নিয়োগকর্তাঃ ইন্টারভিউ নেয়ার ক্ষেত্রে ১০ টি করনীয়

নূর-ই-আলম ফয়সল

আমরা বেশিরভাগ সময় চাকুরী প্রার্থীদের কিভাবে ইন্টারভিউ ফেইস করতে হবে তা নিয়ে বেশি প্রশিক্ষন দিই বা আলোচনা করি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন , একজন ইন্টারভিউয়ার হিসেবে আপনি কি কি দিকে গুরুত্ব দিবেন? আসুন আজ তা নিয়েই আলোচনা করা যাক-

১। চাকুরী প্রার্থীকে জানুনঃ

চাকুরী প্রার্থীকে জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হল তার সিভি পর্যালোচনা করা। তার সিভিতেই ফুটে উঠবে তার শিক্ষা, বেড়ে উঠা, সামাজিক কার্যক্রমের সাথে তার সম্পৃক্ততা ও আগ্রহ ইত্যাদি। যে ব্যপারটি আপনার সবচেয়ে বেশি দেখা উচিৎ তা হল শুন্য পদের জন্য সে কতটুকু যোগ্য।

২। ধীরে চলা নীতিঃ

চাকুরী প্রার্থীকে কোন প্রশ্ন করার আগে ধীরে চলা নীতি অনুসরণ করুন। তাকে চাকুরি নিয়ে কোন প্রশ্ন করার আগে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারেন। যেমনঃ “আপনার এখানে আসতে কোন সমস্যা হয়নি তো?” কিংবা- আমাদের অফিস খুঁজে পেতে কোন সমস্যা হয় নি তো? আপনার এমন আন্তরিক প্রশ্ন শুনে চাকুরী প্রার্থী একাধারে আপনার সাথে আন্তরিক হবে এবং আপনাকে আপন ভাবতে শুরু করবে। ফলে তার জড়তা কেটে যাবে।

৩। খোলামেলা প্রশ্ন করুনঃ

প্রথমেই চাকুরী প্রার্থীকে “হাঁ” বা “না” কিংবা এক বা দু শব্দে উত্তর করা যায় এ জাতীয় প্রশ্ন করবেন না। কারন সে প্রথমেই এসব প্রশ্ন আপনার কাছ থেকে আশা করে না। যেমন ধরুন- “ আপনার বর্তমান চাকুরিতে আপনি কোন পদবী তে আছেন?” তা না জিজ্ঞেস করে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন- “ আপনার বর্তমান চাকুরী সম্পর্কে কিছু বলুন”।

৪। মনোযোগ সহকারে শুনুনঃ

অনেকেই চাকুরী প্রার্থী কি উত্তর দিচ্ছে তা না শুনেই এমন একটা প্রশ্ন করেন যা চাকুরি প্রার্থী তার উত্তরে আগেই বলেছিলেন। এসব ক্ষেত্রে চাকুরী প্রার্থী বিব্রত বোধ করেন। তিনি মনে করেন আপনি তার কথার গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে করে সে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সে নেতিবাচক ধারনা পোষণ করবে। এ ক্ষেত্রে তার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং তাকে ধন্যবাদ দিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন করুন।

৫। একগ্লাস পানি রাখুনঃ

অনেক সময় চাকুরী প্রার্থী অজানা কারনেই ঘাবড়ে যান। এ সময় তাকে একগ্লাস পানি অফার করুন দেখবেন তা টনিকের মত কাজ করবে। তার টেনশন দূর হবে। সে আপনার সাথে কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করবে।

৬। একান্ত ব্যক্তিগত / পারিবারিক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুনঃ

অনেক সময় ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক প্রশ্ন করলে চাকুরী প্রার্থী বিব্রত বোধ করেন। ধরুন, আপনি একটি বহুজাতিক কোম্পানীর মানবসম্পদ বিভাগে আছেন। আপনি চাকুরী প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করলেন- “ আপনার বাবা কি করেন?” উত্তরে তার বাবা একজন রিক্সা চালক এটা তিনি আপনাকে বলতে খানিকটা বিব্রত বোধ করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি চাকুরী প্রার্থী কে নির্বাচন করতে এসেছেন যেখানে তার মেধা আর যোগ্যতাই আপনার মাপকাঠি হওয়া জরুরী। পারিবারিক ইতিহাস নয়।

৭। তাকে সন্মান করুনঃ

চাকুরী প্রার্থীকে কোন প্রশ্ন করা হলে যদি তিনি ভুল উত্তর দেন, তবে তাকে এমন কথা বলবেন না, যাতে সে অপমান বোধ করেন। তাকে আপনি আন্তরিকতার সাথে সঠিক উত্তর টি বলে দিন যাতে করে সে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। এতে করে সে ব্যক্তিগত ভাবে আপনাকে সম্মান করবে আর আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যপারে ইতিবাচক ধারনা পোষণ করবে।

৮। বেতন ও অন্যান্য ভাতা স্পষ্ট ভাবে শেয়ার করুনঃ

আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেকের কাছ থেকে জেনেছি বিভিন্ন চাকুরী প্রার্থী তার ইন্টারভিউতে কোম্পানীর প্রদত্ত বেতনাদি ও অন্যান্য যাবতীয় সুবিধা সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারনা নিয়ে অথবা নিজস্ব কল্পনাপ্রসুত ধারনা নিয়ে চাকুরিতে যোগদান করে। বেশির ভাগ সময় অনভিজ্ঞ চাকুরী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই এমন টা বেশি হয়। একজন ইন্টারভিউয়ারের উচিৎ চাকুরী প্রার্থীকে তার প্রতিষ্ঠানের সকল সুযোগ সুবিধাদি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়া অথবা চাকুরী প্রার্থীকে বলা যে, তার কোন বিষয় সম্পর্কে কোনরূপ জিজ্ঞাসা আছে কিনা।

৯। ইন্টারভিউয়ের ফলাফল দেয়ার তারিখ জানানঃ

বেশির ভাগ সময়  ইন্টারভিউয়ের ফলাফল জানতে চাকুরী প্রার্থী প্রায়ই প্রতিষ্ঠানে ফোন করে। এতে করে একদিকে আপনার যেমন সময় নষ্ট হয় কিংবা বিরক্ত হন  অন্যদিকে চাকুরী প্রার্থী আশায় চেয়ে থাকে কখন আপনার অফিস থেকে একটা কল করে তাকে জানানো হবে তার ইন্টারভিউয়ের ফলাফল। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে আপনি ইন্টারভিউয়ের দিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিন কবে  আপনি ফলাফল দেবেন এবং কি পদ্ধতিতে তা দিবেন। এতে করে আপনার মুল্যবান সময় যেমন নষ্ট হবে না তেমনি চাকুরী প্রার্থী তার ফলাফলের জন্য অযথা প্রহর গুনবে না।

 

১০। “রিজেক্ট মেইল” দিনঃ

আপনি চাইলে ইন্টারভিউয়ের যে কোন ধাপে বাদ পড়া চাকুরী প্রার্থীদের “রিজেক্ট মেইল” দিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখবেন  “রিজেক্ট মেইল” যাতে পজিটিভলি লেখা হয়। এতে করে আপনার কোম্পানীর ইমেজ অনেক খানি বৃদ্ধি পাবে।

(এ লেখাটি লেখকের একান্তই নিজস্ব মতামত। ব্যক্তি, স্থান, প্রতিষ্ঠান ভেদে এর ব্যতিক্রম হওয়াটাই স্বাভাবিক)

লেখকঃ  ইসি ও ফেলো মেম্বার, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট।

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*