দক্ষ শ্রমিক গঠনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক এর ভুমিকা

মোঃ আমিনুল হক

মানব সৃষ্টির পেছনে স্রষ্টার অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো তারা পৃথিবীকে আবাদযোগ্য করবে। পারস্পরিক হিতাকাঙ্ক্ষী, শুভাকাঙ্ক্ষী হবে এবং জগতের জন্যও তারা হবে কল্যাণকামী। কিন্তু ঘটছে তার ব্যতিক্রম। এর অন্যতম কারণ হলো মানব সৃষ্টির পেছনে স্রষ্টার উদ্দেশ্যের সাথে মানবের উদ্দেশ্য এক করতে না পারা। ফলে কল্যাণকামী না হয়ে এক মানব হচ্ছে অন্য মানবের শত্রু। হারিয়ে ফেলেছে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস। এক মানব অন্য মানবকে সম্পদরূপে না দেখে দেখতে শুরু করেছে অভিসম্পাতরূপে। পৃথিবীর অনেক দেশেই মানব সম্পদের অভাবে ভুগছে। আবার অধিক মানবের ভারে হিমশিমে খাচ্ছে অনেক দেশ। তাদের কাছে মানব এখন সম্পদ নয়, অভিসম্পাত। মানব আসলেই কি অভিসম্পাত?

আমার লেখার বিষয়বস্ত দক্ষ শ্রমিক গঠনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের ভুমিকা। লেখার স্বার্থে আমাকে যেতে হবে বাংলাদেশের মানব সম্পদ এর অতীত ব্যবস্থাপনায় পাশাপাশি বর্তমান আমাদের দেশের মানব সম্পদের প্রেক্ষাপটে।

শ’দুয়েক বছর বৃটিশ শাসন, চব্বিশ বছরের পাকিস্থান শোষণ অতঃপর স্বাধীনতা পায় আমাদের বসুন্ধরা , আর স্বাধীনতার পরবর্তী গত ছেচল্লিশ বছর ধরে মানুষ শিক্ষা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করছে। সময় ও প্রেক্ষাপট পাল্টালেও শাসকের চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির তেমন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। এখনও অনেক জনগোষ্ঠী শিক্ষাহীন, অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং কৃষির উপর নির্ভরশীল, চাকরির বাজার সীমিত, মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলার, ৩ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ দরিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। যা জনসংখ্যার ২৪.৫ শতাংশ। যার মধ্যে ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র, যা মোট জনগোষ্ঠীর ১০.৬৪ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ হিসাবে দেশের ২ কোটি ২ লাখ মানুষ বেকার।

মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭০% দক্ষতা আসে কাজের অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে। ২০% মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারঅ্যাকশন) ও ১০% আসে প্রশিক্ষণ থেকে। যে কোন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সাপোর্ট জোরদার করা প্রয়োজন। শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়স, শিক্ষা, জেন্ডার, সামাজিক শ্রেণী ইত্যাদি বিবেচনায় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখন অব্দি দেশের বোঝা। কিন্ত আশার কথা হচ্ছে আমাদের দেশে সম্ভবনাময় অনেক শিল্প বিদ্যমান যেখান থেকে এসকল জনগোষ্ঠীকে অনায়েসে মানব সম্পদে পরিনত করা যায়। দেশের অন্যতম রপ্তানীমুখী সেক্টর হিসেবে আরএমজি সেক্টর এ ব্যাপারে কার্যকরি ভুমিকা পালন করতে পারে।

দক্ষ শ্রমিক গঠনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের ভুমিকাঃ  আপনাকে একজন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে বুঝতে হবে আপনি বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্টের  কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন, তাই তার বিভিন্ন আকর্ষনীয় এবং বিরক্তিকর বৈশিষ্টকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতাকে ত্বরান্বিত করাই হচ্ছে মানব সম্পদ প্রধানের এর মূল ভূমিকা। যে কোন কোম্পানির জন্য মানব সম্পদ বিভাগ হচ্ছে অন্যতম জরুরি বিভাগ। এ বিভাগ ব্যবসার উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যের সাথে সংযোগ স্থাপন করে প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং চলমান ব্যবস্থাপনার সাথে মানব সম্পদের উপযোগিতাকে জাগিয়ে তোলে। একজন মানব সম্পদ  ব্যবস্থাপককে হতে হবে অত্যন্ত তুখোড় ব্যক্তিত্বের অধিকারী যিনি টপ টু বটম সকল শ্রেণীর কর্মচারীদের  জন্য বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করবেন। একজন সফল মানব সম্পদ  ব্যবস্থাপককে ক্ষেত্রবিশেষ যেমন হতে হবে উদর তেমনি কখনো কঠোর। তাকে কোম্পানীর জন্য উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ এবং তাদের ধারাবাহিক উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে হবে। কর্মক্ষমতা অনুযায়ী পুরষ্কার নির্নয়ে টেকসই প্রক্রিয়ার বিকাশ ঘটাতে হবে। উৎপাদনশীলতাকে সামনে রেখে ব্যয় সংকোচন করে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরী করার দক্ষতা অবশ্য্ মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক এর থাকতে হবে।

