প্রযুক্তি এবং উপযুক্ত মানবসম্পদ-এর ব্যবহার : কর্মসংস্হান এবং দক্ষতা বৃদ্ধি

কাজী রাকিবউদ্দিন আহমেদ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য- প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক বিনীতভাবে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মদক্ষতাবৃদ্ধি এবং বিংশ শতাব্দীর গতির সাথে তাল মিলিয়ে নিপুনভাবে সেবা বা পন্য পৌঁছে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা। মাননীয় সরকার এ ব্যপারে যে সব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং সারা দেশে তরুণ-নবীনরা এ প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করছেন তার প্রধান এবং চূড়ান্ত সুফলভোগী হবেন এ দেশের জনগন।

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দাপ্তরিক কাজে অনেক বাঁধা অতিক্রম করে প্রযুক্তি পরিচিতি এবং ব্যবহার কার্যক্রম সাফল্যের সাথে এগিয়ে গেছে। পাসপোর্ট, কর, বিদুৎ, গ্যাস, পানি, BRTA, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদিতে সংস্হাগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আসাতে জনগনের কষ্ট অনেকখানি লাঘব করে চলেছে। এর সাথে জড়িত দুর্নীতির অবাধ গতি প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সরকারের আন্তরিকতা অবশ্যই এজন্য প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

আমাদের সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় খুব তাড়াতাড়ি সব জরুরী সেবামূলকসংস্হা যেমন পুলিশ, হাসপাতাল, অগ্নি-নির্বাপন এগুলোকে পুরোপুরি ডিজিটাল জগতের আওয়ায় আনা দরকার। একটি সভ্য এবং আধুনিক জাতীয়সত্বায় এ ধরনের জরুরী ভিত্তিক সেবা সংস্হাগুলোর মান সম্মত সেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।প্রযুক্তি এ অধিকারকে তরান্বিত এবং নিশ্চিত করবে।

এগুলোর বাইরে যে সকল সরকারী দপ্তর আছে ধনী-গরীব, শিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত সব পেশার মানুষকে কোন কোন সময় ঢু দিতে হয় সে রকম একটি দপ্তরের কথা বলবো আমি আজকে যেখানে হাজারো কোটি টাকার সম্পত্তির (ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক, সরকারী-বেসরকারী, কৃষি বা অ-কৃষি) মালিকানা বদলায়, বিকি-কিনি চলে একদিনে। যেখানে সরকারি খাতে হাজারো কোটি টাকার রাজস্ব জমা হয়।

ঘুরে আসি এমনি এক জায়গায়। শহরের মধ্যে এক ব্যস্ততম জায়গা। শিল্প-কারখানার জন্য বিখ্যাত তেজগাঁও এলাকা। দেশের একটি অন্যতম প্রধান ভূমি রিজিস্ট্রেশন অফিসও এখানে। গত মাসে একটি কাজে এ অফিসে গিয়েছিলাম। কাজটি শেষ করে বের হতে আমার ২ ঘন্টা ২০ মিনিট লেগেছিল। কাজটি ছিল সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের।

একজন মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মী হিসেবে আমি আমার অজান্তেই কোন অফিসে গেলে সেখানকার কর্ম পরিবেশ, কর্মীদের মধ্যে কাজের স্পৃহা, সহকর্মীদের সাথে আচরন, দলগত উদ্দিপনা, অতিথি বা গ্রাহক সেবার আচরণ, জেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নবীনদের সাথে অথবা নবীনদের জেষ্ঠদের প্রতি আচরন, কিভাবে একজন কর্মী প্রেরণা পান তার কর্ম পরিবেশ থেকে, প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়গুলো পরিলক্ষিত করি।

সেদিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার সুবাদে চারিদিক দেখছিলাম। বিরাট অফিসে একটি বিশালকায় কামরায় ৫০/৬০ জন পাশাপাশি টেবিলে বসা। সবাই অফিস কর্মী এবং সংখ্যা গরিষ্ঠরা বয়সে তরুন । সবার সামনে নানা সাইজের খাতা, বালাম বই এবং একেকজনের কাছে অনেকগুলো কলম। কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা কলম দিয়ে লিখে যাচ্ছেন। সবাই মোটামুটি লেখায় মগ্ন। হয়তো ছোট খাতার থেকে বড় খাতায় উঠাচ্ছেন অথবা গ্রাহকের দলিল তৈরিতে মগ্ন। সবাই কিছু না কিছু কপি করতেই ব্যস্ত মনে হচ্ছিল। খসরা কপি বা ফাইনাল কপি ইত্যাদি।

আমার মনে হলো আমি একটি টাইম মেশিনে আছি এবং হয়তো মোগল বা বৃটিশ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এখানে কোন কম্পিউটার নেই, একটি টাইপ রাইটার দেখলাম মনে হলো একটু ভেতরে।

অথচ এই তেজগাঁয়ে এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ন সরকারী কর্মক্ষেত্র যেখানে প্রযুক্তির ছোয়া লাগেনি বা লাগতে দেয়া হচ্ছে না।

আমাদের ভূমি দপ্তরের এই রেজিস্ট্রেরী অফিসের এই তরুনরা সারাদিন বসে কালি-কলম-বালাম খাতায় যে সময় দিচ্ছেন তাদের কর্ম দক্ষতা, উদ্দিপনা, সেবার গতি ও মান লাখো গুনে বৃদ্ধি পাবে যদি কমপক্ষে একটি করে ডেস্কটপের সাথে তাদেরকে পরিচিত করানো যেত।

এ ধরনের দপ্তরগুলোতে যারা আছেন তারা অনেক জানা বা অজানা কারনে প্রযুক্তির ব্যবহার চান না। মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহারে এখন প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। সোফিয়া যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কুশল বিনিময় করেছেন তখন আমাদের বুঝতে হবে সোফিয়া যেকোন কর্ম ক্ষেত্রে, ব্যবসা-বানিজ্যে যেকোনদিন কুশল বিনিময়ের জন্য চলে আসতে পারেন।

আমাদের সবাইকে প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করে নিজেদের কর্মদক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই হবে। এর মধ্যে ‘কিন্তু’ শব্দের কোন জায়গা নেই।

একমাত্র সততা এবং দক্ষ মানবসম্পদই দেশকে সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করবে ইন শা আল্লাহ।

লেখকঃ Chief Human Resources Officer , Karnaphuli Fertilizer Company Limited (KAFCO)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*