছে। সংগঠনগুলো চাইলে মিলিতভাবে এই সমস্যার সমাধানের পথ বের করতে পারেন। আরএমজি সেক্টরে আমরা যাদেরকে গুরু ভাবি, অনেক সম্মান করি, যাদের একটি ডাকে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়। তারা পাশে থাকলে আমরা সবাই যেকোন চ্যালেঞ্জকে জয় করতে পারি এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অথচ পরিতাপের বিষয় তারাও কেন জানি বর্তমানে চুপচাপ রয়েছেন। স্যারেরা একটু ভেবে দেখুন আমরা চাইলে কি সম্মিলিতভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারিনা? প্লিজ আপনারা কিছু একটা করুন। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন আমাদের এই তৈরি পোশাক শিল্পকে। আপনারা এগিয়ে আসুন দেখবেন আপনাদেরকে পাশে থাকবে আমার মত অনেকেই। দেশ ও জাতির জন্য আপনাদের দিকনির্দেশনা যে বর্তমানে খুবই দরকার। আল্লাহ না করুন এই সেক্টর যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কোথায় যাবো আমরা?

এখনও সময় রয়েছে আসুন বিপর্যয় এর এই সময়ে সম্মিলিতভাবে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। তাহলে হয়তোবা লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকারত্ব থেকে রেহাই পাবে। আর এইচআর, এডমিন ও কমপ্লায়েন্স পেশাজীবীদের যে সংগঠনগুলো রয়েছে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত প্রচারণার পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান অবস্থাগুলো বেশি বেশি করে প্রচার করি তাহলে বিষয়টা সকলের দৃষ্টিগোচর হবে। আসুন প্রিয় শিল্পের এই ক্রান্তিকালে নিশ্চুপ না থেকে, আমাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যার যার অবস্থান থেকে এই তৈরী পোশাক শিল্পকে রক্ষার জন্য কাজ করি।

লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য- এইচ আর এন্ড কমপ্লায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*