যেহেতু দক্ষ অদক্ষ উভয় শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপককে কাজ করতে হয়; সেহেতু মনে রাখতে হবে   মানুষ কখনও নিখুঁত হয়না তাই তাদের নিয়ে কোন ঝুকি নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং যথাযথ কার্যপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। একজন সফল মানব সম্পদ  ব্যবস্থাপক এর অবশ্যই এই মর্মে অঙ্গীকার থাকা উচিত যে তিনি তার অধীনে শ্রমিক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে একটি সুষম কর্ম পদ্ধতি ও পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, যাতে ক্রেতার চোখে কোম্পানীর কর্মদক্ষতা হয়ে উঠে আকর্ষনীয় মডেল ।

একজন মানব সম্পদ  ব্যবস্থাপককে ভাল যোগাযোগ দক্ষতা এবং অন্যের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বোঝার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক। যা দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে অনস্বীকার্য ভুমিকা পালন করবে। কর্মজীবনে একজন মানব সম্পদ  ব্যবস্থাপককে সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসী হতে হয়। নিজ প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান ও সেই আনুযায়ী মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে হয় এই বিভাগের কর্মীদের। অর্থাৎ, কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট করা, আগ্রহীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের খুঁজে বের করা ও নিয়োগ প্রদান, কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা ও তাদের সাথে প্রতিষ্ঠানের সু-সম্পর্ক বজায় রাখা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।

কোন নতুন কর্মস্থানে যোগদান করে আপনি যে অতি সহজে কাজের জন্য ভাল পরিবেশ পাবেন তা কিন্ত নয়। আপনার মনে রাখতে হবে সেখানে আগে আপনার ন্যায় একজন কর্মকর্তা কাজ করে গেছেন। তার প্রভাব কিন্ত আপনাকে মোকাবেলা করতে হবে। আপনার অধীনে সকল শ্রমিক কর্মচারী যে আপনার সাথে ভাল আচরণ করবেন তাও কিন্তু নয়। আপনাকে একটি পরিকল্পনা মাফিক কর্মসুচি প্রনয়ণ করতে হবে। কারখানায় কর্মরত  সকলকে নিয়ে আপনাকে একটি বিশেষ সময় ব্যয় করতে হবে। তাদের যোগ্যতা, আচরণ, নিয়ামানুবর্তিতা এগুলির চুলচেরা বিশ্লেষণ পূর্বক আপনাকে তাদের কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। মনে রাখবেন আপনার তদারকি ও গাইড লাইনের মাধ্যমেই সামগ্রিক সফলতা নির্ভর করবে। কোন ভাবে কোন কাজের ব্যর্থতার দ্বায় সরাসরি শ্রমিককুলের উপর চাপিয়ে দিবেন না। আপনাকে প্রমান করতে হবে কোন নির্দিষ্ট কর্মী নয় কারখানার পুরো টিম ভাল করেছে।

