মানবসম্পদ উন্নয়ন (HRD): মানুষই যেখানে শেষ কথা (পর্ব-এক):

জনাব ওয়ালিদুর রহমান , নিজেকে তিনি মানবসম্পদ পেশাজীবী হিসাবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন (তিনি দেশের স্বনামধন্য একটি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত আছেন)। নিরহংকারী ও গুণী এই লেখক আরএমজি জার্নালের জন্মলগ্ন থেকেই সকলের কল্যাণে তার লেখনী দিয়ে অবদান রেখে যাচ্ছেন । মানবসম্পদ উন্নয়নে তার চিন্তা চেতনাকে তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে সুচারুরুপে উপস্থাপন করে থাকেন। তার এই লেখাটি অদ্য ২৮/০১/২০১৮ ইং তারিখ থেকে আরএমজি জার্নালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। 

” Happy Reading”

এইচআর নিয়ে কাজ করছি প্রায় একযুগ।  কাজ করার অভিজ্ঞতাকে মানুষের কাজে লাগানোর এবং আমার পরের ও সমপ্রজন্মের মানুষদের জন্য আমার অভিজ্ঞতা ও আইডিয়া জানিয়ে যাবার একটা ইচ্ছা সবসময় কাজ করে।  বিভিন্ন মাধ্যমে সেই চেষ্টা করেছি। সবশেষে আমার মনে হয়েছে, আমি বোধহয় আর কোনো কাজের জন্য কাবেল না।  তবে লেখার কাজটা হয়তো আমি পারব। তাই একদিন ভাবলাম, আমি লিখব-আমার ভাবনাকে। তাই শুরু করলাম আমার টুকরো লেখাগুলোকে একত্র করতে।  আমি মূলত ৩টি মাধ্যম নিয়ে লিখি-কবিতা  (#ওয়ালিদ_এলোমেলো_কাব্য হ্যাসট্যাগে), মানুষ ও জীবনকে নিয়ে স্যাটায়ার (#Walid_social_constipation হ্যাসট্যাগে)  আর প্রোফেশনাল অভিজ্ঞতা (#Walid_professional_idea_HR হ্যাশট্যাগে)।  এইচআর নিয়ে কাজ করতে শুরু করলাম এইচআর সংক্রান্ত বিস্তারিত এই সুবিশাল আর্টিকেলটি বা লেখার সংগ্রহটিকে সাজাতে যেখানে মূলত আমার চেষ্টা হল, ফ্রেশার ও জুনিয়র পার্সন যারা এইচআরে কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য এইচআর সংক্রান্ত মৌলিক ও প্রাথমিক কিছু তথ্য ও ক্যারিয়ার পাথ নিয়ে আলোচনা। বইয়ের মতো না করে, বাস্তবতা ভিত্তিক আলোচনা। আর্টিকেলটি হবে বিস্তারিত, টু দি পয়েন্ট ও ধারাবাহিক। আপনি যদি সিরিয়াসলি এইচআর নিয়ে আমার ভাবনা ও অভিজ্ঞতাকে পড়তে আগ্রহী হোন তবে ধারাবাহিক থাকুন। কারন মূল লেখাটি প্রায় ৪০-৪৫ পৃষ্ঠার বিধায় অনেকদিন লাগবে পুরোটা রিলিজ করতে।

প্রথমেই বলি এইচআর বলতে আমি কী বুঝি। নানা ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এইচআর এর  আজকের ধারনাটি এসেছে।  একসময় যেটা টিপিক্যালী এডমিন বা পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ছিল সেটা নানা রূপ পরিগ্রহ করে আজকের এইচআর নামে পরিনত হয়েছে। এইচআর এর কেতাবী ডেফিনিশন আপনি বহু পাবেন। আমি শুধু বলব, এইচআর হল এমন একটি বিদ্যা, চর্চা, ধারনা, সিস্টেম, লক্ষ্য, ব্যবস্থাপনা, আচরন-এসবের সম্মিলিত নাম যার মূল উদ্দেশ্য হল একটি প্রতিষ্ঠানের মানুষ নামক কম্পোনেন্টটিকে সম্পদ হিসেবে পরিগণিত করতে শেখা ও শেখানো এবং সেই সম্পদকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও সমৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগাতে তাকে সবদিক দিয়ে শানিত করা। এইচআরএম ও এইচআরডি-দুটো কথা আমরা শুনে থাকি। মূলত এইচআরডি কথাটা আমরা বেশি শুনে থাকি। এইচআরএম বা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট হল মূল কনসেপ্ট বা ফেনোমেনা। এইচআরডি বা হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট হল তার একটি অংশ। একটি পারফেক্ট এইচআরএম সৃষ্টির জন্য যতগুলো উইংগস বা কম্পোনেন্ট দরকার তার একটি হল এইচআরডি।

