সফলতার জন্য চাই সৎ উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা (সফলতার গল্প-২)

 

আব্দুল মোতালেব

 

(পোশাক শিল্পের অতি পরিচিত মুখ জনাব আব্দুল মোতালেব। নিজের লেখা তার জীবনের সফলতার এই গল্প আশাকরি অনেককে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে)

রাজশাহী জেলার চকরাজাপুর নামের এক প্রত্যন্ত গ্রামে আমার জন্ম, চর এলাকা, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া এখনও পর্যন্ত যেখান থেকে বহু দূরে। পাকা রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ ও পৌঁছায়নি এখনো। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে ছেয়ে যায় আমার নিজ গ্রাম। ঝলমলে বিজলি বাতির প্রতি এই চরের মানুষের কোন আকর্ষণ জন্মেনি বরং নিয়ম করে প্রত্যেকটা বছর তাদের চিন্তা থাকে বন্যার পরে তার সে কোথায় বাড়ী করবে, কোথায় থাকবে সেটা নিয়ে । এ নিয়মের সচারাচর কোন ব্যত্যয় ঘটেনা। কারন প্রতি বছরই প্রমত্মা পদ্মা গ্রাস করে নেয় এ অঞ্চলের মানুষের ছোট্ট আশ্রয়স্থল টুকু। সুতরাং স্থায়ী ঘর বাড়ী বলে কিছু ছিল না আমাদের!

আমার শৈশব কেটেছে দৈন্যতায়। ৭ ভাই বোনের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি ছিলেন আমার বাবা, পেশায় একজন অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বাবার ক্ষুদ্র উপার্জন সংসারের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত ছিলনা। সুদূর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে পান কিনে এনে এলাকার হাটে বেচতেন। সে সময় হাট বসতো শুক্র এবং সোমবার। বাকি দিনগুলোতে বাজারের এক কোনায় ছোট একটা দোকান ছিলো, সেখানে চা আর পান বেচতেন। সহজ কথায় বলতে গেলে আমার বাবা ছিলেন চা-পান বিক্রেতা, সামাজিক নিয়মের হিসেবে যেটা কোন সম্মানজনক পেশা ছিল না। গ্রামের কেউ কেউ আমাকে ডাকত “কহেল পাইনার ছেলে” বলে।  আমার বাবার একটি বিশুদ্ধ নাম থাকা সত্বেও পান বিক্রি করেন বলে আমার পরিচিতি তখন ঐ নামে। ঐ নাম ধরে যখন কেউ ডাকত খুব কষ্ট হতো মেনে নিতে। কিন্তু যখন কৈশোর পেরচ্ছি আর চিন্তার পরিপক্কতা ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে, তখন আর মন খারাপ হতো না। বরং ঐ নামে যখন কেউ আমাকে ডাকতো তা আমার মনে একটি সুন্দর আগামীর জন্য অনুপ্রেরণার সঞ্চার করত।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব আগ্রহ ছিল আমার। প্রত্যেক শ্রেণীতেই প্রথম হতাম। নিজের পড়ার খরচ যোগাতে সেই ক্লাস এইট থেকে পড়ানো শুরু করেছি, মাস্টার্স পর্যন্ত নিজের টিউশনির টাকায় নিজের পড়ার খরচ যুগিয়েছি। পড়াশোনার ফাঁকে বাবার কাজে সহযোগিতা করার জন্য দোকানে বসেছি, নিজের হাতে চা বানিয়ে, পান সাজিয়ে বিক্রি করেছি। মনে পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ.আর.পি বিভাগে পড়ার সময় যখন বাড়ীতে যেতাম তখনো হাটে পান বিক্রি করেছি, দোকানে বসেছি। আসলে একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন তখন থেকেই আমার চোখে লেগে যায়।

