অংশগ্রহনকারী কমিটি নির্বাচন এর রূপরেখা

মো: আমিনুল হক

গণতন্ত্রের সুচনা লগ্ন থেকে আজ অবধি কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত কোথাও গণতন্ত্র অপরিপূর্ণ, অখন্ড বা অভ্রান্ত চেহারায় আবির্ভূত হয়নি। ভবিষ্যতেও এমন হওয়ার সম্ভাবনা নাই। গণতন্ত্রের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হল, এটি সব সময় জনগনের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকে। ফলে কিছু মানুষের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যায়। যার ফলশ্রুতিতে এ ব্যবস্থায় সবসময় একটি সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বিরাজ করে। পাওয়া এবং না পাওয়া পক্ষগুলির মাঝে সংঘাত চলতে থাকে। রাজনৈতিক দল প্রত্যাশার এই বিরোধকে কতখানি দক্ষতার সাথে নিষ্পন্ন করতে পারে তার উপরই গণতন্ত্রের বিকাশ ও অগ্রযাত্রা নির্ভর করে। বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরেও গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সেক্টরে একটি সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ গঠণ করা সম্ভব। আর এ জন্য গণতান্ত্রিক উপায়ে অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনই হতে পারে একমাত্র মাধ্যম।

শ্রম আইনে বাধ্যতামুলক হলেও সরকারী পরিসংখ্যান বলছে ২০ শতাংশ পোশাক কারখানায় অংশগ্রহণকারী কমিটি এখন অবধি নাই। ২ হাজার ৪৯৫ টি কারখানা পরিদর্শন করে সাম্প্রতি এই চিত্র পেয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআএফই)। পরিদর্শনে পাওয়া গেছে মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলে অংশগ্রহণকারী কমিটিই মুলত শ্রমিকদের দাবী দাওয়া  মালিক পক্ষের নিকট তুলে ধরে। এছাড়া কারখানায় শ্রম আইন বাস্তবায়নেরও কাজ করে এ কমিটি। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন শ্রমিকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে, কিন্তু আইনানুযায়ী অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠণ মালিকের জন্য বাধ্যতামুলক। নিম্নে কিভাবে একটি কার্যকর অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করা যায় সে সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আইন থেকে কিছু কার্যক্রম ও করণীয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

অংশগ্রহনকারী কমিটি নির্বাচন এর রূপরেখাঃ আমরা অনেকেই সাধারনত  কোম্পানীতে ন্যায় সংগতভাবে অংশগ্রহণকারী কমিটির নির্বাচন করে থাকি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতে ক্রেতার চাহিদা কতটুকু বাস্তবায়িত হয় বা আসলেই তা কতটা কার্যকরী? বর্তমানে সত্য কথা বলতে আমরা প্রায়ই কপি পেষ্ট এর মাধ্যমে আইনগত এ কাজটি আন্দাজমত করে থাকি বা অন্য কোন কোম্পানীর কোন একটি ডাটা কপি পেষ্ট করে একটি কমিটি দাড় করাই। আইনের বাধ্যবাধকতা, চাহিদা, কারখানায় এটার প্রয়োজনীয়তা এগুলি বিবেচনা না করেই একটি খসড়া প্রদান করে থাকি। ক্ষেত্র বিশেষ আমাদের অডিটরগনেরাও এ ব্যাপারে স্বয়ং ভালভাবে যাচাই বাছাই না করে কারখানার ফেস ভ্যালুর উপরে ডিপেন্ড করে কন্সিডার করে থাকেন। গনতন্ত্র কোন ক্রুটিমুক্ত শাসন ব্যবস্থা নয়। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র প্রেমীরা যে আদর্শ-ধারার স্বপ্ন দেখেন তা আসলে অর্জন করা অসম্ভব।

মানবসম্পদ বিভাগকে কোন আইনের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই তা নিজেকে ভাল ভাবে আয়ত্ব করে নিতে হবে। নিজের মধ্যে এ আইন সংক্রান্ত কোন দুর্বলতা থাকলে তা অন্যর সাথে পরামর্শ বা আইনী বই পত্র ঘেটে নিজের দূর্বলতা দুর করে পরে তা কোম্পানীতে বাস্তবায়ন করতে হবে। একবার এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে বলে আমি মনে করি না।

অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ অংশগ্রহনকারী কমিটির নথিপত্র আমরা অডিটর এর কাছে দিয়ে দেই, এবং তাতে অধিকাংশ সময়ে কিছু না কিছু নথি বাদ থেকে যায়। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে বা মনে রাখা উচিত যে আসলে কি উপায় অনুসরন করলে আমরা একটি নির্ভুল অংশগ্রহনকারী কমিটির বাস্তবায়ন করতে পারি। আমার আজকের বিষয়বস্তু হচ্ছে  একটি নির্ভুল ও কার্যকরী অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের রুপরেখা।

একটি নির্ভুল অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের জন্য আপনি নিচের তথ্যগুলির প্রয়োগ করতে পারেন। আশা করি নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার কোন তথ্য উপাত্ত বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। প্রথমেই আপনি আপনার ফাইল কিভাবে সাজাবেন তার একটি সুচি তৈরী করে নিতে পারেন যেমন;

 

  • অংশগ্রহনকারী কমিটির গঠনতন্ত্র।
  • অংশগ্রহনকারী কমিটির সভার নোটিশ।
  • অংশগ্রহনকারী কমিটির সভার কার্যবিবরনী।
  • নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
  • নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সরকারী প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য শ্রম পরিচালক বরাবরে আবেদন।
  • নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এর সভার নোটিশ।
  • নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এর সভার কার্যবিবরনী।
  • নির্বাচনী তফসিল।
  • মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, জমাদান, যাচাই-বাছাই ও নির্বাচনের তারিখ সংক্রান্ত নোটিশ।
  • মনোনয়ন ফরম যাচই-বাছাই ।
  • চুড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষনা।
  • ভোটার তালিকা প্রকাশ।
  • নির্বাচন অনুষ্ঠান।
  • নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা।
  • নির্বচনী তফসিল অনুযায়ী অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়ন।
  • নব নির্বাচিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সদস্যগণের পদ বন্টন।
  • শ্রম পরিচালক বরাবরে অংশগ্রহনকারী কমিটি নির্বাচন এর সমুদয় নথিপত্র প্রেরণ।

 

অংশগ্রহনকারী কমিটির গঠনতন্ত্রঃ অংশগ্রহন কমিটি গঠন ঃ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২০৫ ধারা অনুসারে  কারখানায় অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য, অংশগ্রহনকারী কমিটির কাজ এবং এর গঠনতন্ত্র নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

অংশগ্রহন কমিটি গঠন এর উদ্দেশ্যঃ কোম্পানীর মালিক শ্রমিকের সকল ন্যায্য অধিকার এবং সুবিধাকে সদা-সবর্দা শ্রদ্ধা করে। তাই  কোম্পানীর মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সম্প্রীতি স্থাপন এবং উন্নয়নের  ধারাকে  অব্যাহত  রাখার  লক্ষ্যে  শিল্প  সম্পর্ক  অধ্যাদেশে  অংশগ্রহন  কমিটির  কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  এ  কমিটি উভয়পক্ষের অভিন্ন স্বার্থে বিভিন্ন সুপারিশ প্রণয়ন করে থাকে এবং মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে থাকে।

অংশগ্রহন কমিটির কাজ

১। শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস, সমঝোতা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো।

২। শ্রম আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৩।  শৃংখলাবোধে  উৎসাহিত করা, নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাস্থ্য রক্ষা এবং কাজের অবস্থার  উন্নতি বিধান  ও সংরক্ষণ এর ব্যবস্থা করা।

৪। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষন, শ্রমিক শিক্ষা এবং পরিবার কল্যান প্রশিক্ষন এ উৎসাহিত করা।

৫। শ্রমিক এবং তাহাদের পরিবারবর্গের প্রয়োজনীয় কল্যাণমূলক ব্যবস্থা সমূহের উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং

৬।  উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন,  উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং অপচয় রোধ করা এবং উৎপাদিত দ্রব্যের মান উন্নয়ন করা।

 

অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনঃ (১) “অন্যূন পঞ্চাশ জন শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন অথবা বছরে কোন এক সময় নিয়োজিত ছিলেন এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে মালিক উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরবর্তী ০৩ (তিন)  মাসের মধ্যে সেখানে একটি অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করিবেন”।

(২) “অংশগ্রহণকারী কমিটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ এর কম ও ৩০ এর অধিক হইবে না। অংশগ্রহণ কমিটি মালিক ও শ্রমিকগণের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে। উক্ত কমিটিতে শ্রমিকগণের প্রতিনিধির সংখ্যা মালিকের প্রতিনিধির কম হইবে না”।

যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ট্রেড ইউনিয়ন  কর্তৃক অংশগ্রহণ কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়নঃ (১) ধারা ২০৫ (৫) মোতাবেক “প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ অংশগ্রহণকারী কমিটিতে  শ্রমিকদের প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য মালিকের নিকট  প্রতিনিধিদের নাম ও বিবরণ তাহার নিকট হইতে অনুরোধ পাওয়ার দশ দিনের মধ্যে ৬৩ নং ফরমে পেশ করিবেন।

(২) ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের সময় যাহাতে  প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণী, শাখা, অথবা বিভাগসমূহ হইতে প্রতিনিধি মনোনীত হয়,  উহা নিশ্চিত করিতে হইবে। প্রতিষ্ঠানের কোন শ্রেণী, শাখা বা বিভাগে মহিলা শ্রমিক থাকিলে সেখানে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে  মহিলা শ্রমিকদের  মনোনয়ন প্রদানকে অগ্রাধিকার দিতে হইবে”।

অংশগ্রহণকারী কমিটিতে মালিকের প্রতিনিধি মনোনয়ন “প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাধারণত: প্রধান নির্বাহী এবং  বিভাগীয় অথবা শাখা প্রধানগণ বা কল্যাণ কর্মকর্তা মালিকের প্রতিনিধি হইবেন এবং যেখানে এইরূপ বিভাগ অথবা শাখা প্রধান নাই, সেখানে বিভাগ অথবা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কল্যাণ কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মালিকের প্রতিনিধি হইবেন। প্রতিক্ষেত্রে উক্ত প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইতে হইবে”।

 

অংশগ্রহণ কমিটিতে প্রেরিতব্য প্রতিনিধিদের নাম প্রকাশ “যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি ও ট্রেড ইউনিয়নের নিকট হইতে  মনোনয়ন পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে মালিক বিজ্ঞপ্তি মারফত অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করিবেন এবং সেই বিজ্ঞপ্তি নোটিশ বোর্ডে টানাইয়া দিতে হইবে এবং একই সঙ্গে যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি সহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন এবং  শ্রম পরিচালককে উহার কপি  প্রেরণ করিতে হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, পরবর্তী কোন সময় যদি যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়নের এইরূপ বিশ্বাসের কারণ ঘটে যে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে তাহাদের মনোনীত কোন প্রতিনিধি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন না বা শ্রমিক স্বার্থ পরিপন্থি বা কোন পক্ষপাতমূলক আচরণ করিতেছেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়ন উক্ত কমিটিতে নতুন মনোনয়ন পাঠাইতে পারিবে  এবং উক্ত মনোনয়ন পাওয়ার সাত (০৭) দিনের মধ্যে মালিক নতুন প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠন করিবেন”।

প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন না থাকিলে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি

“১.          যে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের কোন ট্রেড ইউনিয়ন নাই সেখানে গোপন ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে অংশগ্রহণ কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচন করিতে হইবে। মালিক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি সাটিয়া যথারীতি ঘোষনা দিয়া অংশগ্রহণ কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনের আহবান জানাইবেন। এই নির্বাচন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।

২.             নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং শ্রমিক  উভয়পক্ষ হইতে সমপরিমাণ সদস্য নিয়া মালিক বিজ্ঞপ্তি মারফত  একটি  নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করিবেন ঃ শর্ত থাকে যে, এই কমিটির সদস্যগণ  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিবেন না এবং মালিক প্রতিনিধি হিসাবে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে মনোনীত হইবেন না।

৩.            মালিক উক্ত কমিটিকে  নির্বাচন পরিচালনার  সকল আয়োজনে চাহিদামত সহযোগীতা প্রদান করিবেন। উক্ত কমিটির  প্রতিলিপি শ্রম পরিচালককে প্রেরণ করিতে হইবে , যেন তিনি প্রয়োজন মনে করিলে তাহার কোন কর্মকর্তাকে উক্ত নির্বাচন তত্ত্বাবধান করার জন্য প্রেরণ করিতে পারেন”।

 

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি “এতদুদ্দেশ্যে গঠিত কমিটি বিজ্ঞপ্তি মারফত প্রচার করে নির্বাচনের একটি তফসিল ঘোষণা করিবেন, যেখানে মনোনয়ন পত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার, চুড়ান্ত  প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও নির্বাচনী প্রতিক বরাদ্দসহ  নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিদির্ষ্টভাবে উল্লেখ থাকিবে।

 

শর্ত থাকে যে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনধিক ০৭ দিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দানের সুযোগ এবং প্রার্থিতা চুড়ান্ত হওয়ার পরবর্তী ৭ – ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করিতে হইবে”।

 

অংশগ্রহনকারী কমিটিতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার প্রার্থীর যোগ্যতাঃ

“(১)        যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক  শ্রমিক, প্রতিষ্ঠানে যাহার চাকুরী এক বছরের কম নহে তিনি অংশগ্রহণকারী কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করার  জন্য অনুষ্ঠিতব্য গোপন ব্যালটে প্রার্থী হইতে পারিবেনঃশর্ত থাকে যে,  কোন প্রতিষ্ঠানের বয়স এক বছরের কম হইলে নির্বাচনে প্রার্থীর চাকুরীর  মেয়াদ প্রযোজ্য হইবে না।

(২)           প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণী, শাখা, অথবা বিভাগসমূহ হইতে কত জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হইবে তাহা নির্ধারণ করিয়া দিতে হইবে। কোন  প্রতিষ্ঠানে  ৫০ জন মহিলা শ্রমিক বা মোট শ্রমিকের ৫% মহিলা শ্রমিক থাকিলে অবশ্যই মহিলা শ্রমিকদের মধ্য হইতে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে”।

 

ভোটারের যোগ্যতাঃ

“(১)  সাময়িক এবং বদলী শ্রমিক ব্যতীত অন্য সকল শ্রমিক যাহারা প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ০৩ (তিন) মাস চাকুরী করিয়াছেন, তাহারা প্রত্যেকেই অংশগ্রহণকারী কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিবেন।

(২) ভোটার তালিকার  প্রতিলিপি যুগপৎ নোটিশ বোর্ড এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য স্থানসমূহে প্রদর্শিত হইবে। ভোটার তালিকার একটি প্রতিলিপি শ্রম পরিচালক/রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স এর নিকট পাঠাইতে হইবে” ।

 

মনোনয়ন

“(১) যেকোন ভোটার অংশগ্রহণকারী কমিটিতে ক্রমিক ও প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে একজন যথার্থ যোগ্য ভোটারের নাম প্রস্তাব অথবা সমর্থন করিতে পারিবেন।

(২) ধারা ২০৫ (৬) মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সরবরাহকৃত মনোনয়ন পত্র ৬৪ নং ফরমে হইবে এবং তাহা প্রস্তাবক ও সমর্থক এবং প্রার্থী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

(৩) প্রত্যেক মনোনয়নপত্র মনোনয়ন দাখিলের নির্ধারিত দিবসে অথবা উহার পূর্বে প্রার্থী অথবা তাহার প্রস্তাবক অথবা তাহার সমর্থক কর্তৃক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নিকট দাখিল করিতে হইবে। কমিটি লিখিত স্বীকারপত্রের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করিবে”।

 

বাছাই

“(১) মনোনয়নপত্র নিরীক্ষাকালীন সময়ে প্রার্থীগণ নিজে বা তাহার প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী অথবা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য যেকোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।