কর্মীদের কর্মস্পৃহা বর্ধনে দক্ষতা যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিগত দিনে কর্মীদের দক্ষতা মুল্যায়ন করা হত নানামুখি উপায়ে বছরের নানা সময়ে। কিন্তু এখন কর্মীদের দক্ষতা মুল্যায়ন এর একটি রুপরেখা সরকার কর্তৃক প্রণীত। গৎবাঁধা পারফরম্যান্স মূল্যায়ণের বদলে ক্রমাগত পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনার দিকে যেতে হবে। ম্যানেজারের দায়িত্ব হবে কর্মীদের প্রাত্যহিক পারফরম্যান্সের দিকে নজর দেয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে পারফরম্যান্সের অবনতির কারণ বের করে আনা ও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। তাহলে সেই সংস্থার হারানোর কিছু থাকে না। সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড় বলে যে কথাটা প্রচলিত আছে সেটি মনে রাখতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব পারফরম্যান্সকে কাঙ্ক্ষিত মানে নিয়ে আসতে পারলেই আপনি সফল হবেন, আপনার সংস্থা উপকৃত হবে। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক কে এ কাজটি করতে হবে নিখুতভাবে। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপককে প্রচুর টিমওর্য়াক করতে হবে। বিগত বছরের মুল্যায়ণ রিচেক করে একটি সময়োপযোগী মানদন্ড তৈরী করতে হবে। মনে রাখতে হবে একজন দক্ষ কর্মীর দক্ষতাকে যেন কোন ক্রমে অবমুল্যায়ন না করা হয়। তাহলে তার কর্মদক্ষতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। প্রয়োজনে কর্মীর দক্ষতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যাণ্য বিভাগের অধিকতর সহায়তা গ্রহণ করতে হবে। দক্ষ কর্মীকে অধিকতর দক্ষ করতে তাকে নানামুখি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সম্ভাবনাময় এ সেক্টর দিন দিন অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে। আরো অধিকতর সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের নানামুখি বাস্তব ও কর্মমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেক্ষেত্রে আমাদের কেমন জানি একটা অনীহা। প্রশিক্ষন নিতে হবে? তো বাইরে গিয়ে নিজের টাকায় কিংবা ছুটির দিনে করেন, এ ধরণের মানসিকতা সর্বত্র। কেউ কাজ পারছে না, তাকে ছাঁটাই করে দেয়া  হচ্ছে তাৎক্ষনিকভাবে। অথচ তাকে একবার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এহেন আচরণ কিন্তু মানবতা বিরোধীও বটে। তবু শিল্পায়নের এই সময়ে  বাংলাদেশে কেউ একে পরোয়া করে না। সারাদিন সবাই গার্মেন্টস এর প্রোডাকশন লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে কাজ আর কাজ চাই, কিন্তু সামান্য প্রশিক্ষণ যে অটোমেটিক কিছু  বেশি উৎপাদন দিতে পারে তা কারো মগজে নেই। যে  কর্মীর আজকের উৎপাদন ৭0 পিস সে কর্মীর কাছে গিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আরো  কয়েক পিস হয়ত আদায় করা যাবে কিন্তু  তাকে প্রশিক্ষন দিলে এবং সেটি মাসে বা ত্রৈমাসে হলে যে পরিমান উৎপাদন হবে তা ঐ কয়েক পিসের কাছে কিছুই  নয়। প্রোডাক্টিভিটি বা উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে এরকম কারখানার সংখ্যা হাতে গোনা। অথচ আমাদের দেশের প্রথম এবং প্রধান রপ্তানী আয় পোষাক শিল্প। প্রশ্ন আসতে পারে, কিভাবে প্রশিক্ষন দেয়া যেতে পারে? আমি বলবো, এটা আসলেই একটা সময় সাপেক্ষ প্রশ্ন এবং এখানে দরকার সুস্থ মানসিকতার। আর একজন মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের দ্বারা্ই কেবল এ কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব।

নির্দিষ্ট একটি সময়সূচি প্রনয়ন করে কারখানায় নিয়মিত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। আশার কথা হচ্ছে নতুন (রিফ্রেস) নিয়োগে অনেক প্রতিষ্ঠান অগ্রহী হয়ে উঠছে। এটা আরএমজি সেক্টেরের জন্য একটি ভাল লক্ষণ। এসকল শিক্ষানবীসদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা খুব সহজ হবে মনে করি।

আমি আমার বাস্তব জীবনে কয়েকবার এ অভিজ্ঞতার সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছি। প্রতিযোগীতা প্রবণ এলাকায় প্রায়ই আপনাকে দক্ষ শ্রমিকের সংকটে পড়তে হবে। দক্ষ কর্মীর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতাও তৈরী হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষানবীস হিসেবে কারখানার চাহিদা মোতাবেক অদক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে হবে। একটি ছোট প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরী করতে হবে। এক্ষত্রে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দিতে হবে। ‍শিক্ষানবীসদের প্রশিক্ষক হিসেবে আপনার কারখানার সুদক্ষ সুপারভাইজারদের নিয়োগ করতে হবে।আর মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে অবশ্যই আপনাকে প্রতিনিয়্ত তাদের ফলো আপ করতে হবে। প্রয়োজনে আপনি প্রতিদিন দুয়েকটা কার্যকরি ক্লাস নিতে পারেন। এতে করে তাদের মাঝে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী আপনি এসকল রিফ্রেসার দিয়ে প্রাথম পর্যায়ে 3 মাস এক  পদবীতে তাদের রাখতে পারবেন । এ তিন মাস একজন অদক্ষ ব্যক্তিকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ঠ সময়। মনে রাখবেন প্রশিক্ষণ শেষে আপনাকে অবশ্যই এ সকল কর্মীর দক্ষতা যাচা্ই করে পুনরায় তাদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে পরবর্তী গ্রেডে তাদের উন্নীত করতে হবে। নচেত আপনি তাদের ধরে রাখতে পারবেন না। সে অন্যত্রে চলে যাবে।

