একজন সফল সংগঠকের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিৎ?

কাজী রাকিবউদ্দিন আহমেদ

একজন সংগঠক হিসেবে আমার কাছে নিম্নের দশটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মনে হয়:

১. ‘আমি ‘ নই, ‘আমরা’ চিন্তার মনন

২.  সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং নৈতিকতা ভিত্তিক কার্যক্রম

৩.  সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গী

৪..  বলিষ্ঠ আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুনাবলী

৫..  ক্ষমতায়ন করা

৬.  নিজস্ব গন্ডীর থেকে বের হয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করার মানসিকতা

৭..  জবাবদিহিতা

৮.  অন্যের সাফল্যকে প্রশংসিত করা

৯.  ভুল স্বীকার করা, দু:খ প্রকাশ করা ও প্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়া

১০. ধন্যবাদ দেওয়া

দু:জনক হলেও জাতিগতভাবে অনেক ক্ষেত্রেই ওপরের ১০টি বিষয়ের মধ্যে বেশিরভাগ বিষয়ই আমরা চর্চা করি না। । আমার বিশ্বাস এর একটি  প্রধান কারন হচ্ছে নিজের অক্ষমতা। এই অক্ষমতা বা দক্ষতার দুর্বলতাকে ঢেকে আমরা অনেকেই একজন সংগঠক হতে চাই,  নেতা হতে চাই। এ ধরনের সংগঠক বা নেতারা প্রচন্ড স্বার্থপর হন। কারিশমা দিয়ে, কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে তারা ক্ষমতা নিতে চান কিন্তু সংগঠনের আদর্শ বা মুল্যবিশ্বাসকে তারা তোয়াক্কা করেন না। প্রত্যেক কথায় তারা নিজের ব্যক্তিগত তথাকথিত সফলতার কথা তুলে ধরেন। অথচ একটি সংগঠনের মূল মন্ত্রই হচ্ছে একতাবদ্ধভাবে সফলতার কথা চিন্তা করা। সেখানে আমি বা নিজের অর্জন বলে কিছু নেই। সংগঠনের সদস্যরাই প্রকৃত সংগঠকের সামনে যথাসময়ে তার নেতৃত্বের জয়গাঁথা তুলে ধরবেন।

ঐতিহাসিক ভাবে আমরা রাজা এবং প্রজা এ মানসিকতা থেকে এখনো বের হতে পারিনি। রাজার জয়গান চলবে,  কিছু তৈল মর্দনকারি তাতে তৈল ঢালবেন আর আমাদের রাজার থেকে বুদ্ধিমান আর কেউ এ বিশ্বে নেই এটা নিয়মিত বলেই চলবেন কিছু তৈল মর্দনকারিরা। আমরা সংগঠনের স্বার্থ দেখবো, তার জন্য আত্মত্যাগ করবো এবং সময় মত যা কৃতিত্ব পাওয়ার তা পাবো (বা নাও পেতে পারি) এ চিন্তা থেকে তারা বিচ্ছিন্ন থাকেন বলেই তারা স্বার্থপর।

একজন প্রকৃত সংগঠককে সাংগঠনিক আদর্শের জন্য জীবন বাজী রেখেও অনেক সময় যুদ্ধে নামতে হয়। প্রতিকুল পরিস্হিতিতে অশেষ ধৈর্য এবং সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার মত দূরদর্শিতা থাকতে হয়। আমি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং ভারতের মহাত্মা গান্ধীর জীবন নিয়ে কিছু গবেষনা করেছি। তারা ওপরের প্রত্যেকেটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই বিশ্বেমাঝে শ্রদ্ধার পাত্র হয়েছেন। নেলসন ম্যানডালাও ঠিক এমনি আরেকজন ব্যক্তিত্ব।

একজন প্রকৃত সংগঠক কখনো তৃপ্তি পান না যে পর্যন্ত না প্রিয় সংগঠনের মূল স্বপ্ন বা আদর্শেকে বাস্তবায়িত করার আমুল প্রক্রিয়ায় নিজেকে সম্পূর্ণ জড়িত না দেখেন।এ বাস্তবায়ন অনেক সময় একটি সময় সাপেক্ষ ব্যপার। কিন্তু তাই বলে পৃথিবীর কোন জিনিষই একই স্হানে বসে থাকে না।

আর আমার ক্ষেত্রে সেই স্বপ্নের ও প্রিয়  সংগঠন হল BSHRM (বিএসএইচআরএম)। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এ মূহুর্তে সংগঠনটির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। যার সাথে বলা যায় প্রায় সৃষ্টি লগ্নের থেকেই আমি আছি। আমি এটি গঠন হওয়ার ১০/১২ (২০০২ সালে) দিনের মাথায় নিজেকে জড়াই। আমার মেম্বারশীপ আই ডি নং ৭। প্রথম দিক থেকেই আমি একজন আজীবন সদস্য, ২০০৯-১০ সালের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হই। প্রাক্তন এবং বর্তমান কার্য নির্বাহী পর্ষদের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছি।

সারা বিশ্বে মানব সম্পদ বিষয়টি একটি আধুনিক বিষয় এবং প্রতিদিন তা আধুনিকতর হচ্ছে। এই পরিবর্তনকে যেমন খোলা মনে গ্রহন করতে হবে তেমনি BSHRM কেও চলমান প্রক্রিয়ায় নতুনত্বকে আলিঙ্গন করতে হবে। এ বিশ্বের সব পেশাজীবি সংগঠন তার সদস্যদের কাছে কঠিন ভাবে দায়বদ্ধ। কেননা এটি কোন সাধারন ক্লাব নয় যে তাদের সব কর্মকান্ড শুধু আনন্দ আর ফুর্তির মিলনমেলার আয়োজনের মধ্যেই ঘোরপাক খাবে। কর্মসংস্থানে সহায়তা, দক্ষতা বৃদ্ধির পদ্ধতি, বিভিন্ন নীতিমালা প্রনয়ন, আইনি সহায়তা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসুচী, নতুন কোন উদ্ভাবনার পরিচিতি, ইত্যাদি বিষয়াদি হতে হবে প্রধান কার্যক্রম।

এই সংগঠনটির মুল আদর্শ আক্ষরিক অর্থে আরোও বেগবান করতে এবং সদস্যদের স্বার্থ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের আরোও জোড়ালোভাবে BSHRM এর সাথে জড়িত হতে হবে। BSHRM একটি আদর্শ সংগঠন হয়ে উঠবে এবং দেশের সব এইচআর পেশাজীবি তাদের প্রাণের এই সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে একাত্ম হবে একজন সংগঠক হিসেবে এটাই আমার কামনা।

উপরোল্লিখিত ১ থেকে ১০ র মধ্যে কোন বিষয়ই যেন একজন সংগঠক হিসাবে আমার কিংবা আপনার কাছ থেকে দূরে না থাকে তার জন্য আসুন সকলে একে অন্যের জন্য দোয়া করি।

লেখকঃ Head of Human Resource, Karnaphuli Fertilizer Company Limited (KAFCO)

ইমেইলঃ rakib1.ahmed@gmail.com

সেলফোনঃ ০১৭১৩০৬০০৮৬

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*