(২) নির্বাচন কমিটি উপবিধি (১) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত সকল ব্যক্তির উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্রসমূহ পরীক্ষা করিবেন এবং যেকোন মনোনয়নপত্র সম্পর্কে কোন ব্যক্তি কোন আপত্তি উত্থাপন করিলে তার নিষ্পত্তি করিবেন।

(৩) নির্বাচন কমিটি যেকোন মনোনয়নপত্র বাতিল করিতে পারিবেন। যদি তাঁরা সন্তুষ্ট হন যে ঃ

(ক) প্রার্থী আইন অথবা  বিধি অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রতিনিধি হওয়ার অযোগ্য অথবা

(খ)  মনোনয়নপত্র জমাদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট  বিধির কোন নিয়ম মান্য করা হয়নি”।

 

নির্বাচনে ভোট দান

“(১) মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যে সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হইবে  এবং তাহাদের সংখ্যা যদি নির্বাচিতব্য প্রতিনিধির সমান হয় সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সকল প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করিবেন।

(২) যদি কোন শ্রেণী, শাখা, অথবা বিভাগে নির্ধারিত আসনের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হয় সেক্ষেত্রে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত তারিখে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) প্রত্যেক ব্যালটে প্রার্থীর নাম তার বিপরীতে ও বরাদ্দকৃত প্রতীক উল্লেখিত থাকিবে।

(৪) ভোট গ্রহনের সময়ে প্রার্র্থী অথবা তার প্রস্তাবকারী অথবা সমর্থনকারী অথবা প্রার্থী কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।

(৫) ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি প্রার্থীদের বা তার প্রতিনিধিদের সম্মুখে ভোট গণনা করিয়া ফলাফল ঘোষণা করিবেন এবং উপস্থিত প্রার্থীর বা তার প্রতিনিধির স্বাক্ষরসহ মালিকের নিকট প্রকাশ করিবেন”।

 

অংশগ্রহণকারী কমিটির  কর্মকর্তাগণঃ

“(১) প্রতিষ্ঠানের প্রধান হইবেন অংশগ্রহণকারী কমিটির চেয়ারম্যান এবং তিনি অংশগ্রহণকারী কমিটির সভাসমূহে সভাপতিত্ব করিবেন।

(২) শ্রমিকদের প্রতিনিধিগণ তাদের মধ্য থেকে সহ-সভাপতি  নির্বাচন করিবেন এবং তিনি সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩) পার্সোনেল অফিসার অথবা কল্যাণ কর্মকর্তা বা উক্তরূপ দায়িত্বপালনকারী কোন কর্মকর্তা কমিটিতে মালিক পক্ষের অন্যতম প্রতিনিধি হইবেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করিবেন এবং তিনি কমিটির সভার বিবরণী রাখার জন্য ও সভা আহবান করার জন্য দায়ী থাকিবেন”।

 

সভার নোটিশ কার্যবিবরণীঃ“সাতদিনের সময় দিয়া নোটিশ দেওয়া, জরুরী সভা ২৪ ঘন্টার নোটিশে করা অংশগ্রহণকারী কমিটির সকল প্রতিবেদন ও সভার কার্যবিবরনীর কপি সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি, কমিটিতে প্রতিনিধি আছে এমন প্রত্যেক ইউনিয়নের নিকট পাঠাইতে হইবে এবং শ্রম পরিচালকের নিকটও প্রেরণ করিতে হইবে।   অংশগ্রহনকারী কমিটি প্রতি দুই মাসে অন্ততঃ একবার সভায় মিলিত হইবে”।

সভার কোরামঃ“কমিটির প্রত্যেক পক্ষ হইতে শতকরা ৬০ ভাগ সদস্য উপস্থিত থাকিলে সভায় কোরাম হইবে। কোন সদস্য কমিটির চেয়ারম্যানকে পূর্বে অবহিত করা ব্যতিরেকে পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে কমিটিতে তাহার সদস্যপদ বাতিল  হইয়া যাইবে”।

 

কার্যকালের মেয়াদ

“(১) গঠনের তারিখ থেকে অংশগ্রহণকারী  কমিটির কার্যকালের মেয়াদ হইবে ২(দুই) বছর।

(২)  কমিটির মেয়াদ শেষ হইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে পরবর্তী কমিটি গঠন করিতে হইবে এবং নতুন কমিটি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কমিটি দায়িত্ব পালন করিবে।

(৩ ) কোন সাময়িক শূন্যপদ পূরণ করার উদ্দেশ্যে কোন সদস্য নির্বাচিত হইলে কমিটির মেয়াদের অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি সদস্য থাকিবেন”।

 

শূণ্যতাঃ “কোন শ্রমিক প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত না থাকিলে অথবা তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিলে অথবা কমিটিতে সদস্যপদ হারাইলে সেই শূন্য পদটি সংশ্লিষ্ট শ্রেণী, শাখা অথবা বিভাগ থেকে পূরণ করা হইবে।কোন ট্রেড ইউনিয়ন থেকে কারও সদস্যপদ পদত্যাগ বা বহিস্কার বা অন্য কোন কারণে শূন্য হইলে তিনি অংশগ্রহণকারী কমিটিতে তার পদ হারাইবেন। এইক্ষেত্রে উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন পুনরায় প্রতিনিধি মনোনীত করিবে।  অংশগ্রহণ কমিটির সভা অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মালিক প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিবেন”।

ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনঃ 

“(১) কোন প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইয়া থাকিলে উক্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা , বিভাগ বা অঞ্চলে যেখানে অন্যূন পঞ্চশ জন শ্রমিক নিযুক্ত আছেন সেখানে পৃথক অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করিবার জন্য মালিকের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবেন।

(২) উক্তরূপ সুপারিশ পাওয়ার পরে মালিক সুপারিশ অনুযায়ী উক্ত শাখা, বিভাগ বা অঞ্চলের জন্য পৃথক অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনের সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করিবেন।

(৩) প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য বিধি সমূহ ইউনিট অংশগ্রহণকারী  কমিটি গঠন ও উহার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য হইবে।

(৪) ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে উক্ত শাখা, বিভাগ বা অঞ্চলে অবস্থিত সদস্যদের মধ্য হইতে মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে।

(৫) যে শাখা বা বিভাগের জন্য ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইবে সেই শাখা বা বিভাগে নিযুক্ত আছেন এইরূপ শ্রমিকগণই কেবল উক্ত কমিটির সদস্য হইতে পারিবেন।

(৬) ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটির সকল প্রতিবেদন ও সভার কার্যবিবরণীর কপি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী কমিটির নিকট প্রেরণ করিতে হইবে”।

 

অংশগ্রহনকারী কমিটির সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ বাস্তবায়ঃ

“(১) অংশগ্রহনকারী কমিটির প্রতিটি সভা মোতাবেক সভার সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর মালিক বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জরুরীভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহন করিবেন। মালিক বা কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহন কমিটির পরবর্তী সভায় পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাইবেন।

(২) শ্রম পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংশগ্রহনকারী কমিটির সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য শিল্প/প্রতিষ্ঠানে যথারীতি বাস্তবায়িত হইতেছে কি না – তা পর্যবেক্ষণ, মনিটর ও ফলো-আপ করবেন। প্রয়োজনে আইনানুযায়ী ও প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অংশগ্রহনকারী কমিটির সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ সম্পর্কে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন”।

 

উল্লেখ্যঃ (আপনাকে অবশ্যই অংশগ্রহনকারী কমিটির গঠনতন্ত্র আপনার কোম্পানীর কর্তাব্যক্তি দিয়ে অনুমোদন করে নিতে হবে কর্তাব্যক্তি যদি বিদেশী হন তা হলে তাকে ইংরেজীতে অনুবাদ করে এর অনুমোদনআদায় করে নিতে হবে কোন ক্রমেই কর্তাব্যক্তির বোধগম্য বা বোধদয়ক ছাড়া আপনি গঠণতন্ত্র প্রকাশ করতে পারেন না যদি এর ব্যত্যায় হয় তা হলে আপনাকে অর্থাৎমানব সম্পদ ব্যবস্থাপককে পদে পদে বিপদে পড়তে হবে)

অংশগ্রহনকারী কমিটির সভার নোটিশঃ গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পরে আপনাকে একটি অংশগ্রহনকারী কমিটির সভার নোটিশ প্রদান করতে হবে। যা অনুমোদিত/প্রকাশিত হবে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের নামে।

নমুনা নোটিশঃ “তারিখ এতদ্বারা (কোম্পানীর নাম)-এর অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সকল শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, আগামী (সম্ভব্য তারিখ) ইং তারিখ রোজ (বার ও সময়) কারখানার (স্থান)।  অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে। উক্ত সভায় সকল শ্রমিক সহ বিভাগীয় প্রধানগণকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া যাইতেছে। ধন্যবাদান্তে, (ব্যবস্থাপকের নাম) (পদবী) (কোম্পানীর নাম) অনুলিপি ঃ

ক. পূর্ববর্তী অংশগ্রহনকারী কমিটির সকল সদস্য/সদস্যাবৃন্দ (যদি থাকে)।

খ. বিভাগীয়/সেকশান প্রধানগণ; অফিস কপি; নোটিশ বোর্ড।

 

সভার কার্য্য বিবরনীঃ

এই সভাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা। এ সভায় উল্লেখিত সব কিছুই আপনাকে সুন্দর করে লিপিবদ্ধকরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি যিনি গঠণতন্ত্র অনুমোদন দিয়েছিলেন।  সভাপতি সাহেব সকলের সু-স্বাস্থ্য কামনা ও কুষলাদি বিনিময় করে আজকের সভার বিষয়বস্তু তুলে ধরবেন। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক এ সভায় অংশগ্রহণকারী কমিটির যাবতীয় সুফল তুলে ধরতে পারেন। কারন অনেক শ্রমিকরা পিসি কমিটি সর্ম্পকে অবগত না ও থাকতে পারেন।

মাননীয় সভাপতি তার বক্তব্য তুলে ধরবেন, পাশাপাশি  নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের মতামত গ্রহণ করবেন। সব চেয়ে ভাল হয় যদি শ্রমিকরা তাদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত করেন। নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সাধারনত ম্যানেজমেন্টদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয়। সহকারী নির্বাচন কমিশনার শ্রমিকদের মধ্যে থেকে নিবার্চিত করতে হবে। সদস্য সচিব হিসেবে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক নিজে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য  প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নির্বাচন এ সভার মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে।

মনে রাখতে হবে এ সভায় অংশগ্রহনকারী শ্রমিকদের মধ্যে থেকে অবশ্যই প্রস্তাবক, সর্মথক, এবং মনোনীত ব্যক্তির নাম উঠে আসবে। এসকল প্রস্তাবক, সর্মথক ও মনোনীত ব্যাক্তির নাম, পদবী বিভাগ ও আইডি নং ছক আকারে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক সংরক্ষণ করবেন। পাশাপাশি এ সভা থেকে গৃহীত পদক্ষেপ/সিদ্ধান্ত সমুহ পরবর্তী সময়ে তা সভার কার্য্য বিবরনী হিসেবে নোটিশ বোর্ড এ প্রকাশ করবেন এবং শ্রম অধিদপ্তরে নথি হিসেবে প্রেরণ করবেন।

 

নির্বাচন পরিচালনা কমিটিঃ

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক (সদস্য সচিব) কর্তাব্যক্তির নামে একটি পূর্ণাঙ্গ “নির্বাচন পরিচালনা কমিটি” সভা আহবানের ২দিনের মধ্যে অনুমোদন নিয়ে তা নোটিশ বোর্ড এ প্রকাশ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সকলকে তাদের কমিটিতে পদ ও তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন। প্রয়োজনে কমিটি পরিবর্ধন, সংক্ষেপণ বা পরিবর্তন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক ইতিবাচক ভাবে  অনুমোদনকারীর অনুমতি নিয়ে  করতে পারবেন। সব দিক দিয়ে উৎকৃষ্ট একটি কমিটি গঠণকরে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট দায়িত্ব অর্পণ করবেন।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর কাজ হবে অতিসত্তর আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরে একটি নির্বাচণী কর্মকান্ড তদারকি করার  আবেদন পত্র প্রদান। অবশ্যই আবেদন পত্রে নির্বাচনের সময়, তারিখ, স্থান উল্লেখ থাকতে হবে। নমুনা হিসেবে নিচের ফরম্যাটটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

নমুনা আবেদন পত্রঃ “তারিখ ঃ বরাবর, শ্রম পরিচালক, (আঞ্চলিক অধিদপ্তরের ঠিকানা)। বিষয় ঃ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ২০৫ ধারা অনুসারে অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। জনাব, (কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের নাম) একটি ১০০% রপ্তানীমুখি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশ শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বর্তমান অত্র কারখানায় কোন শ্রমিক প্রতিনিধি না থাকায় বাংলাদেশ শ্রমিক আইনানুযায়ী অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠনের নিমিত্তে  বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-(অর্থবছর) গঠন করা হয়েছে। এতদ উদ্দেশ্যে নতুন অংশগ্রহনকারী কমিটির নির্বাচনের সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে আপনার প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনার সদয় অবগতির জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-(অর্থবছর) এর সদস্যগণের নামীয় তালিকা আপনার বরাবরে প্রেরণ করা হলো।  নিবেদক  (প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা) নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-(অর্থবছর)ইং (কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের নাম)। সংযুক্তি ঃ ০১। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (অর্থবছর)-এর সদস্যগণের নামীয় তালিকা”।

আঞ্চলিক অধিদপ্তরের নিকট আবেদন পত্র প্রদান করার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার অধিনস্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভা আহবান করবেন। এই সভার মাধ্যমে কিন্ত একটি পূর্নাঙ্গ নির্বাচনের ধারনা তৈরি করে নিতে হবে। কোন অফিসারের কি কাজ তা এ সভার মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ কমিশনার  নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বরাবর প্রেরণ করতে পারেন।

নমুনা নোটিশঃ “তারিখ ঃ এতদ্বারা (কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের নাম) এর অংশগ্রহনকারী কমিটির নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-(অর্থবছর)ইং এর সকল সদস্যগণের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, আগামী (তারিখ) ইং রোজ (বার/সময়) কারখানার সভা কক্ষে অংশগ্রহনকারী কমিটির নির্বাচন-( অর্থবছর)ইং এর বিষয়ে একটি অতি গুরুত্বপূর্ন সভা অনুষ্ঠিত হইবে। উক্ত সভায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি- (অর্থবছর) এর সকল সদস্যগণকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া যাইতেছে। ধন্যবাদান্তে, প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা  নির্বাচন পরিচালনা কমিটি- (অর্থবছর) ইং (কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের নাম)। অনুলিপি ঃ ক. নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (অর্থবছর)-এর সদস্যবৃন্দ; খ. বিভাগীয়/সেকশান প্রধান; গ. অফিস কপি; ঘ. নোটিশ বোর্ড”।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভার কার্য্য বিবরনীঃ শ্রম অধিদপ্তরের নিকট প্রেরণের জন্য এবং শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তাদের নিকট নির্বাচন বিশ্বাস যোগ্য করে গড়ে তুলতে অবশ্যই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভার কার্য্য বিবরনী প্রকাশ করবেন। অতি সুবিধার জন্য পাঠকগণ নিচের নমুনা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভার কার্য্য বিবরনী অনুসরন করতে পারেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভার কার্য্য বিবরনী নমুনাঃ “(তারিখ) গত (তারিখ) ইং রোজ (বার, সময়) (কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের নাম)  এর  সভা কক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-(অর্থবছর) ইং এর সকল সদস্যগণের উপস্থিতিতে একটি অতি গুরুত্বপূর্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার আলোচ্য বিষয়ঃ অংশগ্রহনকারী কমিটি নির্বাচন-(অর্থবছর) ইং এর ভোটিং পদ্ধতি, আচরন বিধি, প্রার্থীদের যোগ্যতা, ভোটারদের যোগ্যতা, ভোট প্রদান পদ্ধতি,  মনোনয়ন ফরম বিতরন এবং জমা প্রদানের পদ্ধতি, মনোনয়ন ফরম বিতরন এবং জমাপ্রদানের তারিখ, নির্বাচনের তারিখ, ফলাফল ঘোষনা ও আনুসঙ্গিক বিষয় সমূহ। উপস্থিতিঃ অংশগ্রহনকারী কমিটির নির্বাচন-(অর্থবছর) ইং এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ।