যে কোন মানুষের বিশ্বাস, আদর্শ, মনোবল তৈরী হয় তার শৈশব-কৈশোরে যার উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে তার ভবিষ্যৎ অথবা যা তার ভবিষ্যৎ কে প্রভাবিত করে।  আমার শৈশবের সেই মনোভাব গড়ে তুলতে সর্বাধিক অবদান রেখেছেন ৩ জন মানুষ, আমার বাবা, মা এবং আরেক জন আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব কাশেম মৌলভি। তাদের আদর্শিক শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে মানুষের সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের উপকরণ দুটি, শিক্ষা ও নৈতিকতা। চাকুরী কিংবা ব্যবসা উভয় ক্ষেত্রেই এই দুটি বিষয় একটি মানুষের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর আমাকে পাড়ি জমাতে হয় সুদূর খুলনাতে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ.আর.পি বিভাগের ছাত্র ছিলাম। আমার চলার পথের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই ইউ.আর.পি। ইউ.আর.পি শিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাস্তব সম্মত একটি বিষয়। প্রয়োজন আছে এহেন কোন বিষয় নেই যা ই.আর.পি বিভাগে পড়ানো হয়না। ফিলসফি থেকে শুরু করে সাইকোলজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, কম্পিউটার, মাউক্রো ইকোনোমি সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় নিয়ে এই কোর্স সাজানো ছিল যা পরবর্তিতে আমার চলার পথের সহায়ক হয়েছে।

ইউ.আর.পি শেষ করে ঢাকায় চলে আসি। বুয়েট এ এ.এম(ইউ.আর.পি) তে ভর্তি হই। একজন অগ্রজ ভাইয়ের (আমাদের প্রিয় রফিক ভাই URP 95 ব্যাচের) এর সহযোগিতায় এল.জি.ই.ডি’র একটা প্রকল্পে চাকুরী পেয়ে যাই। কিন্তু কেন জানি এতো ভাল চাকুরীটা পেয়েও আমি ততটা খুশী হইনি। আমার  এক বন্ধু কাজী সাগর তখন একটা বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকুরী করে। ও সেখানে একটা ইন্টারভিউ এর ব্যবস্থা করে দেয়। চাকুরীটা হয়েও যায়। সেই চাকুরীর ধরনটা আমার পছন্দ হল। কারণ, এটা একটা নৈতিক অডিট, পরিদর্শন এবং টেস্টিং কোম্পানি (ethical audit, inspection & testing company) যা আমার  নিজস্ব নীতির সাথে একেবারে মিলে যায়। কিন্তু তখনও আমার ব্যবসায়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হত্তয়ার স্বপ্ন মনের কোনে স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেল। কারণ ব্যবসা শুরু করার মত কোন পুঁজি তখনও পর্যন্ত জমাতে পারিনি। পাঁচ বছর পরে সেই চাকুরীটাও ছেড়ে দিলাম।

