শ্রম আইনে “শ্রমিক” এর সংজ্ঞা সার্বজনীনতা পরিপন্থী!(দ্বিতীয় কিস্তি)

এম. মাহবুব আলম

প্রথম কিস্তির লেখার পরে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, মতামত দিয়েছেন তবে সবারই মূল কথা ছিলো মালিক বাদে সবাই শ্রমিক আর এই নিয়েই এবারের পর্ব। এককথায় বলতে গেলে যিনি শ্রম দেন তিনিই শ্রমিক। একজন রিক্সাওয়ালা থেকে দিনমজুর, কারখানা থেকে কোম্পানি, কোম্পানি থেকে প্রতিষ্ঠান, যে যেখানে যেভাবেই শ্রম দেননা কেন তিনিই শ্রমিক তবে কর্মক্ষেত্র অনুযায়ী কিছু ভিন্নতা রয়েছে, যেমন একজন রিক্সাচালকও শ্রমিক তবে তিনি তার নিজের আয়ের উপরে নির্ভরশীল, তিনি যতক্ষণ রিক্সা চালাবেন সেটা ভাড়ায় হোক অথবা নিজের রিক্সা সম্পূর্ণ আয়ই তার।  আবার একজন দিনমজুর যিনি আজ একজনের কাছে কাল আরেকজনের কাছে এভাবে কাজ করেন এবং তার মজুরীও নির্দিষ্ট নয় যখন যার কাছ থেকে যা পারেন নেন, আবার একজন কারখানা বা কোম্পানির মালিক তিনিও শ্রম দেন তাই তিনিও শ্রমিক কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি কারো কাছ থেকে মজুরী নেন না, ব্যবসায়ের সম্পূর্ণ লাভ তার আবার লোকসানও তারই, তাই আমার লেখার প্রতিপাদ্য এই শ্রমিক শ্রেণী নয়, আমি যে শ্রমিক শ্রেণীর কথা বলতে চেয়েছি তারা হচ্ছেন শ্রম আইনের মজুরীর সংজ্ঞা অনুযায়ী নিয়োজিত শ্রমিক যারা কারখানা, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কাজে নিয়োজিত। তাহলে আগে জেনে নেই মজুরীর সংজ্ঞা – “ মজুরী অর্থ টাকায় প্রকাশ করা হয় বা যায় এমন সকল পারিশ্রমিক যাহা চাকুরীর শর্তাবলী, প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন, পালন করা হইলে কোন শ্রমিককে তাহার চাকুরীর জন্য বা কাজ করার জন্য প্রদেয় হয় (শ্রম আইন), “এই মজুরী মাসিক বা সাপ্তাহিক বা দৈনিক বা চুক্তিভিত্তিক বা পিসরেট অনুযায়ী যেকোনভাবেই নির্ধারিত হতে পারে” কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী (বিধিমালা)” তবে পূর্বেই উহা নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করতে হবে, তার মানে উভয়ের সম্মতিতে। এখানে মজুরীর যে সংজ্ঞা বলা হয়েছে সে হিসেবে মজুরীর বিনিময়ে শ্রম দেয়া সবাই শ্রমিক কিন্তু এক্ষেত্রে বাধ সেধেছে শ্রম আইনে শ্রমিকের সংজ্ঞায়, শ্রমিকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে “শ্রমিক অর্থ শিক্ষাধীনসহ কোন ব্যক্তি, তাহার চাকুরীর শর্তাবলী প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন, যিনি কোন প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরিভাবে বা কোন ঠিকাদার (যে নামেই অভিহিত হউক না কেন) এর মাধ্যমে মজুরী বা অর্থের বিনিময়ে কোন দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরী, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানীগিরি কাজ করার জন্য নিযুক্ত হন, কিন্তু প্রধানত প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না”। খেয়াল করুন প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না, এ পর্যন্ত যতটুকু না ঠিক ছিলো তার বাকীটুকু পার্থক্য গড়েছে ২০১৫ সালে বিধিমালায় এই তদারকি কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এর যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাতে। তদারকি কর্মকর্তা – অর্থ মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এমন কোন ব্যক্তি যিনি উক্ত ক্ষমতাবলে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের কোন শাখার কোন কাজের