সভার আলোচ্য বিষয় ও গৃহিত সিদ্ধান্ত সমূহ ঃ সভার শুরুতেই প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর নাম) প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত সকল সদস্যগণের সাথে পরিচয়পর্ব সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করেন। এর পরে সকল সদস্যগণ উম্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে সর্ব সম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহিত হয়।

ভোটিং পদ্ধতি ভোটারগন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে গোপন ব্যালটে ভোট প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করিবেন। মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ে যে সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হইবে এবং তাহাদের সংখ্যা যদি নির্বাচিতব্য প্রতিনিধির সমান হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সকল প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করিবেন। যদি কোন শ্রেণী, শাখা, অথবা বিভাগে নির্ধারিত আসনের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত তারিখে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হইবে। প্রত্যেক ব্যালটে প্রার্থীর নাম তার বিপরীতে ও বরাদ্দকৃত প্রতীক উল্লেখিত থাকিবে। মালিক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি সাটিয়া যথারীতি ঘোষণা দিয়া অংশগ্রহণ কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনের আহবান জানাইবেন। এই নির্বাচন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী তিরিশ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হইবে”।

অংশগহনকারী  কমিটির মেয়াদ অংশগহন কমিটির মেয়াদ হবে দুই বছর যা নির্বাচনী ফলাফল ঘোষনার তারিখ হতে গণনা করা হইবে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা অংশগ্রহন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন (০৩) মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন সম্পন্ন না হওযা পর্যন্ত বর্তমান অংশগ্রহনকারী কমিটি দায়িত্ব পালন করিবে।

নির্বাচনের আচরন বিধি অত্র নির্বাচন শুধু মাত্র  (কোম্পানীর নাম ও ঠিকানা)-এর অংশগ্রহন কমিটি-এর জন্য প্রযোজ্য হবে।

প্রার্থী আসন/কোটা বন্টন কোন সেকশান/ লাইন/ ইউনিট থেকে কতজন শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হইবে তা নির্ভর করবে আপনার কোম্পানীর মোট লোকবলের সংখ্যানুযায়ী ।  অংশগ্রহণকারী কমিটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ এর কম ও ৩০ এর অধিক হইবে না। মহিলা শ্রমিকদের মধ্য হইতে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখা হইবে। অংশগ্রহণ কমিটি মালিক ও শ্রমিকগণের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে। এই কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি সমান হারে নিযুক্ত হইবেন। একজন ভোটার সর্বোচ্চ একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে পারবেন। যে যে বিভাগে কাজ করেন সে সেই বিভাগে  প্রার্থীকেই শুধু ভোট দিতে পারিবেন। নির্দিষ্ট লাইন ছাড়া অন্য কোন লাইনে ভোট দেয়া অপরাধ হিসাবে গন্য হইবে। নির্বাচন চলাকালিন সময়ে সর্ব প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং উচ্ছৃংখল আচরন সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থী দ্বারা ভোটারকে কোন খাবার বা আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। টাকা কিংবা অন্য কোন প্রনোদনার বিনিময়ে স্বপক্ষে জনমত তৈরী করা যাবে না। কারখানায় কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের প্রলোভন বা প্ররোচনায় প্রার্থী হওয়া কিংবা তাদের পছন্দে কোন প্রার্থীকে ভোট দেয়া যাবে না।  জনমত নিজের স্বপক্ষে আনয়নে এরুপ কোন কাজ করা যাবে না যাহাতে ফ্লোরের কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। নির্বাচনী প্রার্থী এবং ভোটারদেরকে অবশ্যই অত্র কোম্পানীর এর শ্রমিক হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ব্যাতিরেকে কোন প্রার্থী যদি বহিরাগত কোন ব্যাক্তিকে নির্বাচনের দিন অত্র কারখানায় প্রবেশ  করান বা করানোর চেষ্টা করেন তাহলে তাহার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যে কোন নির্বাচনী আচরন বিধি ভঙ্গ করা অপরাধ। নির্বাচনী আচরন বিধি ভঙ্গের জন্য প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হতে পারে।

অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়ন  প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাধারণত: প্রধান নির্বাহী এবং  বিভাগীয় অথবা শাখা প্রধানগণ বা কল্যান কর্মকর্তা মালিকের প্রতিনিধি হইবেন এবং যেখানে এইরূপ বিভাগ অথবা শাখা প্রধান নাই, সেখানে বিভাগ অথবা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কল্যান কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মালিকের প্রতিনিধি হইবেন। প্রতিক্ষেত্রে উক্ত প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইতে হইবে।

 

প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতাঃ

০১. উক্ত নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে প্রার্থীর বয়স অবশ্যই ২১ বৎসর হতে হবে।

০২. প্রার্থীকে অত্র প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ০১ (এক) বৎসর কাজ করতে হবে।

০৩. প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে সর্বনিম্ন অষ্টম শ্রেণী।

 

ভোটার হওয়ার যোগ্যতা

১. সাময়িক এবং বদলী শ্রমিক (যদি থাকে)  বাদে যে সমস্ত শ্রমিক অত্র প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ০৩ (তিন) মাস কাজ করেছে তারাই শুধুমাত্র ভোটার বলে গন্য হবেন।

 

মনোনয়ন ফরম বিতরনের স্থান   প্রার্থীগণ স্ব স্ব হস্তে প্রশাসন বিভাগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন।

মনোনয়ন ফরম বিতরন  এবং জমা প্রদানের তারিখ: মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের জন্য সাত দিন সময় দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন ফরম যাচাই বাছাই: নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন ফরম যাচাই বাছাই করবেন। চুড়ান্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হবে।

 

নির্বাচনের তারিখঃ

(১) মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনধিক ৭ দিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দানের সুযোগ এবং প্রার্থিতা চুড়ান্ত হওয়ার পরবর্তী ৭ – ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা হইবে।

(২) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিবেন না এবং মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মনোনীত হইবেন না।

(৩) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রতিলিপি শ্রম পরিচালক বরাবরে প্রেরণ করিতে হইবে, যেন তিনি প্রয়োজন মনে করিলে তাহার কোন কর্মকর্তাকে উক্ত নির্বাচন তত্ত্বাবধান করার জন্য প্রেরণ করিতে পারেন।

(৪) নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি মারফত নির্বাচনের একটি তফসিল ঘোষণা করা হইবে, যেখানে মনোনয়ন পত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার, চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও নির্বাচনী প্রতিক বরাদ্দসহ  নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিদির্ষ্টভাবে উল্লেখ থাকিবে। (

৫) ভোটার তালিকার  প্রতিলিপি যুগপৎ নোটিশ বোর্ড এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য স্থানসমূহে প্রদর্শিত হইতে হইবে। ভোটার তালিকার একটি প্রতিলিপি শ্রম পরিচালক/রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স এর বরাবরে প্রেরণ করা হইবে।

 

মনোনয়নঃ

(১) যেকোন ভোটার অংশগ্রহণকারী কমিটিতে ক্রমিক ও প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে একজন যথার্থ যোগ্য ভোটারের নাম প্রস্তাব অথবা সমর্থন করিতে পারিবেন।

(২) নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সরবরাহকৃত মনোনয়ন পত্র ৬৪ নং ফরমে হইবে এবং তাহা প্রস্তাবক, ও সমর্থক এবং প্রার্থী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

