একজন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তার আত্মকথা

এম এ মান্নান পাভেল

কমপ্লায়েন্স একটি ইংরেজী  শব্দ। যার বাংলা আভিধানিক অর্থ সম্মতি, প্রতিপালন, অনুবর্তিতা ইত্যাদি। এই কমপ্লায়েন্স শব্দটির সাথে আরএমজি সেক্টরে কর্মরত সকল শ্রম এবং পেশাজীবি মানুষ বর্তমান সময়ে খুবই  ভালভাবে পরিচিত। এখন কোন শ্রমজীবি মানুষ প্রতিষ্ঠানে কাজ নেয়ার আগে জানতে চায় এ প্রতিষ্ঠানটি কমপ্লায়েন্স এর সকল নিয়ম কানুন মেনে চলে কিনা। কারন তারা এখন নিরাপদ কর্মপরিবেশের ব্যাপারে অনেক সচেতন । বর্তমানে সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কমপ্লায়েন্স এর সকল চাহিদা মোতাবেক প্রস্তুত করা। বিশেষ করে তাজরীন ফ্যাশন, রানা প্লাজা ধ্বস আমাদের প্রত্যেকের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কর্মক্ষেত্রে আসলে কমপ্লায়েন্স কতটা জরুরী।

একটি প্রতিষ্ঠানকে কমপ্লায়েন্স এর চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে অবশ্যই পরিচালনা পরিষদের সদিচ্ছার পাশাপাশি একজন যোগ্য কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তার প্রয়োজন। একজন যোগ্য কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাই পারেন প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং আইনানুযায়ী প্রাপ্য সকল বিষয়াদি নিশ্চিত করতে। একজন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা কখনো আইনজীবি, কখনো বিশেষজ্ঞ  আবার কখনো প্রকৌশলীর ভূমিকায় কর্মস্থলে কাজ করতে দেখা যায়।  কিন্তু কাজ করতে করতে কখনো তার মধ্যে ডিপ্রেশান (অবসাদ) কাজ করছে কিনা তা কেউ অনুধাবন করার চেষ্টা করেনা। সবার  একটি বদ্ধমূল ধারণা আছে  যে, কমপ্লায়েন্স মানেই সকল কাজ করতে হবে।

এত পরিশ্রম করার পরও যদি দেখা যায় কোন একটি অডিটে রেটিং বা স্কোরিং খারাপ বা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হয় কিংবা যখন তিনি কোন এক শ্রমিকের আইনানুগ পাওনাদি সঠিক ভাবে প্রদানের কথা বলেন, ঠিক তখন তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথাবার্তা শুরু হয়! হয়তো তাকে এমনও বলা হয়, “দেখেন কিভাবে কম দেয়া যায়”! বিগত বছরগুলোতে যে ব্যক্তিটি তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করতে  তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তাকে শুনতে হয় আপনারতো কোন যোগ্যতাই নেই! শুধু শ্রমিককে এটা দেন ওটা দেন, শুধু মাস গেলে বেতন নেন, কি কাজ করেন আপনি, আপনাকে দিয়ে হবেনা, আমাদেরকে অন্য কিছু ভাবতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই যে একধরণের মানসিক আঘাত তিনি পান, তা থেকে সহজে আর বেরিয়ে আসতে পারেননা। আমরা প্রত্যেকে একটি জিনিস খুব ভাল করে জানি যে, শারীরিক আঘাত দেখা যায় কিন্তু মানসিক আঘাত দেখা যায়না। এ মানসিক আঘাতের কারনে কোন একসময় তার মধ্যে অযোগ্যতার অনুভূতি এবং অত্যধিক অপরাধবোধ কাজ করে অর্থাৎ তখন তার মনের মাঝে হতাশা বিরাজ করে। আর এ হতাশাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ডিপ্রেশান বা অবসাদ। আর এটা এমন এক রোগ যেটা আপনাকে আমাকে একসময় নিস্তেজ করে দিতে পারে। অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই এখন প্রতিটি মানুষের জীবনের চলার গতি বেড়েছে, কেউ পিছু পড়ে থাকতে রাজি নয় আর তাই প্রতিটি মানুষ জীবন চলার পথে তাল মিলাতে না পেরে হিমশিম খাচ্ছে।

সকলের বুঝতে হবে একজন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা রোবট নন। তিনিও জীবন চলার পথে হাজারো মানুষের ন্যায় তাল মিলাতে না পেরে হয়তো হিমশিম খাচ্ছেন,হয়তো কোন এক কারনে তিনি বিষাদগ্রস্থ,  তাই বলে শুধুমাত্র কোন একটি অডিটের রেটিং বা স্কোরিং কম হলে কিংবা আইনানুগ পাওনাদির কথা বললেই তিনি কিছু জানেন না, বা কোন যোগ্যতা নেই এরকম মানসিকতা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিহার করতে হবে।

লেখকঃ ব্যবস্থাপক, এইচ আর এন্ড কমপ্লায়েন্স, স্টারলেট এ্যাপারেলস লিঃ

5 Comments

  1. Some challenges still having a compliance manager to negotiation skill development of compliance requirement implementation but we have been doing fantastic role to ensuring sustainable business growth. Nice written by Mannan

    • সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আরএমজি জার্নালের সাথে থাকুন। আপনাকে আমাদের লেখা পড়ার ও সম্ভব হলে লেখার অনুরোধ জানাচ্ছি ।
      ইমেইলঃ chanchal@musician.org
      sms on facebook page: https://www.facebook.com/rmgjournal/
      ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*