বা সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, কাজের মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা, শ্রমিকদের দিক নির্দেশনা প্রদান বা তদারকি করেন। প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি – অর্থ মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি যিনি উক্ত ক্ষমতাবলে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বা কর্মচারীদের নিয়োগ, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ, চাকুরীর অবসান বা চাকুরী হইতে অপসারণ, চূড়ান্ত পাওনাদি পরিশোধ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রণ কাজে নিয়োজিত।

এই মজুরীর সংজ্ঞা হিসেবে যদি একটি পোশাক কারখানার কথাই ধরি তাহলে একজন অপারেটর (যেকোনো মেশিনের) যেভাবে বেতন পান তেমনি একজন ম্যানেজার (যেকোনো বিভাগের) তিনিও তেমনি বেতন পান (মজুরী মেয়াদের কথা বলা হয়েছে পরিমাণ নয়) অথচ একজন অপারেটর শ্রমিক কিন্তু একজন ম্যানেজার শ্রমিক নন কেননা শ্রম আইন শ্রমিকের সংজ্ঞায় বলে দিয়েছে “কিন্তু প্রধানত [তদারকি কর্মকর্তা] বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবেন না”। এটি একটি বৈষম্য, শ্রমিকদের মধ্যে একটি পক্ষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বুর্জোয়া চিন্তাচেতনাও বলতে পারি। এখন যদি শ্রমিকদের এই দুই শ্রেণীর সংজ্ঞাও মেনে নেই, তাহলে আইন ও বিধিতে এক ধরণের শ্রমিকের কথা বলা আছে আরেক ধরণের শ্রমিকদের কথা বলা নেই সেকথা বলতেই হচ্ছে, যেমন একটি পোশাক কারখানার কথাই যদি বলি – সেখানে একজন অপারেটর তার বেতন কাঠামো, অন্যান্য পাওনাদি, সুযোগ সুবিধা যেমন ছুটি, নিয়োগ প্রক্রিয়া, চাকরিচ্যুতি সবকিছুই বলা আছে কিন্তু সেই পোশাক কারখানাতেই নিয়োজিত একজন সুপারভাইজার থেকে ম্যানেজার বা জেনারেল ম্যানেজার এর ক্ষেত্রে এ ধরণের কিছুই বলা নেই।

কোনো মালিক যদি কোনো ম্যানেজারকে বলেন “আপনি ছুটি পাবেন না” তাহলে তার কিছুই বলার নেই কেননা তার নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই শ্রম আইনের শ্রমিকের মতো হয়নি বলা যেতে পারে এটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। অথচ শ্রমিক শব্দের যে মূল বিষয় বস্তু, মূল ভাব সেটার সাথেই এর কোনো মিল নেই। অনেক সময় বলা হয়ে থাকে, যারা কায়িক পরিশ্রম করেন তারাই শ্রমিক, এখন এই কায়িক পরিশ্রমের সংজ্ঞা কি, সাধারণ ভাবে বলা যেতে পারে শরীরের শক্তি ক্ষয় করে যে কাজ করা হয় সেটিই কায়িক পরিশ্রম, তার মানে একজন অপারেটর শরীরের শক্তি ক্ষয় করে কাজ করেন কেননা তিনি মেশিন চালান, তাহলে যিনি সুতা কাটেন অথবা চেক করেন অথবা মার্ক করেন তিনিতো শরীরের শক্তি ক্ষয় করেন না, তাহলে তারতো শ্রমিক হওয়ার কথা না, এখন যদি বলেন সুতা কাটতে, চেক করতে বা মার্ক করতে শক্তি ক্ষয় হয় এটাও কায়িক পরিশ্রম এবং এই হিসেবে তিনি শ্রমিক তাহলে যিনি সুভারভাইজার বা ম্যানেজার সারাদিন কারখানার এক –পাশ থেকে আরেক পাশে দৌড়ঝাঁপ করেন, লেখালেখির কাজ করেন, কম্পিউটার/ল্যাপটপে কাজে করেন,এগুলোওতো কায়িক পরিশ্রমের কাজ তাহলে তিনিও শ্রমিক শব্দের মূল চেতনা অনুযায়ী শ্রমিক কিন্তু আইন অনুযায়ী না (উদাহরণ দেয়ার জন্য পোশাক শিল্প ও এর নির্ধারিত কিছু পদ পদবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তবে লেখায় সকল ধরণের এই বৈষম্য বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের কথাই বলা হয়েছে)।