(৩) প্রত্যেক মনোনয়নপত্র মনোনয়ন দাখিলের নির্ধারিত দিবসে অথবা উহার পূর্বে প্রার্থী অথবা তাহার প্রস্তাবক অথবা তাহার সমর্থক কর্তৃক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নিকট দাখিল করিতে হইবে। কমিটি লিখিত স্বীকার পত্রের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করিবে।

মনোনয়ন পত্র বাছাই

(১) মনোনয়নপত্র নিরীক্ষাকালীন সময়ে প্রার্থীগণ নিজে বা তাহার প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী অথবা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য যেকোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।

(২) নির্বাচন কমিটি উপবিধি (১) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত সকল ব্যক্তির উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র সমূহ পরীক্ষা করিবেন এবং যেকোন মনোনয়নপত্র সম্পর্কে কোন ব্যক্তি কোন আপত্তি উত্থাপন করিলে তার নিষ্পত্তি করিবেন।

(৩) নির্বাচন কমিটি যেকোন মনোনয়নপত্র বাতিল করিতে পারিবেন। যদি তাঁরা সন্তুষ্ট হন যে ঃ

(ক) প্রার্থী আইন অথবা  বিধি অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রতিনিধি হওয়ার অযোগ্য,

অথবা (খ)  মনোনয়নপত্র জমাদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট  বিধির কোন নিয়ম মান্য করা হয়নি।

নির্বাচনে ভোট গণনা ফলাফল ঘোষনাঃ ভোট গ্রহনের সময়ে প্রার্র্থী অথবা তার প্রস্তাবকারী অথবা সমর্থনকারী অথবা প্রার্থী কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি প্রার্থীদের বা তার প্রতিনিধিদের সম্মুখে ভোট গণনা করিয়া ফলাফল ঘোষণা করিবেন এবং উপস্থিত প্রার্থীর বা তার প্রতিনিধির স্বাক্ষরসহ মালিকের নিকট প্রকাশ করিবেন। নির্বাচনের পরের দিন তা নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হইবে। প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার নাম ) উপস্থিত সকল সদস্যগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন”।

নির্বাচনী তফসিলঃ প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি তফসিল ঘোষণা করবেন, যেখানে উল্লেখিত বিষয়গুলি অর্ন্তভুক্ত থাকবে। (

ক) মনোনয় ফরম সংগ্রহ এর তারিখ।

(খ) মনোনয় ফরম জমাদানের শেষ সময়।

(গ) মনোনয় ফরম যাচাই-বাছাই এর তারিখ।

(ঘ) চুড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষনার তারিখ ও সময়।

(ঙ) ভোটার তালিকা প্রকাশ এর তারিখ।

(চ) নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ (সময় নির্ধারণ শুরু এবং শেষ)

(ছ) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার তারিখ উল্লেখ।

 

মনোনয়ন পত্র গ্রহণের নোটিশঃ প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল সহ মনোনয়ন পত্র গ্রহণের জন্য একটি নোটিশ যার কপি ব্যবস্থাপনা পরিচালক; নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (অর্থবছর)-এর সদস্যবৃন্দ; অফিস কপি; নোটিশ বোর্ড; পি.এ সিস্টেমের মাধ্যমে ঘোষনার জন্য ফ্লোরে প্রেরণ বা প্রকাশ করবেন।

 

অংশগ্রহনকারী কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন ফরমঃ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ মোতাবেক ফরম ৬৪ এর আলোকে আপনাকে একটি মনোনয়ন ফরম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি একটির পর একটি সুন্দরভাবে প্রকাশ পাবে। প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, নির্বাচনকালীন আসন নম্বর বা শ্রেনী/শাখা/বিভাগ, একজন প্রস্তাবকারীর মন্তব্য ও তার  কারখানার বিবরণ (নমুনাঃ অংশগ্রহনকারী কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার জন্য আমি এতদ্বারা জনাব/জনাবা………পদবী ………আইডিনং…….সেকশন ……-এর নাম প্রস্তাব করিতেছি। প্রস্তাবকারী (স্বাক্ষর), (তারিখ)। একজন সমর্থনকারীর মন্তব্য ও তার  কারখানার বিবরণ নামঃ………,পদবী……..আইডিনং…….. সেকশান……। আমি উপরোক্ত প্রস্তাব সমর্থন করিতেছি। সমর্থনকারী (স্বাক্ষর), তারিখ। প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর মন্তব্য এর পরে প্রার্থী একটি সম্মতিজনক মন্তব্য করবেন, যেমন আমি প্রস্তাবিত মনোনয়নে সম্মতি দিচ্ছি। প্রার্থীর স্বাক্ষর ও তারিখ।

 

অংশগ্রহনকারী কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য আপনার মনোনয়নপত্র অদ্য (তারিখ )ইং বুঝিয়া পাইলাম মন্তব্য লিখে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা একটি নোট একই ফরমেটে লিপিবদ্ধ কওে রাখবেন। পাশাপাশি যাচাই বাছাই শেষে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা আরেকটি নোট প্রদান করতে পারেন, যেমন; অদ্য (তারিখ) ইং  প্রার্থী/প্রস্তাবক/সমর্থক/প্রার্থী কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সার্বিক যাচাই-বাছাইয়ের পর অত্র মনোনয়নপত্রটি গৃহিত হইল/হইল না।

 

চুড়ান্ত মনোনয়নঃ নির্বাচনী তফসিলের শর্ত মোতাবেক সার্বিক যাচাই-বাছাইয়ের পর শুধুমাত্র চুড়ান্ত বাছাইকৃত প্রার্থী/প্রার্থীণীদেও নামের তালিকা প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা নোটিশ বোর্ড এ প্রকাশ করবেন। এ নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। অবশ্য এর আগে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা সকল বাছাইকৃত প্রতিদ্বন্দ্বীদের  অংশগ্রহনে প্রতীক বরাদ্দ করার আহবান করতে পারেন। প্রতীক বরাদ্দ সাধারণত নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতীক সাদা কাগজের অংশে লিখে লটারির মাধ্যমে করাই শ্রেয়।

 

চুড়ান্ত নির্বাচনের ঘোষণাঃ প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা তার সহকর্মীদেও নিয়ে চুড়ান্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি তিনি একটি নোটিশ প্রকাশ করবেন। যার নমুনা এমন হতে পারে; তারিখ, এতদ্বারা  (কোম্পানীর নাম)-এ কর্মরত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কর্মীবৃন্দের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, গত  (তফসিল প্রকাশের তাং) ইং ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক অংশগ্রহনকারী কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্য নির্বাচনের তারিখ আগামী (নির্বাচন পরিচালনার তাং) ইং রোজ (বার)। এতদ উদ্দেশ্যে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক গত (মনোনয়ন জমাদানের তাং) ইং মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ পর্যন্ত যে সকল সংখ্যাক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে  নির্বাচন পরিচালনা কমিটি উক্ত মনোনয়ন জমাদানকারী সকলকে তাহাদের স্ব-স্ব আসনে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন । সংযুক্ত তালিকায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী সকল সদস্য/সদস্যাগণের নাম প্রকাশ করা হইল। প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি,  (কোম্পানীর নাম) সংযুক্তিঃ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সদস্য/সদস্যাগণের নামীয় তালিকা, অনুলিপি ঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক;  সকল বিভাগীয়/সেকশান প্রধান; শ্রম পরিচালক; নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (২০১৪)-এর সদস্যবৃন্দ; অফিস কপি; নোটিশ বোর্ড; পি.এ সিস্টেমের মাধ্যমে ঘোষনার জন্য ফ্লোরে প্রেরণ।

 

নির্বাচনঃ সাধারণ নির্বাচনের মত নির্বাচনের দিন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা আনুষঙ্গিক সকল দায় দায়িত্ব তদারকি করবেন। প্রয়োজন মোতাবেক ব্যালট পেপার কোম্পানীর সিল প্রদান  করে নির্দিষ্ট বুথে প্রেরণ, গোপন বুথ স্থাপণ, সুরক্ষিত ব্যালট বক্স তৈরী, ভোটার লিষ্ট প্রেরণ ইত্যাদি কাজ পূর্ব থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে।  নির্বাচনে আমন্ত্রিত অতিথীদের নির্বাচনী পরিবেশ পরিদর্শনের সুবিধা করে দিবেন। বিভিন্ন প্রকারের পরিদর্শক এখানে থাকতে পারেন যেমন, শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত প্রতিনিধি, ক্রেতার প্রতিনিধি, পার্শ্ববর্তী কোম্পানীর দাওয়াতকৃত প্রতিনিধি এবং বিজেএমইএ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইত্যাদি।  শ্রমিকদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি হলে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা কঠোর হাতে তা নিস্পত্তি করবেন। কোন অনিয়ম দেখা দিলে আইনানুযায়ী  প্রধান নির্বাচনী কর্মকতা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

