পোশাকখাত শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ও এডমিন, এইচ আর ও কমপ্লায়েন্স পেশাজীবিদের চ্যালেঞ্জ

সুমন সিকদার

(আরএমজি জার্নাল সবসময় নতুন লেখকদের উৎসাহিত করে তারই ধারাবাহিকতায় এই লেখা প্রকাশিত হল। উল্লেখ্য লেখাটিতে লেখক তার ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করেছেন, যা কোনভাবেই কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয়।)

নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর নতুন ভাবনা আর নতুন নতুন পরিকল্পনায় ব্যস্ত এখন পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো। নূন্যতম মজুরী ৫৩০০ থেকে ৮০০০ হাজার। একজন সাধারন শ্রমিকের নিকট অনেক টাকা। চায়ের দোকানে বাকি পরে যাওয়ায় দোকানদার   যখন জিজ্ঞেস করবে টাকা কবে দিবে ঐ শ্রমিক বুক ফুলিয়ে বলবে ,“এবার তোমার টাকা দিয়ে দেব , সরকার বেতন বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছে”। তবে মালিকের নিকট শ্রমিকেরা কতটা পাবে তার সত্যতা প্রকাশ পাবে আগামি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে। মালিক পক্ষের কতজন এই বেতন কাঠামোর সাথে ব্যবসাকে মানিয়ে নিয়ে  সামনে চলতে পারবে তা ঐ প্রতিষ্ঠানের এইচ আর ও কমপ্লায়েন্সে নিয়োজিত কর্মীরা এখনই কিছুটা অনুমান করতে পারছেন। কারন এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে ৫৩০০ টাকার বেতন দিচ্ছে না । ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা কিভাবে নতুন বেতন কাঠামোর আশা করতে পারে ? ঐ সকল মালিকের ভাবনাও ভিন্ন।  তাদের চোখে তারা হাতেম তাইয়ের মতো অসহায়দের সাহায্য করছে। এছাড়াও তাদের দাবি হচ্ছে যেখানে ক্রেতা অথবা বায়ার তাদের বেশী প্রাইস দিচ্ছে না সেখানে তারা কিভাবে নতুন বেতন কাঠামো নিশ্চিত করবে?

একটি প্রতিষ্ঠানের এই দু’পক্ষের চিন্তাধারার মধ্যে পিশে যাচ্ছে ঐ প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত এডমিন, এইচ.আর এবং কমপ্লায়েন্স বিভাগ। অফিসের প্রতিটি দিন কোন না কোন শ্রমিক এসে বলে যে তার বেতন দিয়ে সংসার চলছে না।অন্যদিকে মালিক পক্ষ বলে যে , “উৎপাদন হচ্ছেনা  শ্রমিকের বেতন কিভাবে পরিশোধ করব?”। সাধারনত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন চিত্র দেখা যায়। কৌশলের সাথে তাদেরকে সমঝোতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এডমিন, এইচআর ও কমপ্লায়েন্স বিভাগ।  অথচ এই বিভাগটি পরে আছে অবহেলার মধ্যে । তাদের খোঁজ কেইবা রাখে! ২০ /২৫ বছর পড়ালেখা পর প্রাপ্ত এই সোনার হরিণ চাকুরীর সকল দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে অথচ তাদের মধ্যে কারোও কারোও বেতন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা! তবুও  তারা নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকার জন্য ও আসন্ন ঝড়ের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তারা। একদিকে মালিক এবং অডিট পরিচালনাকারী পক্ষ আর অন্যদিকে শ্রমিকের পাওনা। মালিককে খুশি রাখার জন্য অডিটরদের খুশি রাখার বিকল্প নেই।  আর অডিট এর ফলাফল কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের সাথে বেমানান হলে আবার শুনতে হবে “চাকুরি করার যোগ্যতা নেই”। ব্যপারটা দাঁড়ায় এমন যে মালিক তার উৎপাদনের জন্য যেভাবে খুশি কাজ করাবে আর সেক্ষেত্রে আইনে যাই বলুক না কেন লাভ নেই। আর এমতাবস্থায় শ্রমিকদের বোঝানো এবং অডিটরদের খুশী করার কাজটি এডমিন, এইচআর ও কমপ্লায়েন্স বিভাগকেই করতে হবে। মালিকদের এ ধরনের চিন্তাধারার মধ্যে শীল এবং পাটার মাঝে পড়ে থাকা বস্তুর মতো পিষে যাচ্ছে এই বিভাগটি। অথচ তার মধ্যেই আসছে নতুন কাঠামো। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে পারে হাহাকার। শ্রমিকের বেতন না দিতে পেরে বন্ধ হতে পারে প্রতিষ্ঠান । আবারও শ্রমিক তাদের ফ্যাক্টরীর সামনে দাড়িয়ে বলবে “৩ মাসের বেতন বাকি”। তাদের সাথে থাকবে শ্রমিক সংগঠন। কোন কোন শ্র্রমিকের সাথে কতিপয় শ্রমিক সংগঠনের চুক্তি করতে পারে এই বলে যে, “আমি বেতন উঠিয়ে দেব কত %  আমাকে দিবে?” বাড়বে বেকারত্ব । কর্মহীন সেসব মানুষগুলো জীবনের তাগিদে বেছে নিতে পারে অবৈধ পথে। এর সঠিক সামাধান কোথায়?

সরকার আইন করেছে মানুষের কল্যানের জন্য কিন্তু বাস্তবায়ন কতটা? আর সরকারের পক্ষ থেকে যারা মনিটরিং এ নিয়োজিত তারা কতটা কাজ করছেন? সরকারের একার পক্ষে কোন আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় তাই  নিয়োগ করেছেন অনেক শিক্ষিত বিশ্বস্ত মানুষ কিন্ত তারা জনগনের জন্য কতটা বিশ্বস্ত!

আমরা সাধারন মানুষ সৎ পথে উপার্জনকৃত সামান্যতেই খুশী। আমরা সর্বদা নিরাপদ , সুখ ও শান্তিময় বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। তাই আমি বিশ্বাস করি এডমিন,এইচআর ও কমপ্লায়েন্স বিভাগে কর্মরত সকলে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, নতুন বেতন কাঠামো সঠিক বাস্তবায়ন হোক, সকল কারখানা সচল থাকুক। সর্বোপরি  মালিক ও শ্রমিকদের জন্য আগামী দিনগুলি নিরাপদ,সুখ ও শান্তিময় হোক।

লেখকঃ ম্যানেজার (এইচ আর,আডমিন এন্ড কমপ্লায়েন্স), নাজমুল হোসিয়ারি (প্রাইভেট) লিমিটেড

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*