শ্রমিকের এই সংজ্ঞা নিয়ে কিছুদিন আগে দেশের বরেণ্য  একজন শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ এর একটি লেখা পড়েছিলাম, যেখানে তিনি বলেছিলেন – “প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধিতে যেহেতু শ্রমিকের পাশাপাশি এই প্রশাসনিক তথা তদারকি তথা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে নিয়োজিতদের উল্লেখ রয়েছে অথচ তাদের নিয়োগ, চাকরির শর্ত, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ, চাকরীর অবসান বা চাকরি হতে অপসারণ, চূড়ান্ত পাওনাদি পরিশোধ প্রভৃতি কোন আইন বলে হবে তার কোনো সুরাহা আইন বা বিধিতে নেই সেহেতু এটি আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড, মানবাধিকার ও আমাদের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের নীতিমালা এবং আমাদের শ্রম আইনের প্রচলিত বিধানের পরিপন্থী”। তিনি স্থানীয় শ্রম আইন, আন্তর্জাতিক শ্রম আইন, সংবিধান এবং মানবাধিকার এর একজন বিজ্ঞ আইনজীবী তাই যথার্থই বলেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও বাংলাদেশের সংবিধান বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই তাই সীমিত জ্ঞানে এবং শ্রমিক শব্দের মূল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বলতে পারি এটি একটি বৈষম্য এবং ন্যায্য পাওনা অধিকার এর পরিপন্থী। যেকোনো প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে পোশাক কারখানার একটি পদবীর মৌখিক নাম স্টাফ, যারা নির্দিষ্ট বেতনে অনির্দিষ্ট ডিউটি করেন তারাই মূলত এই ষ্টাফ নামের জীব, এদের কিছু কিছু সুযোগসুবিধা শ্রমিকের মতো কিন্তু বেশীরভাগ নয়, যেমন এদের ডিউটি টাইম শ্রমিকদের মতোই, প্রবেশ প্রায় একত্রে কিন্তু বাহির হওয়ার ভিন্নতা রয়েছে কোম্পানি ও পদ অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতন মাসিক হিসেবে এদেরও তাই, শ্রমিকরা যখন বেতন পান এরাও তখনই পান (কিছু কিছু কোম্পানিতে স্টাফদের পরে দেয়া হয়) কিন্তু অন্যান্য সুযোগসুবিধা যেমন চূড়ান্ত পাওনায় এদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি কারখানা বা কোম্পানির দুটি ঘটনা উল্লেখ করতে পারি যেখানে বঞ্চিত বা বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এই “ষ্টাফ” নামের জীবদের শ্রমিকের অধিকার থেকে, যদিও তাদের নাম উল্লেখ করতে চাইনা। একটি কারখানার কথা জানি, যেটি স্থানান্তর এর প্রয়োজনে সকল শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিলো এবং তারা যাদেরকে শ্রমিক মনে করে তাদের সকলকেই আইন অনুযায়ী সকল পাওনাদি পরিশোধ করা হয়েছে কিন্তু বাধ সেধেছিলো এই ষ্টাফ নামের জীবদের ক্ষেত্রে, পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত কর্তৃক রায়ের মাধ্যমে কিছু কিছু পাওনাদি পেয়েছেন। খুবই সম্প্রতি আরেকটি কারখানা যেটিও স্থানান্তরের প্রয়োজনে ছাঁটাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সকল শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হলেও (একটি বড় মাপের সংগঠনের মধ্যস্ততার ফল) স্টাফদের পাওনাদি পরিশোধ করেনি এবং বলা হয়েছে যে, ষ্টাফ রা শ্রমিক নন । আবার যদি পোশাক শিল্পের সর্বশেষ মজুরী গেজেট দেখি দেখতে পাবো সেখানে “ক” পরিচ্ছদ ও “খ” পরিচ্ছদ নাম দিয়ে দুটি পরিচ্ছদ করে কিছু পদবী উল্লেখ করে মজুরী নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে কিন্তু সেখানে সুপারভাইজার, ম্যানেজার, জেনারেল ম্যানেজার, নির্বাহী অফিসার, ইনচার্জ এই ধরণের কোনো পদবির উল্লেখ করা হয়নি অথচ এগুলো সবই এখন স্থায়ী পদ যেকোনো পোশাক কারখানায়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় শ্রম আইন ও বিধিতে উল্লেখিত একমাত্র পদ “কল্যাণ কর্মকর্তার” কথাটি পর্যন্ত এই মজুরী গেজেটে উল্লেখ নেই, এই সুযোগে সরকার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শুনতে হয় মজুরী গেজেটে যে যে পদবী উল্লেখ আছে তারাই শ্রমিক তাদের মধ্যে থেকেই আবেদন করেন, যার একটি উদাহরণ প্রথম কিস্তিতে উল্লেখ করেছি। অনেক কথাই হলো, এবার অনুরোধের পালা। প্রথমে অনুরোধ যারা আইন বিধি তৈরি করেন তাদের উদ্দ্যশ্যে। আইন বিধি তৈরি করার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় মনে রাখা উচিৎ, এক – প্রয়োজনীয়তা, দুই – নীতিনৈতিকতা। এখানে কারো আবেদন নিবেদন বা ক্ষমতাগীরি অথবা চাপিয়ে দেয়ার বিষয় থাকা উচিৎ নয় কিন্তু সেই ২০০৬ সালে বাংলাদেশে শ্রম আইন ও ২০১৫ সালে শ্রম বিধিমালা আসার পর থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রয়োজনীয়তা ও নীতিনৈতিকতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি ক্ষমতাবান শ্রেণীর আবেদন নিবেদন তথা ক্ষমতাগীরি বা চাপিয়ে দেয়া নীতির আধিক্য। শ্রম বিধিমালা সংশোধনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এবারে আশা করবো বিধিমালায় উল্লেখিত তদারকি কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই সংজ্ঞা দুটি বিলুপ্ত করা হবে এবং যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মজুরীর সংজ্ঞা অনুযায়ী যে কেউ শ্রমিক অর্থাৎ “ শ্রমের বিনিময়ে যিনি মজুরী গ্রহণ করেন বা মজুরীর বিনিময়ে যিনি শ্রম দেন তিনিই শ্রমিক” এই সংজ্ঞাটি সংযোজনের পথ উম্মুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় অনুরোধ যেকোনো কারখানা বা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি সেই উদ্যেক্তা বা মালিকদের কাছে, বেশ কিছুদিন আগে “ফোর্বস” ম্যাগাজিন এর প্রচ্ছদে একটি লেখা পড়েছিলাম “Entrepreneurs Can Save The World” যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় “উদ্যোক্তারা পৃথিবী রক্ষা করতে পারেন” আমি অবশ্য বলি “Entrepreneurs Can Change The World” যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় “উদ্যোক্তারা পৃথিবী পরিবর্তন করতে পারেন” আর এটাই সত্য। উদ্যোক্তারাই পৃথিবীকে পরিবর্তন করেছেন, আজ পৃথিবীতে যা পরিবর্তন, উন্নয়ন তার বেশীরভাগটারই গর্বিত অংশীদার এই উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীরা আর উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীদের এই গর্বিত অংশের সমান অংশীদার শ্রমিকরা, সেই শ্রমিকদের বড় একটি অংশকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন, উন্নতি, সাফল্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেনা, তাই আপনারাই পারবেন এই বৈষম্য দূর করতে। পরিশেষে মে দিবস বা শ্রমিক সম্বলিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একটি কথা শুনি, মালিক শ্রমিক ঐক্য, যেটা কোনদিনই হবার নয় সেটাই আমরা বলি কেন হবার নয় আরেকদিন লিখবো তবে যেটি হবার সেটি বলুন “মালিক শ্রমিক সুসম্পর্ক”। ।। তাই মালিক শ্রমিকের সুসম্পর্ক এগিয়ে নিবে উৎপাদন, কারখানা বা প্রতিষ্ঠান এই আশাবাদ ।।

লেখক – ম্যানেজার (এইচ আর এন্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগ),  ইউনিফর্ম টেক্সটাইল লিঃ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*