 

নির্বাচন ফলাফলঃ নির্বাচনের নির্ধারিত সময় শেষ হলে  প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা তার নিজ দায়িত্বে সমস্ত ব্যালটবক্স একটি নির্দিষ্ট কক্ষে সংরক্ষন করবেন। পরবর্তীতে সকল নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সকল প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ব্যালট  বক্স খুলে তা গণনা করার পদক্ষেনপ নিবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে টালি প্রক্রিয়ায় ভোট গণনা করবেন। পরবর্তিতে ভোট সম্পর্কিত সকল তথ্য সংরক্ষণ করতে একটি ফরম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। নমুনা ফরম্যাটে যে সকল তথ্য থাকবে; ক্রমিক নম্বর, প্রার্থীর ব্যালট নং বা প্রতীক, প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকা বা বিভাগ, প্রার্থী গনের নাম, নির্ধারিত এলাকা বা বিভাগের মোট ভোটার সংখ্যা,  মোট প্রয়োগকৃত ভোটার (কাষ্টিং ভোট), প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা, প্রাপ্ত ভোটের আলোকে তার অবস্থান। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক ভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে পারেন। চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা নোটিশের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা প্রকাশ করবেন এবং শ্রম অধিদপ্তরে সংশ্লিষ্ট প্রমানাদি পেশ করার জন্য তা সংরক্ষণ করবেন।

 

মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নেরঃ শ্রমিক পক্ষের নির্বাচন পরিচালনার পরে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের ব্যবস্থা করবেন এবং তারই আলোকে কারখানার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একটি নোটিশ প্রদান করবেন। নোটিশের নমুনাঃ এতদ্বারা (কোম্পানীর নাম) এ কর্মরত সকল কর্মকর্তাগণের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, গত  (তফসিল ঘোষনার তাং) ইং ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলের শর্ত মোতাবেক অংশগ্রহনকারী কমিটির মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের উদ্দেশ্য আগামী (সভার তাং)  ইং রোজ (বার ও সময়) ঘটিকার সময় কারখানার প্রশাসনিক কক্ষে মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি অতি গুরুত্বপূর্ন সভা অনুষ্ঠিত হইবে। উক্ত সভায় সকল কর্মকর্তাগণকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া যাইতেছে। ধন্যবাদান্তে, ষ্টোর ম্যানেজার, প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। অনুলিপি ঃ বিভাগীয়/সেকশান প্রধানগণ; অফিস কপি; নোটিশ বোর্ড।

 

সভার কার্য্য বিবরনীঃ তারিখ, অদ্য (সভার তাং, সময় এবং কোম্পানীর নাম)  প্রশাসনিক কক্ষে অত্র কারখানার সকল কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে একটি অতি গুরুত্বপূর্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বচনী তফসিলের শর্ত মোতাবেক অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়ন। সভায় কিছু সংখ্যক সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যা নিম্নরুপ;

সভার আলোচ্য বিষয় গৃহিত সিদ্ধান্ত সমূহঃ  সভার শুরুতেই মাননীয়  সভাপতি (সভাপতির নাম ও পদবী) উপস্থিত সকল কর্মকর্তাগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অতঃপর তিনি বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলের আলোকে অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের  প্রস্তাব করেন। এর পরে সকল কর্মকর্তাগণ উম্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে সর্ব সম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে চূড়ান্তভাবে মনোনিত হন। মাননীয়  (সভাপতির নাম ও পদবী)  উপস্থিত সকল কর্মকর্তাগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা নোটিশ প্রদান করে একটি চুড়ান্ত কমিটি (শ্রমিক এবং কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে) ঘোষণা করবেন। নোটিশের নমুনা হতে পারে নিম্নরুপঃ

নোটিশঃ (তারিখ) এতদ্বারা  কোম্পানীর নাম) এ কর্মরত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কর্মীগণের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, নির্বাচনী তফসিলের শর্ত মোতাবেক অংশগ্রহনকারী কমিটির মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের উদ্দেশ্য গত (সভার তাং) ইং রোজ (বার ও সময়) মাননীয়  জি এম মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নিম্নলিখিত কর্মকর্তাগণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অংশগ্রহনকারী কমিটির মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে চূড়ান্তভাবে মনোনিত হয়েছেন। ক্রমিক নং, মনোনিত সদস্য/সদস্যাগণের  নাম, পদবী ও কমিটিতে পদবী উল্লেখ করতে হবে। ধন্যবাদান্তে, প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, অনুলিপি ঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক; শ্রম পরিচালক; বিভাগীয়/সেকশান প্রধান; নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এর সদস্যবৃন্দ; অফিস কপি; নোটিশ বোর্ড; পি.এ সিস্টেমের মাধ্যমে ঘোষনার জন্য ফ্লোরে প্রেরণ।

পূর্নাঙ্গ কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরঃ প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা শ্রমিক এবং কর্মকর্তাগনের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরে অবশ্যই অতি শীঘ্রই একটি সভার আয়োজন করবেন। উক্ত সভায় মাননীয় কর্তাব্যক্তিকে সভাপতির দায়িত্বভার দিতে হবে। সভার বিষয়বস্তু হতে হবে “সভায় নব নিবার্চিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সভাপতি, সহঃ সভাপতি এবং সদস্য সচিব নির্বাচন করা প্রসঙ্গে। নব নিবার্চিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সভাপতি, সহঃ সভাপতি এবং সদস্য সচিব নির্বাচন করার পরে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা তাদের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করবেন। পাশাপাশি তাদের কার কি দায়িত্ব তা বুঝিয়ে দিবেন। নোটিশের নমুনা হতে হবে নিম্নরুপঃ নোটিশঃ (তারিখ) এতদ্বারা (কোম্পানীর নাম) এর নব নির্বাচিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সকল সদস্য/সদস্যাগণের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, আগামী (সভার সম্ভাব্য তারিখ) ইং রোজ বার/সময় কারখানার মহাব্যবস্থাপক সাহেবের কক্ষে নব নির্বাচিত অংশগ্রহনকারী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন মাননীয় জি এম মহোদয়। উক্ত সভায় নব নিবার্চিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সভাপতি, সহঃ সভাপতি এবং সদস্য সচিব নির্বাচন করা হইবে। এতদ উদ্দেশ্যে উক্ত সভায় নব নির্বাচিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সকল সদস্য/সদস্যাগণকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া যাইতেছে। ধন্যবাদান্তে, প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, অনুলিপি ঃ নব নির্বাচিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সকল সদস্য/সদস্যাবৃন্দ; ব্যবস্থাপনা পরিচালক; বিভাগীয়/সেকশান প্রধান; নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এর সদস্যবৃন্দ; অফিস কপি; নোটিশ বোর্ড;

সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা একটি সভার কার্য্য বিবরণী প্রকাশ করবেন, যেখানে আলোচ্য বিষয়াবলী সুন্দরভাবে লিখিত থাকবে। সভার কার্য্য বিবরণীর নমুনা হতে পারে নিম্নরুপঃ  (তারিখ) অদ্য (সভার তারিখ) রোজ (বার/সময়) (কোম্পানীর নাম) এর  মহা-ব্যস্থাপকের এর কক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-এর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা এর সভাপতিত্বে নব নির্বাচিত  অংশগ্রহনকারী কমিটির সকল সদস্যগণের উপস্থিতিতে একটি অতি গুরুত্বপূর্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল “নব নির্বাচিত  অংশগ্রহনকারী কমিটির সকল সদস্যগণের পরিচয়পর্ব, নির্বাচনী তফসিলের শর্ত মোতাবেক নব নির্বাচিত  অংশগ্রহনকারী কমিটির সদস্যগণের পদ বন্টন, অংশগ্রহনকারী কমিটির সদস্যগণের দায়িত্ব-কর্তব্য”।