তারপর থেকে নিজের মতো করে পথচলা। ২০১০ সালে প্রফেশনালদের জন্য পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করি। সেখানে পূর্ব পরিচিত রাসেল কে খুঁজে পাই, সে ও প্রশিক্ষণটিতে অংশগ্রহন করেছে। প্রশিক্ষণের এর মাঝখানে চায়ের বিরতিতে রাসেল আমাকে আব্দুল আলীম নামের আরেকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সেই থেকে শুরু হল নতুন করে পথচলা! তিনজন মিলে  চিন্তা শুরু করলাম ব্যবসা করবো। নিজেরা প্রত্যেকে যে ধরণের পেশায় এতদিন কাজ করেছি সেই পেশার সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবলাম আমরা। কিন্তু এই ব্যবসার ধরন হচ্ছে দেশের বাইরের কোন স্বীকৃত কোম্পানীর শাখা বাংলাদেশে পরিচালনা করা। আর সেজন্য চাই শক্ত আন্তর্জাতিক লবিং । আমরা বিদেশী বেশকিছু কোম্পানীকে  ইমেইল লিখলাম। কিন্তু আশানুরুপ কোন ফল হলনা! শেষমেষ মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের আন্তরিক চেষ্টাকে সফল করে দিলেন। একজন বিদেশী বন্ধুর সহযোগিতায় একটি ব্রিটিশ কোম্পানীর শাখা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারলাম। একটি চুক্তি হল তাদের সাথে। কিন্তু চুক্তির শর্ত হচ্ছে হল এই যে, প্রথমে ঐ কোম্পানীকে  অগ্রিম হিসেবে ৬০০০ ডলার প্রদান করতে হবে। ৬০০০ ডলার মানে তখন ৪৮০,০০০ (চার লক্ষ আশি হাজার) টাকা। তিনজনেই ভাল চাকুরী করি কিন্তু সে সময় অবধি কারও কোন সঞ্চয় ছিলনা। এমতাবস্থায় আমরা তাদেরকে একটি প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম তা হল, ৬০০০ ডলার আমরা তাদেরকে দেবো কিন্তু তার জন্যে ৬ মাস সময় দিতে হবে। গ্লোবাল গ্রুপ, ইংল্যান্ড তাতে রাজি হল। আমার মনে আছে, আমি আমার সহধর্মিণীকে বললাম যে আমি ব্যবসা করবো যদি তাতে সফল না হই তবে কিছুদিন গ্রামে থাকতে হবে! সে রাজী কিনা জানতে চাইলাম। সে কোন কিছু চিন্তা না করে আমাকে সমর্থন দিল। সহধর্মিণীর ইতিবাচক সারা পেয়ে আমার উদ্যম দ্বিগুণ হয়ে গেল। আমাদের স্থানীয় কোম্পানির নাম দেওয়া হল- গ্লোবাল সাস্টেইনেবল সার্টিফিকেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (GSCS Ltd)। আমি এই বর্তমানে সেই কোম্পানীর কর্ণধার হিসাবে আছি।

উত্তরাতে একটা এপার্টমেন্ট অফিস এর জন্য ভাড়া নেওয়া হল । যেহেতু, দীর্ঘদিন অডিট প্রফেশনের সাথে সম্পৃক্ত, তাই ঘাবড়ে যাইনি। আলিম ভাই চাকুরী ছেড়ে অফিসে সার্বক্ষণিক বসা শুরু করলো। আমি তখনও চাকুরী ছাড়িনি। চাকুরীর কারণে বাইরে থেকেই তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। মার্কেট এ ব্যাপক সাড়া পেলাম শুরুতে। ক্লায়েন্টকে আমাদের প্রথম অডিটের ফিস আমাদের কে না দিয়ে সরাসরি ইংল্যান্ড এ আমাদের চুক্তিবদ্ধ কোম্পানীর কাছে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলাম। ৬০০০ ডলার একটা অডিটের ফিস দিয়েই শোধ করলাম! ২ মাসের মাথায় আলিম ভাই আমাকে চাকুরী ছেড়ে নিজের অফিস এ বসার কথা বলল। সেই থেকে পথচলা। দিনে দিনে কাজের অনেক পরিধি বেড়ে গেল। আলিম ভাই আর আমি, জীবনে যা শিখেছি তার থেকেও বেশী দেওয়ার চেষ্টা করেছি,  সফলতাও পেয়েছি। ২ জন অংশীদারের মধ্যে কখনও কোন বিষয়ে মতপার্থক্য হয়নি।

ব্যবসার ৭ বছরে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ এক ডজনেরও বেশী দেশে ১০০০ এরও বেশী কোম্পানীতে অডিট করেছি এবং এখনও করছি। ২০টিরও বেশী দেশের মানুষদেরকে SA8000, ISO 9001, Organic Certification সহ অন্যান্য বিষয়ে পেশাদারিত্বের উপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এখানে বলা বাহুল্য যে, আমি ও আমার ব্যবসায়িক অংশীদার আমরা দু’জনেই শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত SA8000 বিষয়ে বাংলাদেশী প্রশিক্ষক  হিসেবে প্রথম এখন অদ্যাবধি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছি। এর মধ্যে কোম্পানীও বড় হয়েছে। GSCS এখন Global Group, UK এর পাশাপাশি আরো একটি কোম্পানী, CERES GmbH, Germany এর সাথেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ২০১১ সালে। আমাদের কোম্পানী Organic Certification এর জন্য বাংলাদেশের অন্যতম। সামগ্রিকভাবে বিরল সম্মানের অধিকারী হয়েছি।