 

এইচআর বিভাগের বিভিন্ন নামে পরিচিতি।

উত্তর: Personnel Management Dept.,

Human Resource Development,

Human Resource,

Human Capital Management,

Human Resource Management,

Employee Relationship Dept,

People Experience Dept.

এইচআরে কাজ করার ক্যারিয়ার বেনেফিট কী কী? কী কী যুক্তিতে আপনার মনে হয়-পেশা হিসেবে এইচআর এখন একটি স্মার্ট চয়েজ।

উত্তর:  ১.একটি প্রতিষ্ঠানের সত্যিকারের বিজনেস পলিসী, মোড অব অপারেশন, ন্যাচার বা কালচার, ট্রেন্ড ইত্যাদি নিয়ে কাজ করার অত্যন্ত ভাল সুযোগ থাকে এইচআর বিভাগে কাজ করলে।

২.বিশেষভাবে আধুনিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বাস করে, একটি প্রতিষ্ঠানের মোষ্ট ভাইটাল বিভাগগুলোর মধ্যে একটা হল তার এইচআর বিভাগ। কোম্পানীর সবচেয়ে ভাইটাল বিভাগগুলোর একটাতে কাজ করতে পারার সুবিধা ও ডিগনিটি প্রচুর। ৩.প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নতি, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি তথা সার্বিক অগ্রগতির জন্য নানাভাবেই এটা প্রমানিত যে, কোয়ালিফাইড, ডেডিকেটেড ও মটিভেটেড কর্মীবাহিনী সবচেয়ে প্রাথমিক এসেট ও হাতিয়ার। তাই এইচআরে কাজের মধ্য দিয়ে ওই ম্যানপাওয়ারকে বেস্ট ইফিশিয়েন্ট করার সুযোগ পাওয়া যায়।

৪.বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে উদীয়মান ক্যারিয়ারগুলোর মধ্যে এইচআর একটি।

৫.কোম্পানীর টপ ম্যানেজমেন্টের সাথে ইনটেনসিভলি কাজ করার জন্য প্রকৃষ্ট সুযোগ পাওয়া যায় এইচআরে কাজ করলে। হ্যা, যদি কারো কাজ করার ইচ্ছা আর সৎভাবে ক্রিয়েটিভ কিছু করার ইচ্ছা থাকে তবেই এই সুযোগ কাজে লাগানো যায়।

৬.হয়তো একটু কেমন শোনাবে তবু বলছি, বেশিরভাগক্ষেত্রেই এইচআরকে ক্যারিয়ার হিসেবে বাছাই করার একটা বড় কারন থাকে এই ধারনা যে, এইচআরে কাজ করলে পাওয়ার এপ্লাই করা যায়।

না ভাই, ক্ষমতা চর্চা এইচআরে কাজের লক্ষ্য হতে পারেনা। তাছাড়া মনে রাখবেন, একটি আধুনিক ও উন্নত প্রতিষ্ঠানের কোনো বিভাগই এক্সট্রিম বা এবসলুট ক্ষমতা চর্চা বা কুক্ষিগত করার সুযোগ কখনোই পায়না্ যেসব কোম্পানীতে ওগুলো পাওয়া যায় সেগুলো কোনো সন্দেহ ছাড়াই বাজে ও পশ্চাৎপদ কোম্পানী। এখন আপনি যদি জেনেবুঝে বাজে কোম্পানীতে চাকরী করতে চান সেটা আলাদা কথা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*