সভার আলোচ্য বিষয় গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহঃ অদ্য  কোম্পানীর নাম) এর অংশ গ্রহনকারী কমিটির সভা অত্র কারখানার মহা-ব্যবস্থাপকের এর কক্ষ্য অনুষ্ঠিত হয়। অত্র সভায় নিম্ন স্বাক্ষরকারী নতুন অংশগ্রহনকারী সকলেই উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় আলোচিত প্রধান বিষয়গুলি নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

১.প্রতিবারের ন্যায় এবারের অংশগ্রহণকারী কামিটিতে মাননীয় জি এম সাহেবের নাম উৎপাদন ব্যবস্থাপক (উৎপাদন ব্যবস্থাপকের নাম) সাহেব প্রস্তাব করায় ফিনিশিং ব্যবস্থাপক (ফিনিশিং ব্যবস্থাপকের নাম) তা সমর্থন করেন এবং মাননীয় জি এম (জি এম সাহেবের নাম) স্যার তাতে সম্মতি প্রকাশ করেন।

২.শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্য  থেকে  (যে কোন একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি) সহ-সভাপতি হিসেবে (যোগ্য প্রতিনিধি) এর নাম প্রস্তাব করবেন এবং (আরেক জন জন প্রতিনিধি) তা সমর্থন করবেন পাশাপাশি (প্রস্তাবিত প্রতিনিধি) সহ-সভাপতি হতে সম্মতি প্রকাশ করবেন।

৩.অত্র অংশগ্রহণকারী কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে জনাব, (ব্যবস্থাপক, মানব সম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স) এর নাম অথবা (কল্যান কর্মকর্তার নাম)যে কোন নির্বাচিত কর্মকর্তা প্রস্তাব করবেন এবং তাতে (অন্য আরেকজন নির্বাচিত ব্যাক্তি) তা সমর্থন করবেন এবং ব্যবস্থাপক, মানব সম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স/ কল্যান কর্মকর্তা সদস্য সচিব হতে সম্মতি প্রকাশ করবেন। উল্লেখ থাকে যে, সদস্য সচিব সাধারনত মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

৪.সভায় নব নির্বাচিত অন্যান্য সকল প্রার্থীদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। অদ্যকার সভা একটি পরিচিতি মুলক সভা হিসেবে অভিহিত করা হয় বিধায় অত্র সভায় কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে অচিরেই (চলতি মাসের মধ্যে) একটি কার্যকরী সভা আহবান করার নির্দেশ প্রদান করেন। সভায় সকল নব নির্বাচিত সদস্যদের তাদের দায়ীত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অভিহিত করা হয়। সভায় আর কোন আলোচনার বিষয় না থাকায় সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

উপরে উল্লেখিত সকল ডকুমেন্টস একত্রিত করে একটি বই আকারে বাঁধাই করে, অনুমোদনের জন্য আবেদন পত্র সহ কমিটির সদস্য সচিব শ্রম অধিদপ্তর বরাবর চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করবেন। পাশাপাশি সমস্ত ডকুমেন্টস এর একটি কপি শ্রম অধিদপ্তরের রিসিভিং স্বাক্ষর সহ মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপক  তার অফিসে সংরক্ষণ করবেন। যে কোন ইন্সপেকশন বা অডিটে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক এই ডকুমেন্টস উপস্থাপণ করবেন। অনুমোদনের নমুনা হতে পারে নিম্নরুপঃ (তারিখ), বরাবর, শ্রম পরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর বিষয় ঃ নব গঠিত অংশগ্রহনকারী কমিটি অনুমোদন প্রসঙ্গে। জনাব,  (কোম্পানীর নাম) একটি ১০০% রপ্তানীমুখি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশ শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গত  (তফসিলের তাং) ইং ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলের শর্ত মোতাবেক অংশগ্রহনকারী কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্য (নির্বাচনের তারিখ) নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক গত (তারিখ মনোনয়ন) পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট (মোট বাছাইকৃত প্রতিনিধি) জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়লে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি উক্ত মনোনয়ন জমাদানকারী সকলকে তাহাদের স্ব-স্ব আসনের বিপরীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সুস্থ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহনকারী কমিটি গঠন করা হয় এবং যার অনুমোদন প্রয়োজন। আপনার সদয় অবগতির জন্য নব গঠিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সমুদয় নথিপত্র আপনার বরাবরে প্রেরণ করা হইল। নিবেদক সদস্য সচিব (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক/ কল্যান কর্মকর্তা) সংযুক্তি ঃ ০১। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। ০২। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-এর সভার নোটিশ ও কার্যবিবরনী। ০৪। নির্বাচনী তফসিল। ০৫। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, জমাদান, যাচাই-বাছাই ও নির্বাচনের তারিখ সংক্রান্ত নোটিশ। ০৬। মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই ও চুড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষনা। ০৭। ভোটার তালিকা। ০৮। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা। ০৯। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী অংশগ্রহনকারী কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়ন। ১০। নব নির্বাচিত অংশগ্রহনকারী কমিটির সদস্যগণের পদ বন্টন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরে সদস্য সচিবের সহায়তায় মাননীয় মহা ব্যবস্থাপক চলতি মাসে অংশগ্রহণকারী কমিটির সকল সদস্যর সমন্বয়ে একটি সভা আহবান করবেন। কারখানায়  বিদ্যমান সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে ও গুরুত্বানুসারে এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান করাই এই কমিটির কাজ। প্রতি দুই মাসে একবার সভা আহবান করে, সভার কার্য্যবিবরনী সহ সকল অংশগ্রহনকারী সদস্যদের সভায় উপস্থিতির প্রমান সহ আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। যতবার সভা আহবান করা হবে ঠিক ততবারের নথিপত্র আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরে প্রেরণ করতে হবে এবং শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত রিসিভিং কপি অফিস ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে।

 

রানা প্লাজা ধ্বসের পর আমরা শুধুমাত্র দুটি দিকে বিশেষ নজর দিয়েছি। একটি হল কারখানার নিরাপত্তা অন্যটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠণ। নিরাপত্তার দিক দিয়ে বেশ উন্নতি হয়েছে। আগে দুর্ঘটনায় যেখানে ২০০ শ্রমিকের মৃত্যু হত, এখন সেটা ১০ এ নেমে এসছে। বাকি জায়গা গুলি এখনো নাজুক অবস্থায়। রানা প্লাজা ধ্বসের পর ২০১৩ সালে শ্রম আইন সংশোধনীতে অংশগ্রহণ কমিটি ও সেফটি কমিটি গঠণ করার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু কমিটিগুলো গঠন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকের মতামতের কোন প্রতিফলণ ঘটে না বিধায় কমিটি গুলো মুলত কাগুজে বা পকেট কমিটিতে পরিনত হয়েছে। আমাদের মালিকেরা এ দুটি কমিটিকে ইউনিয়নের বিকল্প হিসেবে দেখানোর চেষ্টায় লিপ্ত। ফলে এই কমিটিগুলি গঠণের উদ্দেশ্য প্রারম্ভে হোচট খেয়েছে বলে আমার ধারনা। রানা প্লাজা ধ্বংস থেকে আজ অবধি পোশাক শিল্পের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা তথা বিল্ডিং নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। শিল্পখাতের এ উন্নয়ন জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে কিন্ত এ পরিবর্তন টেকশই হবে না যদি শ্রমিকের অর্থনৈতিক অবস্থা, শ্রমিকের আইনগত সুরক্ষা এবং শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন বা অংশগ্রহণকারী কমিটি করার অধিকার নিশ্চিত না হয়।

লেখকঃ 

ব্যবস্থাপক,
মানব সম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স।
জালো নিটিং লিমিটেড
টি গার্ডেন রোড, মৌচাক, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*