ব্যবসার ৭ বছরে, আমি নিজের, পরিবার পরিজনসহ সমাজের সকল চাহিদা সৎ পন্থায় পুরণ করতে সক্ষম হয়েছি। শুধু অর্থ উপার্জন নয় পেয়েছি সামাজিক সম্মান যার পরিমাণ আমার চাওয়ার থেকে অনেক গুন বেশী। পরিবারের সমর্থন আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বহুগুণ। কত ঈদ আকাশে (এয়ার বাসে) কেটেছে, কত জন্মদিন বিদেশে থাকা অবস্থায় পার হয়েছে, কত জাতীয় উৎসব পরিবার থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে কাটিয়েছি! কিন্তু আমার সহধর্মীনির কোন অভিযোগ ছিল না। অন্য আরেকজন এর অবদান উল্লেখ করা জরুরী তিনি হলেন আমার মা, যিনি সুদূর চরাঞ্চলে থেকেও আমার জন্য সবসময় দোয়া করে গেছেন।

বৈধ ভাবে উপার্জন করতে চেয়েছি। সৃষ্টিকর্তা সেই সামর্থ দিয়েছেন।  কিন্তু আমার মনে বৃহৎ সম্পদ কিংবা অর্থের মালিক হওয়ার কোন ইচ্ছা কখনোই ছিলনা বা তা হওয়ার জন্য কোন উদ্দেশ্যও ছিলনা। স্বপ্ন দেখি সামর্থের সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করে সমাজের জন্য কিছু করতে, আমার দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে যা আমার পেশার মৌলিক উদ্দেশ্য। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার আর কোন বিশেষ চাওয়া নেই। আমি এখনও কহেল পাইনার ছেলে হিসেবেই নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। শুধু এটুকুই প্রত্যাশা যেন বাকি জীবনটা এভাবেই পার হয়ে যায়। শুধু আফসোস একটাই! যাদের অনুপ্রেরণা (আমার শিক্ষাগুরু এবং বাবা) আমাকে উদ্যমী করেছে, তাদেরকে আমার সফলতার প্রাপ্তিগুলো দেখাতে পারলাম না।

সবশেষে বলতে চাই, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বাবার কাড়ি কাড়ি টাকা থাকার দরকার নেই। শুধুমাত্র দরকার সৎ উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা। যৌথ ব্যবসায় সফলতা পাওয়ার জন্য দরকার ব্যবসায়িক অংশীদারদের প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাস। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

লেখকঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সি.ই.ও

গ্লোবাল সাস্টেইনেবল সার্টিফিকেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (GSCS Ltd)

15 Comments

  1. I am indeed happy to read this beautifully articulated article. It’s very heart touching, inspiring and a good read! I believe, one can understand him by merely going through it- such an honest biography! Everyone will love and respect a person who does not boast around even after reaching to the peak of success. He is humble enough to mention all the people’s support, all through his journey. I feel myself blessed to come in close association with him. I have known him as: 1. A professional who follows all procedures but still offers a smiling and friendly gesture, which in this business is seen- other way round). 2. Who treats people with respect, e.g. his team. It’s not only the yearly fun-trips but many others for which they are with him for all these years, happily. 3. A great family man, if you see him in fb you will notice how obsessed he is with his son, you just read his wife’s love which has to be reciprocal! To me- in one sentence: Motaleb bhai is a complete package of success! Because I believe- “Success is not the destination, it’s the entire journey”.

    • Dear Millat bhai,

      I am petty much sure you are the person who real whole article which is great honor for me. Thanks a lot for your precise comments on me. Please pray for me to keep continue the same

  2. Amazing auto biography. A lesson for all that location, background is a hardle but not necessarily a stumbling block for growth in life. Dedication and devotion can help reach a man to the pinnacle of his dream. Leaving behind a foot print for others to get inspired is a rare culture in our context which has been done in this case. My heartfelt thanks and gratitude for putting it down for others to read and get inspired. May ALLAH (SWT) bestow his choicest blessing for your further growth and continued support to the future professionals in this main stream. All the best.

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*