বিশেষ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মূল কারিগর দক্ষ শ্রমিক। সেই দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশের তুলনায়, বিশেষ করে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, ভারত এবং পাকিস্তানের চেয়েও পেছনে। দক্ষ শ্রমিকের এই বিপুল ঘাটতি দূর করতে বিদেশি শ্রমিক-কর্মকর্তার পেছনে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার  ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ অনায়েসে আমাদের দেশের মেধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ শ্রমিক তৈরী করে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

পোশাক শিল্প দেশের শিল্পায়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৪৫ লাখ শ্রমিককে উৎপাদনশীল কাজে অন্তর্ভুক্ত করে দারিদ্র বিমোচনে অবদান রেখেছে। উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি, শ্রমিক মালিকের সম্পর্ক উন্নয়ন শুধু এ শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্যই নয়; বরং গোটা অর্থনীতির স্বার্থেই জরুরি। আর মাত্র চার বছর পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। শুধু টিকে থাকা নয়, পোশাক শিল্পকে আরো কয়েক ধাপ উন্নত স্তরে নিয়ে শ্রমিক-মালিক-শুভাকাঙ্ক্ষী একত্রে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে এটাই হোক প্রত্যাশা।

লেখকঃ ব্যবস্থাপক, মানব সম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স বিভাগ, জালো নিটিং লিমিটেড।

16 Comments

  1. Ekta Buddhi Dipto Lekha, Khubi Shundor Ebong Onupreronadaye, Lekhata Onekkei Onuprerona Jogabe. Asha Kori Apnar Lekha Dara Onekei Upokrito Hoben. Keep it Up….

    • সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আরএমজি জার্নালের সাথে থাকুন। আপনাকে আমাদের লেখা পড়ার ও সম্ভব হলে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছি । ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

    • Thank you very much dear Evaan. Really feeling fantastic, that from aboard you just following me.

    • সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আরএমজি জার্নালের সাথে থাকুন। আপনাকে আমাদের লেখা পড়ার ও সম্ভব হলে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছি । ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

  2. স্যার অনেক ভালো লিখেছে। ছোট মানুষ আমি দোয়া করি অনেক বড়। আপনাদের লেখা আগামী দিনের ভবিষৎ। দোয়া করি স্যার।।।

    • সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আরএমজি জার্নালের সাথে থাকুন। আপনাকে আমাদের লেখা পড়ার ও সম্ভব হলে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছি । ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

  3. onek sundor kore likheche aminul bhai. akjon employee new akta company te join korle ki ki problem tar shamne asbe ta apnar likhay sposto.. worker employee der traning er je bikolpo nei apnar likhay sposto. onek bastob nirovor akti likha

    • সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আরএমজি জার্নালের সাথে থাকুন। আপনাকে আমাদের লেখা পড়ার ও সম্ভব হলে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছি । ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

    • Dear Avijit, you knew better than me, caouse once upon a time we passed a juvenile period. Thanks for your nice comments dear.

  4. ভাল লেখ নি:স্নদেহে.. ভাল লিখেছ।
    ভাল লেগেছে…
    মানব সম্পদ বোঝা নয়
    এটা আর্শীরবাদ..
    মজার ব্যাপার হল.. পারিবারিক দল গুলি
    এই মানব সম্পদকে বেকার রেখে .. শিক্ষাবিমুখ করে তাদের পার্টির ডাল হিসেবে ব্যাবোহার করছে.. সার্টিফিকেট ধারিদের পদ ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে অসৎ বানিয়ে প্রজাতন্রের নয় .. পারিবারিক তন্ত্রের গোলাম বানাচ্ছে..
    মানব তখনই সম্পদ হবে ..
    যখন সে তার মনুষত্ব ও মেরুদন্ড নিজেথেকে খুজে পাবে..
    তাই শুধু সার্টিফিকেট হলেই মানুষ
    মানুষ হয় না
    আর অশিক্ষীত হলেই মানুষ
    জাতীর বোঝা হয় না।

    “লেখা চালিয়ে যাও..
    আরো ভাল কোন টপিকস্ ঊপহার দাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*